মোড়ল দেশের উচিত রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করা

।।মিজানুর রহমান মজুমদার।। মিয়ানমারে গণহত্যা,ধর্ষণ,নির্যাতন ও জাতি নিধনমূলক অভিযানের শিকার হয়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা ১০লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। এতগুলো এক কাপড়ে পালিয়ে আসা নিরীহ মানুষকে আশ্রয় দিয়ে বর্তমান সরকার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিশ্বে তা নজিরবিহীন।

আরো পড়ুন

ছাদ থেকে পড়ে প্রাণ গেল দুই শিশুর

আজ ১০ ডিসেম্বর ‘বিশ্ব মানবাধিকার দিবস’। মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের প্রস্তাবনায় উল্লেখিত সবার জন্য মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের অঙ্গীকার পুনরাবৃত্তি করার লক্ষ্য নিয়ে মানবাধিকার দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘Dignity, Freedom, and Justice for All’ অর্থাৎ ‘মানব-মর্যাদা, স্বাধীনতা আর ন্যায়পরায়ণতায়, দাঁড়াবো সকলেই অধিকারের সুরক্ষায়’ যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক।

বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। দেশ ও জাতির ভবিষ্যত নেতৃত্ব যুব সমাজকে রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ চিহ্নিত ধর্ষক ও মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে সরকার যখন টলারেন্স নীতি কার্যকর করছিল তখন বাইরের কিছু মানবাধিকার সংগঠন সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করে।

সব সময় বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ ছোটখাট বিষয়ে নাক গলানো তাদের যেন অভ্যাস। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে কিছু কিছু রাষ্ট্রদূত কর্তৃক কতিপয় রাজনৈতিক দলের পক্ষে সাফাই গেয়ে যাওয়াও কূটনৈতিক আচরণের স্পষ্টত: লংঘন।তাদের উচিত ইতিহাস জানা এবং মন্তব্য না করা।

মোড়ল রাষ্ট্রগুলো আমাদের দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলালেও শতাব্দীকাল ধরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলা নির্মম নির্যাতনের বিষয়টিকে তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন না।রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তাদের কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। নেই বার্মা তথা মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠায় সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সামরিক বা অর্থনৈতিক অবরোধ।
মোড়ল রাষ্ট্রগুলো কী পারে না, মিয়ানমারের আরাকানে বা রাখাইন প্রদেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনের সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা নিতে? অথচ কয়েকশত বৎসর ধরে রোহিঙ্গারা আরাকানে বসবাস করছে বংশপস্পরায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের কোনো অনুচ্ছেদই মিয়ানমারে মানা হচ্ছে না।

জাতিসংঘসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এ কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে যে, রোহিঙ্গারা পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী, কিন্তু এ ব্যাপারে তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৪২ সাল, ১৯৪৮ সাল, ১৯৭৩ সাল, ১৯৭৪ সাল, ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৯০ এবং ২০১২ সালে রোহিঙ্গা উচ্ছেদে বর্বরতম অভিযান পরিচালনা করে বার্মার সামরিক জান্তা। রোহিঙ্গারা পৃথিবীর অন্যতম রাষ্ট্রবিহীন মানুষ। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রবিহীন ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে করা সব ধরনের অপরাধকে বৈধতা দিয়েছে।

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ২০০৯ সালে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করেন। কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দেশে কাজ করে যাচ্ছে। শৈশব/কৈশোর থেকেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনলাইন ভিত্তিক ‘মানবাধিকার কোর্স’ চালু করেছে। তাছাড়া, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ প্রতিরোধে কমিশনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো জাতীয় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। যার সুফল জাতি যুগ যুগ পেতে থাকবে।

বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে আমরা নতুন করে শপথ নেই, আসুন সবাই মিলে, কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলি। জাতি ধর্ম দেখে নয়, সবার সাথে সমান আচরণ করি। মানবাধিকার সবার জন্য,মুখে বললেই হয় না, কার্যক্ষেত্রে প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দেই।জাতিসংঘ ও বড় বড় রাষ্ট্রসমূহের উচিত নি:স্বার্থভাবে সবার মানবাধিকার নিশ্চিতে কাজ করা। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের আশ্রয়  দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন, অপরাধ করেন নি। তাই বিশ্ব বাসীকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে সীমান্ত খুলে দেবে না।