Bnanews24.com
জাতীয় টপ নিউজ সব খবর সাহিত্য-সংস্কৃতি

বাংলা ১৪২৮ সনের প্রথম দিন,পহেলা বৈশাখ  আজ

বাংলা ১৪২৮ সনের প্রথম দিন,পহেলা বৈশাখ আজ

।।আর করিম চৌধুরী।।

বিএনএ ডেস্ক: চির নতুনের ডাক দিয়ে আবারও এসেছে পহেলা বৈশাখ। শুরু হলো বাংলা ১৪২৮ সন। সুর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালি বরণ করে নিয়েছে নতুন বছরকে। অতীতের সকল দুঃখ, ভুল-ভ্রান্তি বিভেদ ভুলে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মেতে ওঠেছে বাংলাদেশের মানুষ। সেইসঙ্গে প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসেব নিয়ে বিদায় নিল ১৪২৭ সন। মঙ্গলবার সুর্যাস্তের মধ্য দিয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে গেল আরও অরেকটি বছর। আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুধু  ঋতুরাজ বসন্তকেই নয়, পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়েছে অনেকেই। আনন্দ-বেদনা, ঘাত-সংঘাত, করোনা মহামারি ও সামাজিক ক্ষেত্রে স্মৃতি হয়ে থাকবে বছরটি।

পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতীয় ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।আবহমান কাল থেকে এ অঞ্চলের বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী নিজেদের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করে আসছে। সুপ্রাচীনকাল থেকেই এই দিনটি বাঙালির জাতির কাছে চিরন্তন এবং সর্বজনীন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

বাংলা নতুন বছর মানেই সব অশুভ আর অসুন্দরকে পরাজিত করে শুভ ও সুন্দরের আহ্বান।মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে শস্যকর আদায়ের হিসাব রাখার জন্য বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়। শাহ ফতেহ উল্ল্যা এর উদ্ভাবক। সেই শস্যকর আদায়ের বর্ষপঞ্জী বাংলা সন এখন বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্য।

পহেলা বৈশাখকে প্রথম দিন ধরে বেশীরভাগ ব্যবসায়ী হালখাতার মহরত খুলে নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করেন।চতুর্দশ শতাব্দীতে বাংলার প্রথম স্বাধীন সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের আমলে হালখাতার ইতিহাস শুরু।

প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটাতে এখন গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জীর শরণাপন্ন হতে হলেও বাঙালির জীবন থেকে হারিয়ে যায়নি বাংলা বর্ষপঞ্জী অনুসরণ।

চাষাবাদ, ঋতু পরিক্রমা অনুসরণ, আচার অনুষ্ঠান, তিথি-পার্বন পালনের দিনক্ষণ নির্ধারণ-এমন নানা বাস্তব প্রয়োজনে বাংলা বর্ষপঞ্জিই অনুসরণ করে এদেশের গ্রামাঞ্চেলের মানুষ। তবে এসব দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে ছাপিয়ে উৎসবের আয়োজনে বাঙালির নিজস্ব বর্ষ বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়েছে।সংস্কার মতাদর্শের মতো সীমাবদ্ধতাগুলো অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আজ বাংলা ভাষাভাষী সব মানুষের হৃদয়াবেগ থেকে উৎসারিত এক অতুলনীয় সর্বজনীন মহোৎসবে পরিণত হয়েছে।

নতুন এই বছরটি সবার জন্য আনুক সৌভাগ্যের শুভ বার্তা, সবার জীবন ভরিয়ে তুলুক হাসি-আনন্দে। প্রতিটি গৃহে প্রবাহিত হোক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির অমিয়ধারা। দুঃখ, ক্লেশ ও ব্যর্থতার গ্লানির কালো মেঘ সরিয়ে সাফল্যের নতুন সুর্যের আলোয় উদ্ভাসিত হোক চারিদিক। নতুন বছরের শুভলগ্নে এই প্রত্যাশা থাকল। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।

বিএনএনিউজ