Bnanews24.com
Home » রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী ফকিরের কেরামতি ফাঁস! অবশেষে মিনা’র কর্মস্থলে যোগদান !
চট্টগ্রাম টপ নিউজ

রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী ফকিরের কেরামতি ফাঁস! অবশেষে মিনা’র কর্মস্থলে যোগদান !

রেল প্রকৌশলী ফকিরের কেরামতি ফাঁস! অবশষে মিনা’র কর্মস্থলে যোগদান !

বিএনএ, ঢাকা : বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী ফকিরের কেরামতি’ শিরোনামে গত ১১ মে (বুধবার) একটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদে বলা হয়, মিনা আক্তার। বাংলাদেশ রেলওয়ের খালাসী হলেও গত তিন বছরে একদিনের জন্যও কর্মস্থলে আসেনি।

সংবাদে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানার হুইলসপে কাগজে কলমে যোগদান করে। তাকে বদলিও করা হয় একই প্রক্রিয়ায়। নিয়মিত বেতন-বোনাস, ওভার টাইম ও বিভিন্ন ভাতাও উত্তোলন করছেন। প্রতিদিন তার হাজিরা দেখানো হচ্ছে। বাস্তবে মিনা আক্তার (টি নং ৩৫০৯) বুয়ার কাজ করেন রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (উন্নয়ন) ফকির মো. মহিউদ্দিনের শাহজানপুরের বাসায়।

সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর তা দ্রুত ‘টক অব দি রেলওয়ে’ পরিণত হয়। ভাইরাল হয় ফেসবুকে। অবস্থা বেগতিক দেখে রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (উন্নয়ন) ফকির মো. মহিউদ্দিন বিভিন্ন মাধ্যমে নিউজটি প্রত্যাহার করতে তদবির করেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়। এ অবস্থায় রাতে মিনা আক্তারকে চট্টগ্রাম পাঠিয়ে দেয়।

১২ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে মিনা তার কর্মস্থল পাহাড়তলী রেলওয়ে ক্যারেজ ও ওয়াগন মেরামত কারখানার হুইলসপে যোগদান করেন। কারখানায় ঢুকে সময় রক্ষক মো. মহসিনের কাছ থেকে টিকেট সংগ্রহ করেন মিনা।এসময় মিনার সঙ্গে ছিলেন কারখানার মিডলাইট সপের রাসেল।বৃহস্পতিবার মহসিন ছুটিতে থাকলেও মিনা আক্তার আসার আগেই উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে দ্রুত অফিসে আসেন।
উল্লেখ রাসেল ও তার মাকে চাকরি দেন ফকির মো. মহিউদ্দিন।

মিনা আক্তারকে কারখানার হুইলসপের মিস্ত্রীদের রুমে নিয়ে যান রাসেল। ততক্ষণে কারখানার অফিসে আসেন হুইলসপের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মীর রায়হানা ইয়াসমিন, সময় রক্ষক অফিসের ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম ও হুইলসপের ক্লার্ক মো. ইউসুফ। তাদের অফিসে ডাকেন কারখানার কর্ম ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রাশেদ লতিফ। তিনি মিনার যাবতীয় ফাইলপত্র ঠিকটাক করার নির্দেশ দেন।

এরপর মিনাকে কারখানার গ্রিজিং রুমে ডেকে নিয়ে যান মিস্ত্রী শ্যামানন্দন সিনহা। সেখানে মিনা আক্তার সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল। বেলা সাড়ে ১১টায় কাজ শেষে সবাই বাসায় গেলেও মিনা কারখানায় ছিলেন। বেলা ২টা ১৫ মিনিটে কারখানা ত্যাগ করেন মিনা। বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, তারা পুরো বিষয়টা মনিটরিং করছেন।

তিনি আরও জানান, রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (উন্নয়ন) ফকির মো. মহিউদ্দিন মিনা আক্তারের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) এবং গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনকে তথ্য দিয়েছেন এমন সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তালিকা প্রনণয় ও তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতেও বলেছেন। না হলে আগামিতে তাদের দুর্নীতি অনিয়মের ফিরিস্তিও প্রকাশ হবে মর্মে সর্তক করে দেন।

এদিকে মিনা আক্তার যাতে কারো সঙ্গে কথা বলতে না পারে সেজন্য তার আসা যাওয়ার সময় রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (উন্নয়ন) ফকির মহিউদ্দিন এবং তার আস্থাভাজন যন্ত্র প্রকৌশলী (সদর) (পূর্ব) মো. জাহিদ হাসান বিশেষ সর্তকতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। মিনা আক্তার আপাতত: রাসেলের তত্বাবধনে থাকছেন বলে সূত্র জানায়।

সূত্র আরও জানায়, এ ঘটনায় যাতে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন না হয়, তার জন্য তৎপর রয়েছেন রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী (উন্নয়ন) ফকির মহিউদ্দিন এবং যন্ত্র প্রকৌশলী (সদর) (পূর্ব) মো. জাহিদ হাসান। মিনা আক্তার ১২ মে ২০২২ এর আগে কর্মস্থলে এসেছিলেন কীনা সিসি টিভি’র ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে এমনটাই মনে করেন রেলের সৎ কর্মকর্তারা।

বিএনএনিউজ২৪.কম/এনএএম/ওয়াইএইচ

আরও পড়ুন : রেলওয়ের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী ফকিরের কেরামতি!

Bnanews24 অনলাইনের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি অনুসরণ করুন