বিএনএ বিশ্বডেস্ক: ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও হৃদরোগের সমস্যার কারণে শনিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউ–তে নেয়া হয়। আজ দুপুরে তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
আশা ভোঁসলে-এর সংগীতজীবন শুরু ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে। ১৯৪৮ সালে হিন্দি সিনেমায় প্রথম গান গাওয়ার পর ধীরে ধীরে তিনি জায়গা করে নেন মূলধারায়। ১৯৫০–৬০-এর দশকে তিনি মূলত সাপোর্টিং বা বি-গ্রেড চলচ্চিত্রে গান গাইলেও ১৯৬০-এর পর থেকে মূলধারার নায়িকাদের কণ্ঠ হয়ে ওঠেন।
৭০-এর দশকে পশ্চিমা সুরের প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে মানিয়ে নেন—ডিস্কো, ক্যাবারে, জ্যাজ প্রভাবিত গানেও হয়ে ওঠেন জনপ্রিয়। ৯০-এর দশকে এসে আবার পপ ও রিমিক্স ধারাতেও নিজেকে উপস্থাপন করেন। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে তিনি সক্রিয় থেকেছেন প্রায় ৬০ বছরের বেশি—যা প্লেব্যাক ইতিহাসে বিরল।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, সাতবার ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। ভারত সরকার তাকে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। তার প্রয়াণে ভারত ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আশা ভোঁসলে খুব অল্প বয়সে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন, যা পরে বিচ্ছেদে গড়ায়। এই ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যেই তাকে সন্তানদের নিয়ে সংগ্রাম করতে হয়েছে। পরবর্তীতে আর. ডি. বর্মন-এর সঙ্গে তার সম্পর্ক ও বিয়ে জীবনে নতুন অধ্যায় নিয়ে আসে। এই উত্থান-পতনের মধ্যেও তিনি নিয়মিত কাজ চালিয়ে গেছেন—যা তার মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ।
বিএনএ/শাম্মী
![]()

