জমে উঠেছে চট্টগ্রাম সিটির নির্বাচনী প্রচারণা

বিএনএ, চট্টগ্রাম : জমে উঠেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী প্রচারণা। জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয় করতে যাচ্ছেন ঘরে ঘরে, দিচ্ছেন নানান প্রতিশ্রুতি। এদিকে, ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু করতে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে নির্বাচন কমিশন।

আরো পড়ুন

গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ

গেল বছরের ২৯ শে মার্চ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও করোনার সংক্রমণ আতঙ্কে তা স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৭ শে জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণার পরপরই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। যাচ্ছেন ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে। নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থীরা।

বসে নেই কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। চষে বেড়াচ্ছেন তাদের নির্বাচনি এলাকা। প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিলেও সুখে দুঃখে যারা পাশে ছিল তাদেরকেই ভোট দিবেন বলে মত সাধারণ ভোটারদের। পোস্টার, ব্যানার, মাইকিং, গণসংযোগ, মিছিল, নির্বাচনী অফিস ও আলোকসজ্জা ক্যাম্প নজর কাড়ছে সবার। তবে পাশাপাশি শঙ্কাও বাড়ছে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় একজন নিহত হয়েছেন।

গতরাতে ডবলমুরিং থানার পাঠানটুলিতে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া মাহবুব নামে আরো একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রার্থীরা মানছেন না নির্বাচনি প্রচারণায় স্বাস্থ্যবিধি

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা। করোনা সংক্রমণ রোধে বড় জমায়েত করার ব্যাপারে বিধিনিষেধ থাকলেও বিপুল কর্মী আর গাড়ির বহর নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা। যদিও তাদের দাবি, আয়োজন করে কোন জমায়েত করছেননা তারা। তবে, বিধি ভাঙলে ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের।

নির্দেশনা ছিল, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার। বড় দুদলের মেয়র প্রার্থীরাও জানিয়েছিলেন, বড় জমায়েত নয় প্রচারণা চলবে ছোট পরিসরে। তবে প্রথমদিন থেকেই তা উপেক্ষিত। গাড়ির বহর আর বিপুল কর্মী সমর্থক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তাতে মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি। এছাড়া অনেকের মুখেই থাকছেনা মাস্ক বা সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

অবশ্য আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের দাবী, আয়োজন করে নয়, পথে নামার পর এমনিতেই জড়ো হচ্ছে মানুষ। তারপরও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মাথায় রাখছেন তারা।

তবে গণজমায়েত করা যাবেনা বলে আবারও সতর্ক করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানা বা বিধি লঙ্ঘন করলে নেয়া হবে ব্যবস্থা।

নির্বাচনের শুরুতে বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা শুরুর তিনদিনের মধ্যেই পরস্পরের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছেন বড় দুদলের মেয়র প্রার্থী।

১০ জানুয়ারি সকালে নগরীর আতুরারডিপো এলাকায় প্রচারণা চালান বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডাক্তার শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় তার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির বিরুদ্ধেই হামলার অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী।

আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন ও ৪১ টি সাধারন ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২১৬ জন প্রার্থী।  মোট ভোটার ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। এদের মধ্যে নারী ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন। সবগুলো কেন্দ্রেই এবার ভোট নেয়া হবে ইভিএমে।

২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এজন্য দ্বিতীয় দফায় প্রচারণা শুরু হয়েছে ৮ জানুয়ারি।

বিএনএনিউজ/জেবি