Bnanews24.com
জাতীয় টপ নিউজ সব খবর সাহিত্য-সংস্কৃতি

চৈত্র সংক্রন্তি আজ

চৈত্র সংক্রান্তি

আর করিম চৌধুরী

বিএনএ ডেস্ক: মহামারি করোনা ভাইরাসের ক্ষত নিয়ে আজ শেষ হচ্ছে ১৪২৭ বঙ্গাব্দ।আজ মঙ্গলবার(১৩ এপ্রিল)  চৈত্র সংক্রান্তি। সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহাকালের অতল গর্ভে হারিয়ে যাবে আরও একটি বাংলা বছর। সেইসঙ্গে বিদায়ী বছরের সমস্ত চাওয়া,পাওয়া, হতাশা ও অপ্রাপ্তির সাঙ্গ হবে। আগামিকাল নতুন বছর ১৪২৮ সনকে স্বাগত জানাবে বাঙালি।পাওয়া না পাওয়ার হিসেব কষে আজ বড় হয়ে উঠছে করোনার সংক্রমণ। প্রাণহানি বেড়ে যাওয়ায় ১৪২৭ বঙ্গাব্দের শেষ দিনে বাঙালি জীবনে নেমে এসেছে বিষাদ।

যদিও এই দিনটি বাঙালি সংস্কৃতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধারণ করে আছে চৈত্র সংক্রান্তি। চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদযাপনের বর্ণিল নানা আয়োজন সূচনা করা হয়েছিল।

বছরকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানোর রীতি এ অঞ্চলে আবহমান কাল থেকে চলে আসছে।বাংলা বছরের এই দিনটিকে পুণ্য দিন বলে মনে করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শাস্ত্র মেনে স্নান, দান ব্রত, উপবাসসহ নানা পুজো অর্চনার মধ্যদিয়ে এ দিনটি আতিবাহিত করছেন তারা। সূর্যের কৃপা প্রার্থনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কৃষককুল পুরো চৈত্রমাস জুড়েই পালন করে প্রার্থনা উৎসব। চৈত্রমাস জুড়েই সন্নাসীরা ভিক্ষান্নভোজন, উপবাস নানা নিয়ম পালন করে থাকেন। এদিন তারা শূলফোড়া, বাণফোঁড়া, বরশিগাথা, অবস্থায় ঝোলেন।

বাঙালির জীবনে  বিশেষভাবে চিহ্নিত এই দিনটিতে আগের পুরোনো সব জঞ্জাল পরিষ্কার করে শুচি-শুদ্ধ হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নতুন করে সাজিয়ে তোলেছেন ব্যবসায়ীরা। ধুপগন্ধে এবং নতুন রঙ-ঢঙয়ে শোভিত হয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।পুরোনো সব হিসাব চুকিয়ে নতুন হালখাতা খোলার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। নতুন বছরের প্রথম দিনে খোলা হবে হালখাতা। অবশ্য পার্বত্য জেলাগুলোতে এ উপলক্ষে কয়েকদিন আগে থেকেই নানা আয়োজন ও  প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে প্রতি বছর গ্রামাঞ্চলে লোকমেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় গান-বাজনা, যাত্রাপালাসহ নানা আয়োজনে উঠে আসে লোকজ সংস্কৃতির নানা সম্ভার।এসব মেলার সঙ্গে পৌরানিক ও লৌকিক দেবতার নাম সম্পৃক্ত।কিন্তু  মহামারি করোনার কারণে এবার চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই।

কারণ করোনার পরিস্থিতি দেশবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। বুধবার থেকে কার্যত লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। করোনায় প্রাণহানি, সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে উৎসব, অনুষ্ঠান সীমিত বা অনলাইন কেন্দ্রিক করা হচ্ছে। তাই চৈত্র সংক্রান্তিতে এবার আগের বছরগুলোর মতে উৎসব মুখর মেলা হচ্ছে না।

বিএনএ নিউজ