Bnanews24.com
Home » মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৫
বিশেষ সংবাদ

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৫

।।ইয়াসীন হীরা।।

মুনিরীয়া যু্ব তবলীগ কমিটি, বাংলাদেশ যে অলৌকিক কেরামত প্রচার করে থাকে তার অন্যতম হচ্ছে মুনিরুল উল্লাহ আহমদীর পিতা তফজ্জল আহমদ এর “গাউছুল আজম” উপাধি পাওয়া সংক্রান্ত। প্রত্যকটি পুস্তকে, ক্রোড়পত্রে এবং তাদের সম্মেলন, সেমিনার, কনফারেন্স মাহফিল এর নামে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে কমবেশী সব বক্তাই বারবার “গাউছুল আজম” বিষয়টি প্রচার করেছেন। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন হিটলারের তথ্যমন্ত্রী জোসেফ বোয়েবলস’র মিথ্যা, বানোয়াট কাহিনী প্রচারকে হার মানিয়েছে।

প্রসঙ্গত: অস্ট্রিয় মানসিক রোগ চিকিৎসক,মনঃসমীক্ষণ (Psychoanalysis) সিগমুন্ড ফ্রয়েড এর আপন ভাগিনা ছিল এডওয়ার্ড বার্নায়েজ। তিনি ১৮৯০ এর দিকে সে আমেরিকা পাড়ি জমায়। পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারে সে ছিল অসাধারণ। কিভাবে গণতান্ত্রিক সমাজে লোকদের ব্রেইন ওয়াশ করা যায়, ম্যানিপুলেট করা যায়– এসবই তিনি মার্কিন সরকারকে শিখাতেন। তিনি “প্রোপাগান্ডা’’ নামে একটি বই লেখেন। বইটিতে প্রোপাগান্ডার সকল কলাকৌশল লেখা রয়েছে। “প্রোপাগান্ডা শব্দটি তখন পজিটিভ শব্দ হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। যার বাংলা অর্থ “প্রচার”।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারেরর মন্ত্রী জোসেফ গোয়েলবস এমন মিথ্যা “প্রোপাগান্ডা” চালায় যার কারণে শব্দটি নেতিবাচক হিসাবে ব্যবহার হয়। অর্থ্যাৎ এর অর্থ হয়ে ওঠে “অপপ্রচার”।

গোয়েলবস মূলত ইহুদীদের প্রোপাগান্ডার স্টাইল দিয়েই ইহুদীদের দমাতে কাজ করেন। জোসেফ গোয়েলবস মতে একটি মিথ্যাকে তিনবার বললে সেটি সত্য হয়ে ওঠে। কিছু মানুষ বিশ্বাস করে। মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ এর ব্যানারে সংগঠনটির সভাপতি মুনিরউল্লাহ আহমদী ও মহাসচিব অধ্যাপক ফোরকান মিয়া এক্ষেত্রে জোসেফ গোয়েলবস’র সূত্রটি ব্যবহার করেছেন!

আল্লাহ দিয়েছেন গাউছুল আজম উপাধি !

বাংলাদেশ প্রকাশিত ‘আল হাবীবু মা’আল হাবিবে ফিল ইসরা’ নামের বিশেষ স্মরণিকার ১০৭ পৃস্টায় বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ’র পক্ষ থেকে কাগতিয়ার গাউছুল আজম দরবারের প্রতিষ্ঠাতা শায়খ তফজ্জল আহমদকে “গাউছুল আজম’’ উপাধি দেয়া হয়েছে। এটি প্রতিষ্ঠা করতে একটি কল্পকাহিনীর উপস্থাপন করা হয়েছে রাউজান উপজেলার কাগতিয়া কাসেম নগর গ্রামের জনৈক আহমদ উল্লাহ (পিতা মাহবুবুল আলম)এর বরাত দিয়ে। দুবাই প্রবাসী আহমদ উল্লাহ যে কোম্পানিতে চাকুরি করতেন সেই কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যায়। দেশে ফিরে আসেন।

আহমদ উল্লাহ ফের দুবাই যাওয়ার জন্য চেষ্টা তদবির করেছেন। গেছেন অনেক মাজারেও। কিন্ত কোন সুরাহা হয়নি। হঠাৎ একরাতে স্বপ্নে এক অদৃশ্য আওয়াজ শুনতে পেলেন। “কে যেন বলছেন, তুমি অনেক জায়গায় গিয়েছ, অথচ তোমার বাড়ির পার্শ্বে এতো বড় যে মহান অলী রয়েছেন তার দরবারে তো একবারও যাওনি। তুমি কাগতিয়ার মহান মোর্শেদ (র:) দরবারে তো একবারও যাওনি। তুমি কাগতিয়ার মহান মোর্শেদ (র:)’র কাছে গিয়ে ১০০ টাকা হাদিয়া স্বরূপ দিও এবং দেয়ার সময় ‘এয়া গাউছুল আজম’ সম্বোধন করে হুজুর কেবলার হাতে দিও এবং তোমার ভিসাসহ বিস্তারিত সমস্যার কথা বলে দোয়া চেয়ে নিও।

তখন আমি দেখছি হুজুর কেবলা সামনে উপস্থিত। একটি উন্নতমানের কুরসীতে (চেয়ার) হুজুর কেবলা বসা ছিলেন। আমি ‘এয়া গাউছুল আজম’ বলে সম্বোধন করে হুজুর কেবলার হাতে ১০০ (একশত) টাকা হাদিয়া স্বরূপ দিলাম এবং সমস্যার কথা বলে দোয়া চাইলাম। হুজুর কেবলা আমার হাদিয়া গ্রহণ করলেন এবং বললেন- আল্লাহ তোমাকে কামিয়াব করুক। এর পর আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলে সাথে সাথে আমার ছোট ভাই মৌলানা জামালকে আমার খা’বের কথা বললাম, সে বলল, আপনি হুজুর কেবলার দরবারে গিয়ে খা’বে যে রকম দেখেছেন সে রকম করুন।

পরদিন রবিবার দরবারে এসে আমি খা’বে যেভাবে দেখলাম যেভাবে ‘এয়া গাউছুল আজম’’ বলে হাদিয়া দিলাম। অতপর হুজুর কেবলা বললেন, আল্লাহ তোমাকে কাবিয়াব করুন। এর তিন দিন পর আমার ভিসা হয়ে যায়’’!

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাউস শব্দটি আরবী, এর অর্থ হলো- সাহায্যকারী ও ফরিয়াদ শ্রবণকারী।আজম শব্দটিও আরবী, এর অর্থ হলো- বড় বা মহান। তাহলে গাউসুল আজম এর অর্থ দাঁড়ায়- বড় বা মহা সাহায্যকারী। সাধারণ ভাবে যদি প্রশ্ন করা হয়, বড় বা মহাসাহায্যকারী কে? নিঃসন্দেহ উত্তর হবে- একমাত্র আল্লাহ।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন- সাহায্য একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়, (সূরা আলে ইমরান- ১২৬)। বান্দাগণ আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে সাময়িক সাহায্যকারী হতে পারে, (সূরা সাফ- ১৪) । কিন্তু মহা সাহায্যকারী নন। মহা সাহায্যকারী একমাত্র আল্লাহ। আল্লাহ না চাইলে কেউ কাউকে অনু পরিমান সাহায্যও করতে পারবে না। যেখানে প্রত্যেকটি মানুষ আল্লাহর সাহায্যের মুখাপেক্ষী, সেখানে একজন মানুষকে মহা সাহায্যকারী বলে ডাকা জায়েজ হয় কিভাবে? তফজ্জল আহমদ মুনিরী বড় সাহায্যকারী হবেন কিভাবে? তিনি নিজেও তো আল্লাহর সাহায্যের মুখাপেক্ষী। এভাবে মুনিরীয়া অনুসারিরা তাদের পীরকে গাউছুল আজম বা মহা সাহায্যকারি হিসাবে উল্লেখ করে প্রকারান্তে শিরিক করছেন। অন্যদিকে হাদিয়ার নামে সাধারণ মানুষ থেকে টাকা নিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছেন।

পড়ুন: আগের পর্ব :

মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৪
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-৩
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-২
মুনিরীয়ার ভণ্ডামি-০১