Bnanews24.com
Home » গুগল বিগ মোমেন্টস বনাম বাংলা নিউজ পোর্টাল
প্রবন্ধ সব খবর

গুগল বিগ মোমেন্টস বনাম বাংলা নিউজ পোর্টাল

গুগল বিগ মোমেন্টস

গুগলনিউজে ব্যাপক সাফল্য পাবার পর গুগলের নজর এখন ব্রেকিং নিউজের দিকে।ফেসবুক ও টুইটারে ব্রেকিং নিউজ বিশ্বব্যাপি ব্যাপক সাড়া ফেলার কারণে গুগল পাঠকদের সুবিধার্থে ব্রেকিং নিউজের জন্য ‘বিগ মোমেন্টস’ ফিচার তৈরি করছে।অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফেইক নিউজ প্রচার বন্ধে বিশ্ব রাজনৈতিক নেতারা বদ্ধ পরিকর।কারণ নির্বাচনগুলোতে ফেইক নিউজ গুরুতর প্রভাব ফেলে। গুগল বিগ মোমেন্টস এবং বাংলাভাষার নিউজ পোর্টাল এর ব্রেকিং নিউজের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষন করলে, আপাতত কেউ কারো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে হয় না।

বাংলা ব্রেকিংনিউজ

এই ফিচারে সঠিক সময়ে দ্রুত ব্রেকিংনিউজ  পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে প্রায় বছর ধরে কাজ করছে গুগলের একটি দল। নতুন সার্চের বিকাশের সাথে গুগল ব্রেকিং নিউজ ইভেন্টের চারপাশে তথ্য সংগ্রহ করার পদ্ধতি উন্নত করছে।

প্রথমদিকে গুগলের কর্মীরা ব্রেকিং নিউজের ব্যাপারে খুব হতাশ হয়ে পড়েছিল। সময়মত প্রয়োজনীয় তথ্য পাচ্ছিল না।ঘটনা ঘটে গেলে ঘটনা সম্পর্কে জানতে লোকে গুগলে সার্চ করে থাকে। অন্যদিকে টুইটার এবং ফেসবুক, যেখানে একটি ঘটনা সংগঠনের সময় লাইভ তথ্য প্রকাশ করে থাকে। প্রকাশক বাংলা ব্রেকিং নিউজ দিতে সক্ষম এখানে।

গুগল খবরের জন্য জনগণের ওয়ান স্টপ সোর্স হতে চায়, তাদের গতকাল ঘটে যাওয়া কিছু সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন কিনা, অথবা তারা এখনই ঘটছে এমন একটি ইভেন্টের সর্বশেষ বিবরণ চায়।

বিগ মোমেন্টস সম্ভব হলে ইভেন্ট সম্পর্কে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট প্রদান করবে, এবং গুগল সাধারণত খবরের গল্পের সার্চ ফলাফলে যা দেখায় তা অতিক্রম করবে।

যদি গল্পটি হারিকেনের মতো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, উদাহরণস্বরূপ, বিগ মোমেন্টস মৃত্যু এবং আঘাতের সংখ্যা এবং সেইসাথে এলাকায় হারিকেনের ফ্রিকোয়েন্সি সম্পর্কিত তথ্য সম্পর্কিত তথ্যগত তথ্য তালিকাভুক্ত করতে পারে।

স্বল্প সময়ে ব্রেকিং নিউজ তৈরি করা কঠিন কাজ। অনেক প্রতিযোগিতা। কিন্ত গুগল এই কাজটি  আয়ত্বে নেয়ার চেষ্টা করছে যা সারা বিশ্বে সহসম্পাদক বা রিপোর্টারা প্রতিদিন করেন।

গুগলের সার্চ সংস্থার অভ্যন্তরে একটি ছোট দল বিগ মোমেন্টস নামে একটি সার্চ ইঞ্জিন ফিচার তৈরিতে এক বছরেরও বেশি সময় কাটিয়েছে যা প্রধান সংবাদ ইভেন্ট সম্পর্কে সার্চ ফলাফলে কোন তথ্য দেখাবে তা নির্ধারণে শতভাগ একমত হতে পারে নি টিম। এখনও পরীক্ষা নীরিক্ষা চলছে এটা নিয়ে।

গুগল ব্রেকিং নিউজ দেবে রেফারেন্সসহ

প্রস্তাবিত বৈশিষ্ট্যটির লক্ষ্য হল স্বাস্থ্য সংকট এবং সন্ত্রাস থেকে শুরু করে বিনোদন এবং ক্রীড়া ইভেন্টগুলি, যেমন তারা উদ্ঘাটিত হওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টগুলি সম্পর্কে আলোকপাত করা এবং আরও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ প্রদান করা। এটি গুগল তার অনুসন্ধান ফলাফলে বর্তমানে যে ধরনের সংবাদ নিবন্ধ এবং টুইট দেখায় তা অতিক্রম করবে, রিয়েল টাইমে একটি নির্দিষ্ট ইভেন্ট, যেমন মৃত্যু এবং আঘাতের সংখ্যা, এবং নতুন তথ্য উঠে আসার সাথে সাথে তাদের আপডেট করার মাধ্যমে সর্বাধিক প্রামাণিক তথ্য তুলে ধরে।

গুগলের ইতিমধ্যেই শক্তিশালী সমালোচক আছেন যারা অভিযোগ করেছেন যে তার অনুসন্ধান ফলাফলগুলি পক্ষপাতদুষ্ট। কল্পনা করুন গুগল যখন রিয়েল-টাইমে নিউজ কিউরেট করা শুরু করবে তখন কতটা যাচাই-বাছাই করা হবে।

প্রকৃতপক্ষে, গুগল সম্প্রতি অনুসন্ধানের ফলাফলে একটি বিজ্ঞপ্তি যোগ করেছে যাতে লোকজনকে জানাতে পারে যে কখন সংবাদ ফলাফল তৈরি করা যাবে না কারণ ঘটনাগুলি খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।এই ক্ষেত্রে হিউম্যান কিউরেটর কোন বিকল্প নয়, কারণ এটি তথ্য বের করতে আরো সময় যোগ করবে এবং গুগলের লক্ষ্য হল বিদ্যুৎ গতিতে সংবাদ পরিবেশন করা।

গুগলের একজন মুখপাত্র দ্য ইনফরমেশনকে বলেন যে বিগ মোমেন্টস ইতিমধ্যে লাইভ সার্চ ফলাফলে পরীক্ষা করা হয়েছে। বৈশিষ্ট্যটি কখন চালু হবে এবং কোন আকারে তা স্পষ্ট নয়। সেই সময় আসার আগে গুগল এটিকে আরও পরীক্ষা এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে রাখার পরিকল্পনা করেছে।

 গুগলের বিগ মোমেন্টস এর বৈশিষ্ট্য

ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে সাথে গুগল যদি হিস্টরিসহ উন্নতমানের  ব্রেকিং নিউজ প্রচার শুরু করে তাহলে টিভি চ্যানেল, অনলাইন মিডিয়া কি পিছিয়ে পড়বে ? বর্তমানে অনলাইন নিউজ ব্লগ বা পোর্টালগুলো বা দৈনিক পত্রিকার অনলাইন ভার্সনে টেলিভিশনের সাথে সাথে ব্রেকিং নিউজ প্রচার করা হয়।

গুগলের বিগ মোমেন্টস বা ব্রেকিং নিউজ বাস্তবরুপ পেলে অনলাইন মিডিয়া অবশ্যই এ ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়বে। গুগল অন্যদের ব্রেকিং নিউজ সার্চ রেজাল্টে দেখানোর চেয়ে নিজেরটাই প্রথমদিকে দেখানোর চেষ্ঠা করবে। এতে ব্রেকিং নিউজের পাবলিশারগণ বিরক্ত হতে পারে। সারাবিশ্বে গুগল সাংবাদিকদের দ্বারা নির্ভুল সংবাদ প্রস্তুত করতে নানা রকম প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ও প্রচারণা চালাচ্ছে।  দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের কর্মপরিধি এখনও বিস্তৃত হয় নি।

বিগমোমেন্টস এর সুবিধা নিতে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকেও কিছুটা দূরদর্শী পরিকল্পনা নিতে হবে। তৈরি করতে হবে ডাটা ব্যাংক। সাংবাদিকদের ডাটা সায়েন্স ও ডাটা ম্যানেজমেন্টে দক্ষ করে তুলতে হবে।

একটু লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই, ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স, যখন কোন ঘটনার ব্রেকিং দেয়,সে সাথে ছোট একটা ইতিহাসও জুড়ে দেয়। যেমন- পাকিস্তানে ভূমিকম্পে ২০জন নিহত। রোববার সকাল৯টায় রিকটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৬.২।

ইতিহাস যেভাবে জুড়ে দেয়-এরআগে ২০০৫সালে ৫.২মাত্রা ভূমিকম্পে ৬০জন নিহত,কয়েক হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়। ১৯৯২সালে পাকিস্তানে ১০০জন নিহত,  ১৯৯০সালে ১৫জন নিহত হয়।

ভেরিফাইড পাবলিশারের বিকল্প নেই

গুগলের বিগ মোমেন্টস অনেকটা এরকম হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ঘটনাগুলো গুগল সহজে হয়তো তুলে ধরবে পাঠকের সামনে। কিন্ত স্থানীয় ব্রেকিং নিউজ যেগুলো ফেসবুক প্রচার করে তা তুলে ধরতে হলে গুগলকে, লোকাল সার্টিফাইড পাবলিশার নিয়োগ করতে হতে পারে। সঠিক ও নির্ভুল ব্রেকিং নিউজ এর জন্য ভেরিফাইড পাবলিশারের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে অনেক স্থানীয় সাংবাদিকের আয়ের পথ খুলতে পারে। কারণ ভেরিফাই ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বেশির ভাগ খবর মিথ্যা, অসম্পূর্ণ এবং গালগল্প হয়ে থাকে। ফেইক নিউজ বন্ধে গুগল ফেসবুক একত্রে কাজ করলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার প্রায় বন্ধ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

লোকাল নিউজ পোর্টালগুলোকে ব্রেকিং নিউজ নামে নতুন ক্যাটাগরি মেনুতে যোগ করতে হবে। যাতে সেব নিউজ গুগলে দ্রুত ইন্ডেক্সিং হয়।

বিগ মোমেন্টস এবং বাংলা নিউজ পোর্টাল প্রতিদ্বন্দ্বি নয়

উপসংহারে এটা বলা যায় যে, গুগল বিগ মোমেন্টস বা ব্রেকিং নিউজ চালু করলেও তা বাংলা বা অন্যান্য দেশিয় ভাষায় জনপ্রিয়তা পেতে অনেক অনেক সময় লেগে যাবে। কারণ গুগল এর ভাষান্তর কাজ এখনও পরিপূর্ণ নয়। ইংরেজি থেকে কোন কিছু বাংলায় ট্রান্সলেট করলে তা যথাযথ হয় না। ৬০% বোধগম্য হয়। বাকিটা নিজেকে করে ঠিক করে নিতে হয়। অতএব বিগ মোমেন্টস আপাতত বাংলা নিউজ পোর্টালগুলোর জন্য কোন প্রতিদ্বন্দ্বি হচ্ছে না।