মামুনুলকাণ্ডে দায় নেবে না হেফাজত

বিএনএ, চট্টগ্রাম: সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রিসোর্টে এক নারীকে নিয়ে অবস্থান করেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। এ ঘটনায় রিসোর্ট ঘেরাও এবং এর পরবর্তী নানা ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি মামুনুল হকের ব্যক্তিগত বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন সংগঠনটি কেন্দ্রীয় আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। এই অবস্থান থেকে এখনো মামুনুল হকের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি হেফাজত।

রোববার (১১ এপ্রিল) বিকেল সোয়া ৪টায় চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের সভা শেষ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ ৩৫ নেতা বৈঠকে বসেন।

বাবুনগরী বলেন, আজকের সভায় কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা হয়নি। মামুনুল হককে নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত। কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার কোনো কথা সভায় উঠে নাই।

বৈঠকে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সারাদেশে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধ করার দাবি জানান। এছাড়া লকডাউনের নামে মাদ্রাসা বন্ধেরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ২৯ মে হেফাজতের উদ্যোগে হাটহাজারী মাদ্রাসায় ওলামা মাশায়াখ সম্মেলনের ঘোষণা দেন বাবুনগরীর।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা, জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা সালাউদ্দিন নানুপুরি, মাওলানা আবদুল আউয়াল, মাওলানা, মীর ইদরিস, মাওলানা, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, মাওলানা সাকাওয়াত হোসাইন রাজি প্রমুখ।

উল্লেখ, গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারী, পটিয়া, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেটসহ দেশের কয়েকটি স্থানে সহিংসতার এ ঘটনায় অনন্ত ২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এসব ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা হয়।

এরপর গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় একটি রিসোর্টে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে এক নারীসহ ঘেরাও করে স্থানীয় লোকজন। তখন মামুনুল দাবি করেন, ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টির মধ্যেই হেফাজতের শীর্ষ নেতারা এ বৈঠকে বসেন।

বিএনএনিউজ/মনির