ফেরিতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই

বিএনএ মানিকগঞ্জ: করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই রাজধানীর পথে রওনা হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ঢাকাসহ আশপাশের পোশাক কারখানাগুলোতে যোগ দিতে ঈদের পরদিন থেকেই পাটুরিয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় ফিরছেন হাজারো শ্রমিক। ফিরছেন অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি অফিসে কাজ করা লোকজনও। এর ফলে মানুষের চাপ বেড়েছে ফেরিঘাটে।

আরো পড়ুন

নেইমার ফিরলেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে

১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে…

সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার (১৭ মে) সকাল দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া ঘাটে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিতেই যাত্রী ও যানবাহনের ভিড়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক কারখানায় তিন দিনের বেশি ছুটি না দিতে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কিছু কিছু কারখানায় ছুটি বাড়ানো হয়। ছুটির পর হাজারো শ্রমিক করোনার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান। ঈদ শেষে একই ঝুঁকি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তারা। গত দুই দিনের মতো আজও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঢাকামুখী শ্রমজীবী মানুষের ঢল রয়েছে।

পাটুরিয়া ঘাট পার হয়েই ঢাকাগামী যাত্রীরা সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, পিকআপ, হাইয়েজ, রিকশাভ্যান ও পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। সরকারি নির্দেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে এসব যানবাহন যোগে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে তাদের।

ফরিদপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া পোশাককর্মী রফিকুল জানান, অফিস খোলায় আমরা ঢাকা যাচ্ছি। অনুপস্থিত থাকলে চাকরি থাকবে না। তাই বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে। পেটের ক্ষুধার কাছে করোনাভাইরাস কিছুই না। জীবনের ঝুঁকি থাকলেও আমাকে কর্মস্থলে যেতে হবে।

এ দিকে সড়ক-মহাসড়কে দূরপাল্লার বাস চলাচল না করায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। জেলার অভ্যন্তরীণ গণপরিবহন, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল যোগে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ভেঙে ভেঙে যেতে হচ্ছে কর্মস্থলে।

পরিবহন সংকটের কারণে উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছে সাধারণ যাত্রীরা। একই অবস্থা ঢাকামুখী প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চালকদের।

বিআইডব্লিউটিসি’র আরিচা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফেরি চলাচল করছে। ছুটি শেষে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও পারাপারে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

বিএনএনিউজ২৪/এমএইচ