Bnanews24.com
প্রবাস সব খবর

বাংলা‌দেশ‌কে মানবতাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার আহবান

আবুধা‌বি প্রতি‌নি‌ধি: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানমালার ধারাবাহিকতায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা ১০ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রদূত মোঃ আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশী অধ্যাপক, বাংলাদেশ স্কুলের অধ্যক্ষ, জনতা ব্যাংক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বাংলাদেশ সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং মিডিয়া প্রতিনিধিবর্গসহ স্থানীয় প্রবাসী নেতৃবৃন্দরা অংশগ্রহণ করেন।

পবিত্র কুরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিপাদ্যের উপর বক্তব্য রাখেন শেখ জায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীন অধ্যাপক  কাজী হাবিবুল হক খন্দকার, আল আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড: আবু রেজা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ইফতেখার হোসেন বাবুল, বাংলাদেশ সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন, বাংলাদেশ স্কুলের অধ্যক্ষ মীর আনিসুল হাসান।

সভায় বক্তারা জাতির পিতার অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ার দর্শনের পিছনে জাতীয় কবির জীবনী ও সাহিত্য কর্মের বিশেষ ভূমিকার উপর আলোকপাত করেন । তার বলেন যে, বিদ্রোহী কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম যে বীরের বর্ণনা দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার বাস্তব রূপ। নজরুল ছিলেন সাহিত্যের কবি আর বঙ্গবন্ধু হলেন রাজনীতির কবি। ত্রিকালদর্শী নজরুল ভাষার ব্যঞ্জনায় যেমন কালজয়ী কাব্য রচনা করছেন, তেমনি বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভা দিয়ে যে কাব্য রচনা করেছেন তার নাম ‘বাংলাদেশ’। এ আয়োজনের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্ম জাতির পিতা ও জাতীয় কবির অভিন্ন দর্শন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারবে বলে বক্তাগণ অভিমত ব্যক্ত করেন।এছাড়াও সময়োপযোগী এ প্রতিপাদ্যের উপর আলোচনা সভা আয়োজনের জন্য অতিথিবৃন্দরা দূতাবাসের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর সাহিত্য ও কর্মে সাম্য, সম্প্রীতি, নারীর সম-অধিকার, মানবাধিকার, মানবতাবাদ ও বাংগালী জাতীয়তাবাদের জয়গান গেয়েছেন। সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, ধর্মীয় সংকীর্ণতা ইত্যাদি রাজনৈতিক ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি শব্দশৈলির মাধ্যমে দ্রোহ করছেন, আন্দোলন করেছেন এবং কারা বরণ করেছেন। এসকল বিষয়ে তিনি কালজয়ী কাব্য ও সাহিত্য রচনা করেছেন। ঔপনিবেশিকতা ও পরাধীনতার মধ্যে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কবি নজরুল সাম্প্রদায়িকতা, শোষণ, বৈষম্য এবং নির্যাতেনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তাই তাঁর সাহিত্যকর্মে এসব বিষয় গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর জীবনের ব্রত ছিল একটি শোষণহীন ও বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা।

বঙ্গবন্ধু তাঁর শৈশবে, কৈশোরে এবং সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহনের প্রাক্কালে কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্য কর্মের সংস্পর্শে আসেন। কবির জীবনী, দর্শন ও কর্মের অনেক ‍উপাদান দ্বারা জাতির পিতা অনুপ্রাণিত হন যা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনেও প্রতিভাত হয়। তিনিও সকল অসাম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করেছেন। কবি নজরুলের চেতনায় তিনি অনুপ্রাণিত ছিলেন বলেই স্বাধীনতার পর কবিকে কলকাতা থেকে ঢাকা নিয়ে আসেন এবং রাস্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় তাঁর সর্বোৎকৃষ্ট চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরবর্তীতে কাজী নজরুল জাতীয় কবির পদমর্যাদায় অভিষিক্ত হন। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু আসলে আমাদের জাতীয় জীবনের এক গভীর অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দান করেন।

জাতির পিতা তাঁর দায়িত্ব পালন করে গেছেন। কবি নজরুলের সাম্যবাদ ও অসাম্প্রদায়িকতার দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে জাতির পিতার দেয়া বাংলাদেশের সংবিধানে যার অন্যতম মূলনীতি হল ধর্মনিরপেক্ষতা ও নিজস্ব ধারার সমাজতন্ত্র। আজ বাংলাদেশ সারাবিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মডেল ও শান্তিকামী জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে যা বঙ্গবন্ধুকে জুলিও-কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, জাতির পিতা ও জাতীয় কবির দেয়া বাংলাদেশের এ অসাম্প্রদায়িক অবস্থানকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। প্রবাসীদের মাঝেও তিনি এ আদর্শের চর্চার মাধ্যেমে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক জাতি এবং বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের পক্ষের একটি মানবতাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার আহবান জানান। তিনি বলেন, সকল ধরণের অন্যায়, অসাম্য, শোষণ, সামপ্রদায়িতকা ও ধর্মন্ধতার বিরুদ্ধে সদা আমাদেরকে সোচ্চার থাকতে হবে এবং পরমত সহিষ্ণুতার চর্চা করতে হবে।

আলোচনা শেষে জাতির পিতা, জাতীয় কবি ও তাঁদের পরিবারবর্গের রুহের মাগফেরাত কামনা, প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ূ এবং দেশ-জাতির সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়।

বি এ ন এ,  মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন (খালেদ)