Bnanews24.com
Home » ভাষা সৈনিক (১৯) আবদুল গফুর পর্ব : ০২
ভাষা সৈনিক পরিচিতি সব খবর

ভাষা সৈনিক (১৯) আবদুল গফুর পর্ব : ০২

ভাষা সৈনিক আবদুল গফুর

একুশের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর যখন শাসককুল ভাষা-আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা ও কৌশল অবলম্বন করছিল, সে প্রতিকুল পরিস্থিতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে কতিপয় ভাষা-আন্দোলনের নেতা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে মিলিত হয়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা ও কৌশল নির্ধারণ করেন। এসময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আব্দুল গফুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫২ সালে আবদুল গফুর সম্পাদিত সৈনিকের ভূমিকা জনমনে ব্যাপক সাড়া জাগায়। ২১ ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণের পর সৈনিকের বিশেষ শহীদ সংখ্যা বের হয়। এটা জনমনে তুমুল আলোড়নের সৃষ্টি করে।

সৈনিকের বলিষ্ঠ ভূমিকায় প্রশাসন কর্তৃপক্ষ ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখে হুলিয়া জারি হয়। পুলিশ রাতে ১৯ নম্বর আজিমপুর রোডে অবস্থিত অধ্যাপক আবুল কাসেমের বাসস্থান ঘেরাও করে। এ সময় অধ্যাপক আবুল কাসেম ও আবদুল গফুর বাড়ির দেওয়াল টপকে শেখ সাহেব বাজারের জঙ্গল ও কবরস্থানের মধ্য দিয়ে সরে পড়েন। মাসাধিক কাল ঢাকা, ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে থাকেন তাঁরা। আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছে, সেক্ষেত্রে অধ্যাপক আবদুল গফুর প্রাগ্রসর ভূমিকা রেখেছেন। এ প্রচেষ্টাকে তিনি কঠোরভাবে প্রতিহত করার জন্য জনমত গঠনে নানারূপ তৎপরতা চালিয়েছেন।

রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের পরবর্তীকালে ভাষা-শহীদের স্মরণে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ, একটি শহীদ মসজিদ নির্মাণ এবং একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস হিসেবে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবিতে তিনি উচ্চকণ্ঠ ছিলেন এবং এ দাবিগুলো বাস্তবায়নের পূর্ব পর্যন্ত তিনি পিছপা হননি। ১৯৫২ সালের ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি তারিখের রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর সরকারি দমননীতির ফলে আন্দোলন যখন স্তিমিত হয়ে পড়ে, সেই স্তিমিত আন্দোলনকে পুনরায় চাঙা করার ক্ষেত্রে যাঁরা বিশেষ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তমদ্দুন মজলিসের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর তাঁদের মধ্যে অন্যতম।

২৭ এপ্রিল ১৯৫২ তারিখে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের জেলা ও মহকুমা প্রতিনিধিদের যে সম্মেলন হয়, সে সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তানুসারে দেশব্যাপী রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে ব্যাপক জনমত তুলে ধরার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করার কথা থাকলেও নেতৃবৃন্দের সময়োপযোগী পদক্ষেপের অভাবে তা বিলম্বিত হয়। এসময় তমদ্দুন মজলিস ও অধ্যাপক আব্দুল গফুর এগিয়ে আসেন এবং দেশব্যাপী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে দেন। এজন্যে সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকায় কয়েক দফা জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত হয়। অতঃপর মুদ্রিত ফরম বিতরণ করা হয়। বস্তুত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে উজ্জীবিত করার জন্য তিনি এসময় নানারূপ প্রচেষ্টা চালান এবং তখন অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থায় ক্ষীয়মান আন্দোলনকে নবচেতনায় জাগরুক করতে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।

সূত্র: যারা অমর ভাষা সংগ্রামে, লেখক: এমআর মাহবুব

সম্পাদনায়: মনির ফয়সাল

পড়ুন আগের পর্ব: ভাষা সৈনিক (১৯) আবদুল গফুর