Bnanews24.com
Home » কম্পিউটার অপারেটর এখন ৪৬০ কোটি টাকার মালিক!
অপরাধ টপ নিউজ বাংলাদেশ সব খবর

কম্পিউটার অপারেটর এখন ৪৬০ কোটি টাকার মালিক!

কম্পিউটার অপারেটর এখন ৪৬০ কোটি টাকার মালিক!

বিএনএ ঢাকা: ১৩০ টাকা দৈনিক মজুরিতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন নুরুল ইসলাম। টেকনাফ বন্দরের সাবেকেএই চুক্তিভিত্তিক কর্ম বর্তমানে ৪৬০ কোটি টাকার মালিক । অবৈধ পণ্য খালাস আর ইয়াবা কারবারে জড়িত নুরুল অবশেষে র‍্যাবের জালে ধরা পড়েছে ।

এখন তিনি জাহাজ শিল্প ও বিনোদন ব্যবসায়ের বিনিয়োগকারী। কমপক্ষে ৪৬০ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদের খোঁজ পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আটক করেছে র‍্যাব।

এনিয়ে মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব জানায়, নুরুল ইসলাম টেকনাফ কেন্দ্রিক ইয়াবার ব্যবসা করতেন। আর নিজস্ব সিডিকেট বানিয়ে টেকনাফ বন্দরকেন্দ্রিক চোরাকারবার, অবৈধ পণ্য খালাস, শুল্ক ফাঁকি, জাহাজের আগমন-বহির্গমন, হুন্ডি ব্যবসাসহ নানা কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতেন।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে  নুরুল ইসলামকে (৪১) গ্রেফতার করা হয়। নুরুল ইসলাম ভোলা সদরের পশ্চিম কানাই নগরের মো. আব্দুল মোতালেবের ছেলে। সে সময় তার কাছ থেকে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট, মিয়ানমারের ৩ লাখ ৮০ হাজার মূল্যমানের মুদ্রা, ৪ হাজার ৪শ পিস ইয়াবা এবং নগদ ২ লাখ ১ হাজার ১৬০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার নুরুল ইসলাম তার অপরাধ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন তিনি ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে দৈনিক চুক্তিভিত্তিক ১৩০ টাকা হারে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি নেন। বন্দরে কর্মরত থাকার সময়ে নিজের আধিপত্যকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারি, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস, দালালি ইত্যাদির কৌশল শেখেন। সেইসঙ্গে দালালির বিভিন্ন সিন্ডিকেটে যুক্ত হন। পরে নিজেই সেই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নেন। আট বছর চাকরি করার পর ২০০৯ সালে ওই চাকরি ছেড়ে দেয় নুরুল। পরে ওই একই পদে নিজের পরিচিত একজনের নিয়োগ দিয়ে দালালি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রেখে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তিনি।

খন্দকার আল মঈন জানান, অপরাধে জড়িয়ে নুরুল ইসলাম ঢাকায় ৬টি বাড়ি, ১৩টি প্লট, ঢাকার বাইরে আরও ৩৭টি জমি, বাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ও বিনিয়োগ করেছেন। এই ধরনের সিন্ডিকেট বাণিজ্য করে যেই ফুলে-ফেঁপে উঠুক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

বিএনএনিউজ/আরকেসি