ধামরাইয়ে পুকুর দখল মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

বিএনএ (সাভার) ঢাকা: ঢাকার ধামরাইয়ে আদর্শ গ্রামের (সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র) তিনটি পুকুর অবৈধ ভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। এঘটনায় পুকুর তিনটি দখল মুক্ত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বাস্তা ৩নং আদর্শ গ্রামের সকল বাসিন্দারা।

আরো পড়ুন

শুক্রবার (১৬ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা বাজার সংলগ্ন বংশাই নদীর ব্রীজের উপর এ মানববন্ধন করেন গ্রামের বাসিন্দারা। অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের আমছিমুর নয়াপাড়া এলাকার মৃত মো. খালেক ছেলে মো. দাউদ (৫০), মৃত রাইজুদ্দীন ছেলে মাঠু (৪৭) ও আব্দুর রশিদ (৫০), মৃত চান মিয়ার ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০)।

মানববন্ধনে উত্তর বাস্তা ৩নং আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা ১৫/২০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। সরকার এই আদর্শ গ্রাম তৈরি করার সময় তিনটি পুকুর কেটে সেই মাটি দিয়ে ভরাট করে  আদর্শ গ্রামের ঘর তৈরি করেন। প্রথম থেকেই পুকুর তিনটি আমাদের ভোগ করার কথা থাকলেও তা স্থানীয়  লোকজন ভোগদখলে আছে। এমনকি তারা আমাদের ওই একটি পুকুরেও নামতে দেয় না। গোসল করতে গেলে তারা আমাদের বাঁধা দেয়। এমন কি আমাদের গৃহপালিত হাঁসও পুকুরে নামতে পারে না তাড়িয়ে দেয় তারা।

তিনি আরো বলেন, পুকুর তিনটি দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করে আমাদের মসজিদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হোক। আমরা যেন পুকুর গুলো ব্যবহার করতে পারি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার পরিবারসহ আমাকে আমার ভাতিজা সাগর উদ্দিনকে (৩০) বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। একারণে আমি আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য থানায় একটি জিডি করেছি।

অভিযুক্ত মো.  দাউদ জানান, এই পুকুরের অর্ধেক জমি আমাদের নামে রেকর্ড করা। আমরাই পুকুর  খাইতেছি। কয় বছর ধরে ওই জমিতে আপনারা ভোগদখলে আছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০ বছর ধরে আমরা ভোগদখলে আছি। যেদিন থেকে আদর্শ গ্রাম হইছে সেদিন থেকেই আমরা ভোগদখলে আছি।

এ বিষয়ে কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুজিবুর রহমান বলেন, আদর্শ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন নামে একজন অভিযোগ করেছিল তাকে স্থানীয় কয়েকজন ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। অভিযোগ পাওয়ার পরে আমি দুই পক্ষের সাথেই কথা বলি। তারা বলছিলো যে আমরা এই বিষয়টি নিজেরাই বসে মিটিয়ে ফেলবো। এরপর আমাকে আর কেউ কিছু বলেনি।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি মাত্র। যতটুকু জেনেছি আশ্রয় কেন্দ্রের পুকুর তিনটি মসজিদের নামে বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। পুকুর মসজিদের নামে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এটি আশ্রয় কেন্দ্রের লোকজন ব্যবহার করবে। তবে অবৈধ দখল থাকলে তা দখলমুক্ত করে আশ্রয় কেন্দ্রে বুঝিয়ে দেয়া হবে।

বিএনএনিউজ/ইমরান,মনির