Bnanews24.com
অর্থ-বাণিজ্য কভার চট্টগ্রাম পোর্ট ও শিপিং বিশেষ সংবাদ সব খবর

ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে নেই কন্টেইনার জট

ঈদের ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে নেই কন্টেইনার জট

।।মনির ফয়সাল।।

প্রতি বছর ঈদ আসলেই কন্টেইনার জট নিয়ে দুর্ভাবনায় পড়েন চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে অনেকটা শূন্যের কোটায় নেমে আসে ডেলিভারি। এছাড়া গত বছর ঈদের ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি। মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি। এর ফলে অনেকটা অচল হয়ে পড়েছিল বন্দর। কিন্তু এ বছর দেখা গিয়েছে ভিন্ন চিত্র।

চলমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ও ঈদের ছুটির কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার ও জাহাজ জটের আশঙ্কা করা হলেও এবার কোনো ধরনের জট লাগেনি। বন্দর ইয়ার্ডে কন্টেইনার রয়েছে স্বাভাবিক সময়ের মতো। বহির্নোঙরে পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যাও খুব বেশি নেই। পণ্য উঠানামা ও ডেলিভারিও চলছে নিয়মিত।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, বন্দরের সবগুলো ইয়ার্ড মিলে কন্টেইনারের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউস। এর বিপরীতে গত বছর ১৬ মে বন্দরে কন্টেইনারের পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৫৬০ টিইইউস। আর চলতি বছর ১৬ মে কন্টেইনার পরিমাণ হচ্ছে ৪০ হাজার ৪০৪ টিইইউস।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর এই সময়ে বন্দরে নজিরবিহীন অচলাবস্থা থাকলেও এবার বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কৌশল ও সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণে করোনা পরিস্থিতি ও ঈদে অপারেশনাল কার্যক্রম থেকে শুরু করে সবকিছু ছিল স্বাভাবিক।

গত ১৩ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঈদের ছুটির প্রথম দিন ১৩ মে তে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৮ হাজার ৬৪৪ টিইইউস। তারমধ্যে ৪ হাজার ৩৬৮ টিইইউস আমদানি এবং ৪ হাজার ২৭৬ টিইইউস রপ্তানি কন্টেইনার ছিল। ঈদের দিন ১৪ মে ৩ হাজার ৩১৩ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এরমধ্যে তারমধ্যে ১ হাজার ৭২০ টিইইউস আমদানি এবং ১ হাজার ৫৯৩ টিইইউস রপ্তানি কন্টেইনার ছিল। ঈদের পরের দিন ১৫ মে ১ হাজার ৬০ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে; যা সবগুলোই রপ্তানি কন্টেইনার। ওইদিন কোন আমদানি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়নি। এছাড়া ঈদের ছুটির পর ১৬ মে প্রথম কার্যদিবসে বেড়েছে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর পরিমাণ। ওইদিন ৯ হাজার ৮২৩ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এরমধ্যে ৫ হাজার ৮১৮ টিইইউস আমদানি এবং ৪ হাজার ৫ টিইইউস রপ্তানি কন্টেইনার ছিল।

এবার সরকার লকডাউনের মধ্যেও পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি ছিল পুরোপুরি স্বাভাবিক।  ঈদে করোনা সংক্রমণ মোকাবিলার অংশ হিসেবে যাত্রীবাহী গাড়ি চলাকালে বিভিন্ন্ বিধিনিষেধ থাকলেও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করছে নির্বিঘ্নভাবে। বন্দর থেকে কন্টেইনার ডেলিভারি স্বাভাবিক থাকার পেছনে এটাও অন্যতম কারণ।

একই সময়ে কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে, ১৩ মে ৩ হাজার ৬৫০ টিইইউস, ১৪ মে ৪৮১ টিইইউস, ১৫ মে কোন ডেলিভারি হয়নি এবং ১৬ মে ৭২১ টিইইউস কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে।

এছাড়া ওইদিন গুলোতে কাজ করা এবং অপেক্ষামান জাহাজের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৩ মে কাজ করেছে ৪৭টি জাহাজ ও অপেক্ষারত (নট ওয়ার্কিং) ছিল ৩১টি জাহাজ। ১৪ মে কাজ করেছে ৪২ ও অপেক্ষারত ৩৩, ১৫ মে কাজ করেছে ৩২ ও অপেক্ষারত ৫২ এবং ১৬ মে কাজ করেছে ৪৭ টি জাহাজ ও অপেক্ষারত ছিল ৩৫টি জাহাজ।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতেও চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। শুধুমাত্র ঈদের দিন শুক্রবার (১৪ মে) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের ডেলিভারিসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। একইভাবে চালু ছিল ১৯টি বেসরকারি ডিপোও। এছাড়া ঈদের ছুটিতে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বন্দরের নিরাপত্তা শাখা প্রতিটি কন্টেইনারে পর্যাপ্ত লক সিস্টেম নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য বন্দরের অভ্যন্তরে থাকা ওয়ান স্টপ সার্ভিসে অবস্থিত ব্যাংকের বুথসমূহ খোলা ছিল। ঈদের ছুটির মধ্যে থাকা সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও বন্দরের অপারেশনাল কাজ চালু ছিল।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, কেবল নামাজের বিরতির জন্য ঈদের দিন ৮ ঘণ্টা কাজ বন্ধ ছিল। বাকি সময় পুরোদমে অপারেশনাল এবং খালাসের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।

ঈদে কন্টেইনার জট না থাকার বিষয়ে সচিব বলেন, এবার করোনা পরিস্থিতি ও ঈদের মৌসুমে আমরা অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি। বন্দরে যাতে কন্টেইনার জট সৃষ্টি না হয় সে জন্য আমরা শুরু থেকেই স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বসে করণীয় বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেছি। কন্টেইনার ডেলিভারিতে গতিশীলতা ধরে রাখতে আমরা চার দিনের মধ্যে কন্টেইনার ডেলিভারি না নিলে পেনাল রেন্ট আরোপের সিদ্ধান্তের কথা আমদানিকারকদের জানিয়ে দিয়েছি। এর ফলে আমদানিকারকরাও যথাসময়ে পণ্য ডেলিভারি নেওয়ার ব্যাপারে সজাগ ছিলেন।

বিএনএনিউজ/