Bnanews24.com
অপরাধ কভার চট্টগ্রাম সব খবর

মিতু হত্যা : ক্রসফায়ারে মারা গেলেন যারা

মিতু হত্যা : ক্রসফায়ারে মারা গেলেন যারা

বিএনএ, চট্টগ্রাম : মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া এক আসামিকে ক্রসফায়ারে দিতে বলেছিলেন মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার। তখনও বাবুল আক্তার চাকরি থেকে ইস্তফা দেননি। এ অভিযোগ করেন বাবুল আক্তারের শাশুড়ি শাহেদা মোশাররফ।

তিনি বলেন, ‘মিতু হত্যার ৫ দিনের মাথায় তার (বাবুল) কাছে একটি ফোন এসেছিল। চট্টগ্রাম থেকে পুলিশের এক কর্মকর্তা ফোন করে একজনকে (সম্ভবত মুসা) গ্রেফতারের কথা জানান। তখন গ্রেফতারকৃত ওই ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারে দেয়ার নির্দেশ দেয় বাবুল আক্তার। ওই সময় কোনো একটি কাজে বাবুল আক্তারের রুমে (কক্ষ) গিয়েছিল আমার ছোট মেয়ে শায়লা মোশাররফ নিনজার স্বামী ডা. সাইদুর রহমান। নিনজার স্বামী আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা বাবুল আক্তারের কাছে জানতে চাই, কাকে সে ক্রসফায়ারে দিতে বলছে? জবাবে সে (বাবুল) বলেছিল, মিতু হত্যার এক আসামি ধরা পড়েছে। যারা খুন করিয়েছে তারা খুবই প্রভাবশালী। গ্রেফতারকৃতকে বাঁচিয়ে রাখলে গডফাদাররা তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তাই তাকে ক্রসফায়ারে দিতে বলেছি।’

এদিকে পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা মিতু হত্যা রহস্যের জট খুলেনি। মিলেনি বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তরও। এসব কারণে পরে মামলাটি পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, আলোচিত এবং চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডকে ঘিরে যে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে তা দূর করতে না পারায় পুলিশের অনেক কাজই আস্থার সংকটে পড়বে। এই হত্যাকান্ডের তদন্ত নিয়ে পুলিশের রহস্যময় আচরণ সারাধণ মানুষের মধ্যেও সংশয়ের সৃষ্টি করেছে।
খুনের কয়েক মাসের মধ্যে ধরা পড়েছে কিলিং স্কোয়াডে থাকা কয়েকজন। এরমধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী কে, কেন মিতুকে হত্যা করা হয়েছে, তার স্বামী বাবুল আক্তারকে ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কেন কিংবা কিলিং স্কোয়াডের দুই সদস্যইবা কেন মারা গেল বন্দুকযুদ্ধে- তার কোন জবাব নেই। উত্তর মিলছে না হত্যাকান্ডের মূলহোতা প্রধান সন্দেহভাজন মুছার অবস্থান নিয়েও।

মূলহোতা আবু মুছাকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ পরিবারের। স্ত্রী পান্নার দাবি তাকে ২২ জুন ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তাকে ঢাকায় নিয়ে বাবুল আক্তারের মুখোমুখিও করা হয়। পান্না দাবি করেন মুছাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার দিন পুলিশের সাথে নূর নবীও ছিল। তবে নবীকে ধরার বিষয়টিও পুলিশ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছেন। অথচ ঈদের দুইদিন আগে নবী ও রাশেদ পুলিশের সাথে কথিত বন্দুক যুদ্ধে মারা যায়।

গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে গিয়ে নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হন মাহমুদা খানম মিতু। প্রথমে পুলিশ এই হত্যাকান্ডের জন্য জঙ্গিদের দায়ী করে। পরে এই ঘটনায় জামায়াত-শিবির জড়িত থাকার বিষয়েও সন্দেহ করা হয়। এরমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। দুইজনকে ৭ দিন করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মধ্যে হাটহাজারীর মুসবিয়া দরবারের খাদেম আবু নসর গুন্নুকে ত্রিশ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশ এই মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল সে সময়।

অপরজন মাদকাসক্ত যুবক শাহ জামাল রবিন। রিমান্ড শেষে পুলিশ জানায় তারা দুইজনের কেউ এই হত্যাকান্ডে জড়িত নয়। পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেন এই হত্যাকান্ডের মূলহোতা আবু মুছা। তার নেতৃত্বে খুনি চক্রের সদস্যরা মিতুকে খুন করে। তার সাথে হত্যা মিশনে অংশ নেয় ৮ জন। সে টাকার বিনিময়ে তাদের এই কাজে লাগায়। তবে কেন এবং কার নির্দেশে মুছা মিতুকে হত্যা করলো তার কোন জবাব মিলেনি।

হত্যা মিশনে সরাসরি অংশ নেয়া ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেছে, মুছা মিতুকে জঙ্গিদের অর্থযোগানদাতা হিসাবে তাদের চিনিয়ে দেয় এবং তাকে হত্যা করতে বলে। মিতুর স্বামী বাবুল আক্তার জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ছিলেন সফল। অথচ তার স্ত্রী মিতুর মতো একজন সাধারণ গৃহবধূকে জঙ্গির অর্থদাতা অপবাদে কেন খুন করা হলো তারও কোন উত্তর নেই। এদিকে মিতু হত্যাকান্ডে অস্ত্র যোগানদাতা হিসাবে গ্রেফতার এহতেশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মনির হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ডের অনুমতি পেয়েছিলেন পুলিশ।
বিএনএনিউজ/জেবি