Bnanews24.com
Home » মেধা-মননে, সংগ্রামে সেরা, দেশের বৃহৎ বিদ্যাপীঠ চবি’র ৫৬  বছর
টপ নিউজ প্রবন্ধ শিক্ষা

মেধা-মননে, সংগ্রামে সেরা, দেশের বৃহৎ বিদ্যাপীঠ চবি’র ৫৬  বছর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

।।নাজমুস সায়াদাত, চবি।।

মেঘের সাথে মিতালি করে দাড়িয়ে থাকা সুউচ্চ পাহাড়ের  মাঝ দিয়ে বিস্তৃত পিচঢালা পথ। সবুজ বৃক্ষসারির উপরে উড়ে চলা বিচিত্র রঙের হরেক রকম পাখি, সদ্য ঘুম ভাঙ্গা পাহাড়ি হরিণ ছানার ভয়ার্থ মায়াবী মুখ আর  ঝর্ণা- গিরিপথের শীতল পানির ছোয়া, কি নেই এ ক্যাম্পাসে! এ যেন প্রকৃতির কোলে গড়ে উঠা অপরূপ এক নৈস্বর্গ। প্রকৃতির পাশাপাশি আলোকিত মানুষ গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয় এক উর্বর ভূমি।

গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা,  সংস্কৃতি চর্চা এবং গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন আন্দোলন -সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। ভৌত বিজ্ঞানী ড. জামাল নজরুল ইসলাম,
নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস থেকে শুরু করে অনেক গুনী মানুষ বেড়ে উঠেছেন এ বিদ্যাপীঠে। তাইতো শুধু প্রকৃতি নয় মেধা- মননে, সংগ্রামেও সেরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত দেশের  দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এ বিদ্যাপীঠ পার করেছে ৫৫ টি বসন্ত, কাল ৫৬ তে পা দিবে শাটলের এ ক্যাম্পাস।

মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিলেন যারা

যেভাবে শুরু:

গত শতাব্দীর শুরুতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে কোন বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় বিশিষ্টজনরা এ অঞ্চলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করে। সেখান থেকে পরে ১৯৪২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি উত্থাপন করেন।

পরবর্তীতে ষাটের দশকে তৎকালীন পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬০-১৯৬৫) প্রণয়নকালে চট্টগ্রামে একটি ‘বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মানের স্থান হিসেবে শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত চট্টগ্রাম সরকারি কলেজকে সম্ভাব্য ক্যাম্পাস হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
১৯৬২ সালে, তৎকালিন পূর্ব-পাকিস্তানের জনশিক্ষা উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদাউস খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি প্রাথমিক খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করেন। একই বছর, ১৯৬২ সালের নির্বাচনী প্রচারনায় ফজলুল কাদের চৌধুরী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাধারণ প্রতিশ্রুতি দেন। এবং নির্বাচন পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত ও চূড়ান্ত অনুমোদন

১৯৬৩ সালের নভেম্বরে ফজলুল কাদের চৌধুরী পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার মনোনীত হন। প্রথমদিকে এ বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, কুমিল্লা ও নোয়াখালিতে স্থাপনের পরিকল্পনা করা হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের অনুপস্থিতিতে মন্ত্রীসভার এক বৈঠকে সভাপতিত্বকালে(ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে) ফজলুল কাদের চৌধুরী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এ.টি.এম মোস্তফাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। ১৯৬৪ সালে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করা হয়। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর এম ওসমান গণিকে চেয়ারম্যান এবং ডক্টর কুদরাত-এ-খুদা, ডক্টর মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এম ফেরদৌস খান ও ডক্টর মফিজউদ্দীন আহমদকে সদস্য নির্বাচিন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’ গঠিত হয়। এই কমিশন সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে হাটহাজারী উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের জঙ্গল পশ্চিম-পট্টি মৌজার নির্জন পাহাড়ি ভূমিকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হিসেবে সুপারিশ করে। ১৯৬৪ সালে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ফজলুল কাদের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইসলামাবাদে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় ‘স্থান নির্বাচন কমিশন’-এর সুপারিশের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হয়। পরে সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৯৬৬সালের ১৮ই নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পথচলা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে

উদ্বোধন ঘোষণা
১৮ নভেম্বর  বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন ঘোষণা করা হলেও ক্লাস শুরু হয় ২৮ তারিখ।  ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস ও অর্থনীতি- মাত্র এই চারটি বিভাগ,  ৭ জন শিক্ষক এবং ২০০ জন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান প্রফেসর ড. আজিজুর রহমান (এ আর) মল্লিক। এ ছাড়াও বিভাগীয় সভাপতি পদে নিযুক্ত হন আবুল কালাম মঞ্জুর মোরশেদ (বাংলা), প্রফেসর মোহাম্মদ আলী (ইংরেজি), প্রফেসর ড. আবদুল করিম (ইতিহাস) এবং এস. এ. আতাহার (অর্থনীতি)। অক্টোবর মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রার ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান নিযুক্তির কাজ সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়:

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সহ দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।  মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছিল সক্রিয় অংশগ্রহণ।

১৯৭১ সালে, মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. আজিজুর রহমান মল্লিকের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। ২৪ মার্চ, স্বাধীনতা সংগ্রামের সমর্থনে প্রাক্তণ ছাত্র সমিতির আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজন করা হয় গণসঙ্গীত। ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দখল করে, এবং টানা নয় মাস তাদের ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করে। পাকিস্তানি সেনারা এখানে তাদের কনসেনট্রেশন ক্যাম্প বানিয়েছিল। পরবর্তীতে যুদ্ধের শেষে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাফর ইমামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান চালায় এবং ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের নয়দিন পর ২৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পাক সেনা মুক্ত হয়।

মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিলেন যারা

মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিলেন যারা

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, বারোজন শিক্ষার্থী ও তিন জন কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন: ১. প্রকৌশল দপ্তরের চেইনম্যান বীর প্রতীক মোহাম্মদ হোসেন , ২. দর্শন বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক অবনী মোহন দত্ত, ৩.চাকসুর সাধারণ সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আবদুর রব, ৪. উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রভাস কুমার বড়ুয়া , ৫ . বাংলা বিভাগের ছাত্র মনিরুল ইসলাম খোকা, ৬ . মোহাম্মদ হোসেন ,৭. মোস্তফা কামাল ,৮ . অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র নাজিম উদ্দিন খান ,৯ . আবদুল মান্নান , ১০. ইতিহাস বিভাগের ছাত্র ফরহাদ উদ-দৌলা , ১১ .ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ছাত্র খন্দকার এহসানুল হক আনসারি,১২. ইংরেজি বিভাগের ছাত্র আশুতোষ চক্রবর্তী , ১৩. সমাজতত্ত্ব বিভাগের ছাত্র ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ, ১৪ . রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আবুল মনসুর, ১৫. গণিত বিভাগের ছাত্র ভুবন এবং ১৬ .আলাওল হলের প্রহরী ছৈয়দ আহমদ ।

মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তরের কর্মচারী মোহাম্মদ হোসেনকে বীরপ্রতীক খেতাব দেয়া হয়। তিনি গণবাহিনী (সেক্টর-১)-এর অধিনে নৌ-কমান্ডো হিসাবে যুদ্ধে অংশ নিয়ে ছিলেন।

এ ক্যাম্পাসের উজ্বল নক্ষত্র যারা:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে যারা সমৃদ্ধ করেছেন তাঁরা হলেন: উপমহাদেশের খ্যাতিমান ভৌত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলাম, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সমাজ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন, অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, শিক্ষাবিদ আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ, চিত্রশিল্পী রশিদ চৌধুরী, কলামিস্ট আবুল মোমেন,  অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান, অপরাজেয় বাংলার স্থপতি ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ,  সমাজবিজ্ঞানী  আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অধ্যাপক আবুল ফজল, আলাউদ্দিন আল আজাদ,  মুর্তজা বশীর, ঢালী আল মামুন, সাবেক ইউজিসির চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মান্নানসহ আরো অনেকে।

শিক্ষা ও গবেষণায়ও বেশ এগিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষক -শিক্ষার্থীরা নানামুখী গবেষণার মাধ্যমে আধুনিক বিশ্ব বিনির্মানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মো. শাহাদাত হোসেন দুটি নতুন মাছের প্রজাতি আবিষ্কার ও শনাক্ত করেছেন, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী রক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য আরেক শিক্ষক মনজুরুল কিবরিয়া পেয়েছেন দেশি-বিদেশি নানা সম্মাননা, ড. শেখ আফতাব উদ্দিন কম খরচে সমুদ্রের পানি সুপেয় করার পদ্ধতি আবিষ্কার, ড. আল আমিনের লেখা বই যুক্তরাষ্ট্রের ৬টি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের রেফারেন্স বুক হিসেবে নির্বাচন, অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান চৌধুরী বঙ্গোপসাগর নিয়ে মানচিত্র তৈরি করেন।  ব্যাঙের নতুন প্রজাতি আবিষ্কার করে সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক ছাত্র সাজিদ আলী হাওলাদার, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র শাখাওয়াত হোসেন ও তার দলের নাম ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে।

দেশের সাংস্কৃতিক, নাট্য এবং সংগীতাঙ্গনেও পিছিয়ে নেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দেশের সংগীতাঙ্গনের পুরোধাদের অধিকাংশই এ ক্যাম্পাসের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা। সোলসের পার্থ বডুয়া, রেঁনেসা ব্যান্ডের নকীব খান, বাপ্পা মজুমদার, এস আই টুটুল এবং নাট্যকার হাসান মাসুদ, সোহেল খান, নাট্য অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তি কর, চিত্রলেখা গুহ সবাই ছিলেন এ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থী ।

দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই অনেক শিক্ষার্থী। বর্তমান বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রী , বাংলাদেশ ব্যাংক গর্ভনর, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, চাঁদপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চবির সাবেক শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
 শিক্ষার্থীদের কয়াম্পাস যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হলো শাটল ট্রেন

পড়ার চেয়ে চড়া বেশি!

বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাসা বা মেসে থাকেন। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হলো শাটল ট্রেন। কিন্তু যাতায়াতের জন্য মাত্র দুটি শাটল থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি কিন্তু শাটলের সংখ্যা কম হওয়ায় যাতায়াত যেমন কষ্টসাধ্য তেমনি সময় সাপেক্ষ। শিক্ষার্থীদের জীবন হয়ে পড়ে শাটল কেন্দ্রিক। সকালের ঘুম থেকে ওঠা,  বিকেলে ক্যাম্পাস থেকে ফেরা সবকিছুই হয় শাটল সূচী অনুযায়ী।  অনেক সময় দেখা যায় এক ঘন্টার একটা ক্লাস করতে ৪ ঘন্টা সময় যায় যাতায়াতে। এ যেন পড়ার চেয়ে চড়া বেশি!। বিশ্ববিদ্যালয় – শহর রুটে কিছু বাস চললেও তা অপ্রতুল এবং ব্যয়বহুল। যেহেতু শাটলই যাতয়াতের অন্যতম বাহন তাই কিছু অসুবিধা থাকা স্বত্বেও এই শাটল নিয়ে আবেগের কমতি নেই শিক্ষার্থীদের।  এই শাটলেই তো জন্ম হয় কত-শত প্রেম, কাব্য, কবিতার……

৫৬ বছরে এসে চারটি বিভাগের স্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৯ টি অনুষদের অধীনে ৫৫টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট এবং ৫টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে।  শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ২৮ হাজার। শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা ও পাঠদানের জন্য রয়েছে ৯ শতেরও অধিক  শিক্ষক। শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর শিক্ষার্থীদের হাজারো স্বপ্ন নিয়ে পাহাড় আর সমতলের মিশ্রণে গড়ে উঠা এ বিদ্যামন্দির এগিয়ে যাক অনেক অনেক দূর…….

লেখক: বিএনএ চবি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি