Bnanews24.com
Home » মিরসরাই পৌরবাজারে নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যমূল্য, নেই তদারকি
বৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃৃহত্তর চট্টগ্রাম সব খবর

মিরসরাই পৌরবাজারে নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যমূল্য, নেই তদারকি

মিরসরাইয়ে নিয়ন্ত্রণহীন পণ্যমূল্য, নেই তদারকি

বিএনএ, মিরসরাই: মিরসরাই উপজেলার মিরসরাই পৌরবাজারে আশপাশের অন্যান্য বাজারের তুলনায় পণ্য মূল্য অনেকটাই বেশি। পৌরবাজারের সামান্য দূরত্বে মিঠাছড়া ও বড়তাকিয়া বাজারের সাথেও রয়েছে মূল্য তারতম্য। উপজেলার অন্যন্য বাজারে যে দামে পণ্য বিক্রয় হয় তার তুলনায় ১০ থেকে ৫০টাকা বেশি দামে বিক্রয় হয় এখানকার পণ্য।

অন্যান্য বাজারের দোকানিরা যে স্থান থেকে যে দামে পণ্য কিনেন ঠিক একই স্থান থেকে একই দামে পাইকারে তারাও পণ্য ক্রয় করেন। তবে কেন পৌরবাজারের অন্যান্য বাজারের তুলনায় দাম বেশি নেওয়া হয় তার সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি কারো কাছ থেকে। এমনকি একই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরবাজারের পণ্য মূল্যের সাথেও রয়েছে তারতম্য।

সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, মিরসরাই পৌরবাজারে বয়লার মুরগি বিক্রয় হচ্ছে ১শ৭০টাকা দরে। কিন্তু পৌরবাজারের সামান্য দূরত্বে মিঠাছড়া ও বড়তাকিয়া বাজারে বিক্রয় হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫টাকা দরে। কেজি প্রতি বাজার ভেদে দরের এমন পার্থক্য সম্পর্কে জানতে চাইলে মিরসরাই পৌরবাজারের মুরগি বিক্রেতারা জানান, ক্রয় বেশি এছাড়া পরিবহন খরচ যুক্ত করে বেশি দামে বিক্রয় করতে হয়। ক্রয় রশিদ দেখিয়ে বলেন কেজি প্রতি পাইকারে কেনা ১শ৪৩টাকা তাই ১শ ৭০টাকা বিক্রয় না করলে পোষায় না।

এছাড়া পৌরবাজারে তাই দাম একটু বেশি। মিরসরাই পৌরবাজারের পাশাপাশি ৩টি মুরগি বিক্রির দোকান রয়েছে তারা হালেন হারুন, বাবুল ও সাইফুল ৩জনই একই দামে মুরগি বিক্রয় করেন। পাশ্ববর্তী বাজারের দাম কম থাকার বিষয়টি তাদের সামনে আনতেই তারা উত্তেজিত হয়ে উঠেন।

কিন্তু উপজেলার বড়তাকিয়া ও মিঠাছড়া বাজারে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বয়লার মুরগির বিক্রয় হচ্ছে কেজি প্রতি ১শ৫০টাকা দরে। তাদের ক্রয়ও ১শত ৪৩টাকা করে। এছাড়া অন্যান্য কাঁচা পণ্যেও রয়েছে আকাশ পাতাল  তারতম্য। উপজেলার অন্যান্য বাজারের তুলনায় ফলের কেজি প্রতি মূল্য এখানে ৫০টা বাড়তি। কাঁচা তরিকরকারী, শাক, সবজি ও মাছের বাজারেও একই পার্থক্য দেখা যায়। এমন মূল্য পার্থক্যের কারণে পৌরবাজার বিমুখ হয়েছেন স্থানিয় মধ্য বিত্ত ও নিন্ম বিত্ত পরিবারের সদস্যরা। তারা একটু কম মূল্যে বাজার করতে ছুটে যান বড়তাকিয়া কিংবা মিঠাছড়া বাজারে। এতে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। তেমনি একজন নুরের ছাফার সাথে দেখা হয় বড়তাকিয়া বাজারে।

বাড়ির কাছের পৌরবাজার ফেলে বড় তাকিয়া বাজারে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌরবাজারে সব সিন্ডিকেট করে বাড়তি দামে পণ্য বিক্রয় করে তাই একটু কম দামে সময় নষ্ট করে হলেও বড়তাকিয়া বাজারে আসা হয়েছে। অপর দিকে সাখাওয়াত হোসেন বাবু নামে মিরসরাই বাজারের এক দোকানিকে দেখা গেল মিঠাছড়া বাজারে। তারও একই উত্তর মিরসরাই পৌরবাজারের তুলনায় মিঠাছড়া বাজারে দাম অনেকটাই কম তাই কম দামে বাজার করতে মিঠাছড়া বাজারে আসা।

মিরসরাইয়ে নিয়াজ মোরশদ আনিস নামে এক খামারীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, খামারীরা বর্তমানে বাজার মূল্য অনুযায়ী ১৪৩ থেকে ১৪৪ টাকায় পাইকারে বয়লার মুরগি বিক্রয় করছে। কিন্তু উপজেলার মিরসরাই পৌরবাজার ও আবুতোরাব বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে অন্যান্য বাজারের তুলনায় বেশি দামে মুরগি বিক্রয় করে।

মিরসরাই পৌরবাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা বহুবার চেষ্টা করেছি উপজেলার অন্যান্য বাজারের সাথে সমতা বজায় রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণের। কিন্তু আমাদের কথা তারা কেউ মানে না।

পৌর মেয়র ও বাজার কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, বাজার তদারকির কাজ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তার উনার সাথে কথা বলেন।

অন্যদিকে মিরসরাই উপজলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি নামে একটি কমিটি থাকলেও গত দশ বছরে সেটির কোন কার্যক্রম নেই।

এ ব্যাপারে ক্যাব কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, মিরসরাই উপজেলার কমিটি দীর্ঘদিন যাবত ঝিমিয়ে আছে। দায়িত্বশীলরা অনেকেই এলাকায় নেই। অনেকেই বয়সের কারণে আর আগের মতো কর্মতৎপরতা চালাতে পারেন না। তাই মিরসরাই উপজেলা কমিটিকে নতুন করে সাজাতে হবে। নতুন কমিটির সদস্যরা কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে যোগাযোগ রেখে স্থানীয় ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কাজ করবে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান বলেন, আমি আসার পর থেকেই দেখছি মিরসরাই পৌরবাজারের খুবই খারাপ অবস্থা। এখানে ঢাকার চাইতেও পণ্য মুল্য বেশি। বাজার মূল্য নির্ধারিত হয় চাহিদা ও জোগানের উপর ভিত্তি করে। অপর দিকে দাম বাড়লে চাহিদা কমে দাম কমলে চাহিদা বাড়ে। কিন্তু বাজার ভারসাম্যের অর্থনৈতিক এই সূত্র এখানে ব্যর্থ। এখানে সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিম  ভাবে পণ্য মূল্য বাড়ানো হয়। অচিরেই বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

বিএনএ/ আশরাফ উদ্দিন,ওজি