Bnanews24.com
Home » লেভেল-প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতে আইনি সংস্কার প্রয়োজন: টিআইবি
জাতীয় টপ নিউজ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশ সব খবর

লেভেল-প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতে আইনি সংস্কার প্রয়োজন: টিআইবি

আইনি সংস্কার প্রয়োজন

বিএনএ ডেস্ক: মন্ত্রী-এমপিরা পদত্যাগ না করে নির্বাচন করার কারণে অন্য প্রার্থীদের প্রতিযোগিতার সমান ক্ষেত্র নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এটা লেভেল-প্লেইং ফিল্ডের অন্তরায়। লেভেল-প্লেইং ফ্লিড নিশ্চিতে আইনি সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন : গণতান্ত্রিক সুশাসনের চ্যালেঞ্জ উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বড় চ্যালেঞ্জ। সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের আহ্বান জানান তিনি।

টিআইবি জানায়, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সুষ্ঠু, অবাধ প্রতিযোগিতার সুযোগ না সৃষ্টি করতে পারলে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ভোটবাক্স বা ইভিএমের ব্যবহারসহ সবকিছুই অর্থহীন হয়ে পড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের ভোট নিজে না দিতে পারা, ভোটারদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেয়া, ভোটকেন্দ্রে এবং ভোট গণনার সময় সব দলের প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রবন্ধে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণাসহ আচরণ বিধিসমূহ সরকারি দলের পক্ষ থেকে মেনে চলার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচনকে অর্থবহ ও জনগণের প্রতিনিধিত্বশীলতার ক্ষেত্রে কার্যকর করতে নির্বাচনী মনোনয়নকে দুর্নীতিমুক্ত করে তৃণমূল পর্যায়ের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই একমাত্র উপায় নয়। বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক চর্চা অনুযায়ী ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে যে ধরনের রূপরেখার আওতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তা অনুসরণের জন্য উল্লিখিত আইনি সংস্কার অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি। একইসঙ্গে নির্বাচন আয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সর্বশেষ দুটি জাতীয় নির্বাচনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের অত্যন্ত বিতর্কিত ভূমিকা মাঠ পর্যায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হওয়ার মূল কারণ ছিল। নির্বাচনকালে এই সংস্থাসমূহের বদলি ও পদায়নসহ সার্বিক কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে থাকতে হবে। অন্যদিকে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল অংশীজনের প্রতিবন্ধকতাবিহীন অংশগ্রহণ ও নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, প্রচার ও প্রকাশকে অবাধ ও মুক্ত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোরভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

ইভিএম বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত বিতর্কিত ও দৃশ্যত পূর্বনির্ধারিত উল্লেখ করে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ইভিএম ব্যবহারের রাজনৈতিক, কারিগরি ও আর্থিক লাভ-ক্ষতির বস্তুনিষ্ঠ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে। সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনএ/এ আর