পুলিশ বাহিনীতে মাদক সেবীদের কোনো জায়গা নেই

পুলিশ বাহিনীতে মাদক সেবীদের কোনো জায়গা নেই

জাতীয় টপ নিউজ রাজধানী সব খবর

বিএনএ, ঢাকা : মাদক সেবীদের কোনো জায়গা পুলিশ বাহিনীতে হবে না বলে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। ডিসেম্বর ২০২০ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ভাল কাজের প্রেক্ষিতে পুরস্কৃত করা হয়।

সভায় উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু পাহারা দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাবেনা। বিভিন্ন অপরাধের সাথে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে, আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায় যা সমাজে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।

তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি তৎপর হতে হবে। মাদক শুধু উদ্ধার করলে হবে না, এর রুট পর্যন্ত যেতে হবে। প্রযুক্তিগত পদ্ধতি প্রয়োগের পাশাপাশি ম্যানুয়েল সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে বস্তিগুলো মাদকমুক্ত করতে হবে। মাদকসেবীদের চিহ্নিত করে তাদের মা-বাবা, অভিবাবকদের সাথে কথা বলতে হবে। তারা যেন সুপথে ফিরে আসতে পারে তার জন্য কাজ করতে হবে।

ডিসেম্বর ২০২০ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির ৮টি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে মিরপুর বিভাগ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগের সহকারি পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন মিরপুর বিভাগের মিরপুর জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার এমএম মঈনুল ইসলাম। অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) মধ্যে প্রথম হয়েছেন কদমতলী থানার জামাল উদ্দিন মীর। পুলিশ পরিদর্শকদের (তদন্ত) মধ্যে প্রথম হয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার মো. শাহীনুর রহমান। পুলিশ পরিদর্শকদের (অপারেশন) মধ্যে প্রথম হয়েছেন আদাবর থানার মো. ফারুক মোল্লা।

শ্রেষ্ঠ এসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন পল্লবী থানার মো. শরীফুল ইসলাম ও কোতয়ালী থানার পাভেল মিয়া। শ্রেষ্ঠ এএসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন ওয়ারী থানার মো. নুর ইসলাম ও মতিঝিল থানার হেলাল উদ্দিন।

৯টি গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের গুলশান জোনাল টিমের এডিসি মো. গোলাম সাকলায়েন। চোরাই গাড়ী উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন ডিবি লালবাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ীচুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মধুসূদন দাস। মাদকদ্রব্য উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের গুলশান জোনাল টিমের এডিসি মো. গোলাম সাকলায়েন। অজ্ঞান, মলমপার্টি সদস্য গ্রেপ্তার শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন ডিবি রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনাল টিমের এডিসি তরিকুর রহমান।

৮টি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হয়েছেন কোতয়ালী ট্রাফিক জোনের বিমান কুমার দাস। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হয়েছেন কোতয়ালী ট্রাফিক জোনের কাজী আমিনুল ইসলাম। যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট হয়েছেন শাহবাগ ট্রাফিক জোন সার্জেন্ট মো. রোকনুজ্জামান ও মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট আব্দুল কাদের।

এছাড়াও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার ৫৮ জন কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার। বিশেষ ক্যাটাগরিতে প্রসিকিউশন বিভাগ, আইএডি বিভাগ, উপ-পুলিশ কমিশনার, (স্পেশাল এ্যাকশন গ্রুপ বিভাগ) ও উপ-পুলিশ কমিশনারদের (ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগ) পুরস্কৃত করা হয়।

এছাড়াও বিট পুলিশিং কার্যক্রম সংক্রান্তে ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেছেন ডিএমপি কমিশনার।

সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট) ড. এ এফ এম মাসুম রব্বানী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) কৃষ্ণ পদ রায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) এ কে এম হাফিজ আক্তার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনএনিউজ/এসকেকে,জেবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *