Bnanews24.com
Home » ১১ দফা দাবি: হল গেটের তালা ভেঙে খুবি ছাত্রীদের বিক্ষোভ
কভার জনদুর্ভোগ শিক্ষা সব খবর

১১ দফা দাবি: হল গেটের তালা ভেঙে খুবি ছাত্রীদের বিক্ষোভ

১২ দফা দাবি: হল গেটের তালা ভেঙ্গে খুবি ছাত্রীদের বিক্ষোভ

বিএনএ ডেস্ক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে রান্নার সরঞ্জাম নিষিদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের শোকজের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন হলের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) রাত ১১ টার দিকে অপরাজিতা হল গেটের তালা ভেঙে হলের সামনের সড়কে অবস্থান নেন ছাত্রীরা। পরে অপরাজিতা হলের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে একাত্মতা প্রকাশ করে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও বিভিন্ন হলের ছেলেরা। এসময়ে দাবি মানতে স্লোগান দিতে থাকেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে অপরাজিতা হলে ঘটে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। টয়লেটে গিয়ে এক শিক্ষার্থী গলায় বটি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। হল প্রশাসন এ ঘটনা জানার পর সন্ধ্যায় অপরাজিতা হলে ছাত্রীদের ব্যবহৃত দা,বটি, চাকু, ছুরি, রাইচ কুকারসহ রান্নার যাবতীয় সামগ্রী নিষিদ্ধ করে। পরে ছাত্রীদের রুমে রুমে গিয়ে এসব রান্নার সরঞ্জাম জব্দ করে হল প্রশাসন। পাশাপাশি ছাত্রীদের বাধ্যতামূলক ডাইনিংয়ের খাবার গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়। যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রীরা।

অপরাজিতা হলের শিক্ষার্থীরা জানান, হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান খুবই জঘন্য। ডায়নিংয়ের খাবার টানা খেলে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাবারের মান আরও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। যার ফলে হলের খাবার খেয়ে জীবনধারণ করা অনেকের জন্য কষ্টকর হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেকের আর্থিক সংকটও আছে। একবেলা সামান্য কিছু রান্না করে সেই খাবার দিয়ে পুরো দিন চলে যায় অনেক শিক্ষার্থীর। সেখানে বাড়তি টাকা দিয়ে নিম্নমানের খাবার খাওয়া অনেকের পক্ষে কষ্টকর। হলের খাবার খেয়ে পরীক্ষার সময় অনেকে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটে বলে জানান বিক্ষোভকারীরা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, এই কঠিন পরিস্থির মধ্যে রাইচ কুকার নিষিদ্ধ করা হলো। রান্নার সকল জিনিসপত্র নিষিদ্ধ করা হলো। তাহলে শিক্ষার্থীরা এখন যাবে কোথায়? প্রশাসনের এই অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হলে ফিরবেন না বলে ঘোষণা দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, শুধু রান্নার সরঞ্জাম নিষিদ্ধ বা জব্দের বিষয় নয়। বিভিন্ন সময় হল প্রভোস্টদের বাজে আচরণ, অকারণে নোটিশ দেয়া, সেই নোটিশ অভিভাবকদের কাছে পাঠানো, কথায় কথায় ছিট বাতিলের হুমকীদেয়াসহ নানা ইস্যুতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, কিছুদিন আগে ফেসবুকে কমেন্ট করায় এক ছাত্রীকে ৪৫ মিনিট ধরে ধমকানো ও শাসানো হয়। বিভিন্ন সমস্যার কথা হল প্রশাসকে জানালে সমাধান না করে উল্টো ছাত্রীদের ধমকান তারা।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. শরীফ হাসান লিমন বলেন, মঙ্গলবার যেহেতু একটি অনভিপ্রেত ঘটনা (আত্মহত্যার চেষ্টা) ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে হল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু তিনি হয়তো পাবলিক সেন্টিমেন্ট বুঝতে পারেননি। প্রভোস্ট হলে আসলে আশা করি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বিএনএ/এ আর