Bnanews24.com
Home » মেসের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সব খবর

মেসের খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বিএনএ, জবি:  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আর সংকট যেনো দুটো পাশাপাশি শব্দ।প্রতিষ্ঠার ১৭তম বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়টির হয়নি তেমন অবকাঠামোগত উন্নয়ন।পুরোনো ঢাকায় জায়গা স্বল্পতার  কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস হচ্ছে কেরানীগঞ্জে।দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজের অগ্রগতিও তেমন চোখে পড়ার মত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের একমাত্র অনাবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবেই ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল উদ্বোধন হলে অনাবাসিক তকমা থেকে মুক্তি মিলে।একমাত্র হলে বর্তমানে প্রায় একহাজার দুইশ মত শিক্ষার্থী।যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আঠারো হাজার শিক্ষার্থীর হিসাবে সামান্য। এমতবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীরা থাকছেন মেসে।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি,বাড়িওয়ালাদের নজিরবিহীন ভাড়া বাড়ানো,নিরাপত্তাসহ অর্থনৈতিক দৈন্যতায় প্রতিনিয়ত পিষ্ট হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সম্প্রতি সময়ে বাজারে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্ব গতির ফলে এই সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।এইসব বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হয় বিএনএ প্রতিবেদকের।
বিশ্ববিদ্যালয়টির চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসাইন বলেন,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার পর থেকেই পুরোনো ঢাকার একটা মেসে থাকছি।করোনার আগে দুইটা টিউশন করিয়ে নিজের খরচ নিজেই বহন করতাম।করোনার সময়ে টিউশন গুলো বন্ধ হয়ে যায়।করোনার পরে যখন আবার সব কিছু স্বাভাবিক হতে শুরু করলো তখন ঢাকায় এসে আর টিউশন পাইনি।মেস ভাড়া খাওয়ার খরচ মিলিয়ে মাসে ৬-৭ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়।কৃষক বাবার পক্ষে এত টাকা বহন করে চলা সম্ভব নয়।এদিকে প্রতিনিয়ত সকল কিছুর দাম বাড়ছে।এভাবে চলতে থাকলে পড়াশোনা চালিয়ে নেয়া আরও কঠিন হয়ে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির মাস্টার্সে আরেক শিক্ষার্থী সামিয়া তাসনিন বলেন,আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সংকট বড় সমস্যা।একটা মাত্র হল হওয়াতে সবাই হলেও উঠতে পারিনি।গত পাঁচ বছর হলো মেসে থাকি।পড়াশোনার পাশাপাশি একটা টিউশন করে নিজের খরচ চালিয়ে নিচ্ছি।মেসে থেকে আসলে পড়াশোনা করা কঠিন।মেসের ভাড়া,বাজার করা,রান্না করা এসব বিষয় আমাদের উপর শারীরিক,মানসিক ও অর্থনৈতিক ভাবে প্রভাবে ফেলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছেন,লিমন তালুকদার। তিনি বলেন,দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও ঢাকা থাকার সুযোগের জন্য চাকুরীর বাজারে নিজেকে এগিয়ে রাখার কথা ভেবে আবাসিক সমস্যার কথা জেনেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি।এখন আবাসিক ছাড়াও নানান সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চলমান শিক্ষার্থীদের সমস্যা গুলো নিয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র কল্যাণের পরিচালক ও বাংলাদেশে অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোঃ আইনুল ইসলামের সাথে।
তিনি দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বমুখী দামের বিষয়ে বলেন,বৈশ্বিক ভাবে কিছুটা সংকট এখন দেখা যাচ্ছে।ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে।আমাদের আমদানি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করতে হবে।আমদানি নির্ভরতা যত বেশি বাড়লে সংকট তত বাড়বে।
তিনি আরও বলেন,আমাদের কৃষি এখনো অনেকটা ভালো আছে।আমাদের কৃষিতে মনোযোগ বাড়াতে হবে।রাশিয়া ও ইউক্রেনের সম্পর্ক স্থিতিশীল হলে বৈশ্বিক ভাবেই পুনরায় আবারও সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
শিক্ষার্থীদের সমস্যা বিষয়ে তিনি বলেন,আমাদের আবাসিক সমস্যাটা শুরু থেকেই।এটা চাইলেই সমাধান করা যাবে এমনটা বলা যাবে না। আমাদের সময় লাগবে।শিক্ষার্থীদের সমস্যা গুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।
বিএনএ/ সাহিদুল, ওজি