বাংলাদেশে কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিএনএ, ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না। আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী।’ শুক্রবার (১১ নভেম্বর) বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

আরো পড়ুন

ব্রাজিলের কোচের দায়িত্ব ছাড়লেন তিতে

আজ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করলেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা তাঁর বক্তৃতায় সরকারের নানা উন্নয়ন উদ্যোগের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় উন্নয়ন নয়, শুধু লুটপাট করেছে। যাদের নেতা খুন ও অর্থ পাচার মালার সাজাপ্রাপ্ত, তাদের মুখে আওয়ামী লীগের সমালোচনা মানায় না।

আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক।
আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিএনপি নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, এইট পাস দিয়ে, মেট্রিক ফেল দিয়ে দেশ চললে উন্নয়ন হয় না। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে সরকারে ছিল বিএনপি। ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ছিল বিএনপির সময়। আমরা ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত নিয়েছিলাম। কোভিড টিকা কিনেছি, বিনিয়োগ করেছি, বিমান কিনেছি, পায়রা বন্দর নিজস্ব অর্থায়নে করেছি। এভাবে রিজার্ভ থেকে খরচ হয়েছে। ঘরের টাকা ঘরে থাকছে। দেশের জনগণের উন্নয়নে এই টাকা ব্যবহার করছি।

দেশের আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, রিজার্ভ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে। দেশের টাকা দেশেই থাকছে। যারা বলেছিল দেশ শ্রীলঙ্কা হবে, তাদের মুখে ছাই পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির অনেক নেতা মানি লন্ডারিং, লুটপাট, দুর্নীতির কথা বলে। তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। মানি লন্ডারিং মামলায় সে সাত বছরের সাজাপ্রাপ্ত। অস্ত্র মামলার আসামি। তাদের মুখে এই সমালোচনা মানায় না।

যুবলীগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
যুবলীগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

করোনার সময়, গৃহহীনদের ঘর করে দেওয়া সংক্রান্ত সরকারের প্রকল্পে, কৃষকের ধান কেটে দিয়ে, বিভিন্ন সময়ে দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি যুবলীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে ধন্যবাদ জানান। তাদের উদ্দেশে বলেন, দেশের সেবা করতে হবে, মানুষের সেবা করতে হবে। ইউক্রেন যুদ্ধ, স্যাংকশনের কারণে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। প্রতিটি নেতাকর্মীকে বলবো, নিজের গ্রামে যান, নিজের জমি চাষ করবেন। অন্যের জমিতে যাতে উৎপাদন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনও চাষ, সবজি, গাছপালা লাগাতে হবে। সন্ত্রাস রুখতে হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিকে সভামঞ্চে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে সামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। প্রধানমন্ত্রীর হাতে তারা ক্রেস্ট তুলে দেন।

যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মহাসমাবেশ ঘিরে মিছিলে মিছিলে মুখর হয়ে উঠেছে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকা। বেলা আড়াইটায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও সকাল ৯টা থেকেই যুব নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন।

বিএনএনিউজ/এইচ.এম।