ময়মনসিংহে উদ্বোধনের ৪ বছর পরেও বিরান ভুমি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করার ৪ বছরে নির্ধারিত স্থানে উদ্বোধন ফলকও স্থাপন করা হয়নি। ইপিজেড যেন বিরান ভুমিতে পরিনত হয়েছে। জমির মামলা জটিলতায় আটকে আছে এর কার্যক্রম। দীর্ঘ সময়ে চলে গেলেও কাজ শুরু না হওয়ায় ইপিজেড আদৌ কি হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ স্থানীয়দের। তবে, ইপিজেড হলে জমি দিতে অনাগ্রহ নেই। তারা বলছে, ইপিজেড’র কার্যক্রম শুরু হলে ঈশ্বরগঞ্জ তথা পুরো ময়মনসিংহের চিত্র পাল্টে যাবে, উন্নত হবে জীবনমান, বেকারত্ব গোঁচবে হাজারো যুবকের।

আরো পড়ুন

সুত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর ময়মনসিংহে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন জেলার ঈশ্বরগঞ্জে চররামমোহন মৌজায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। তবে, সেই ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনেই থমকে আছে এর কাজ।

নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ মে ৪৮৭ দশমিক ৭৭ একর জমি ( ৪৫৪ দশমিক ৮৪ একর বন্দোবস্ত এবং ৩২ দশমিক ৯৩ একর অধিগ্রহণ) প্রস্তাব করা হয়। ওই বছরের আগস্টের শুরুতে প্রায় ৩৩ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য অনুমোদনও দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের আগস্টে বেজার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্থান পরিদর্শন করে। তখন কিছু জমি ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে যাওয়ায় নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ৪৯২ দশমিক ৩৬ একর নিয়ে নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধিগ্রহন শাখা থেকে ২০২০ সালের মার্চের এক চিঠিতে জানানো হয়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চররামমোহন মৌজায় ৪২৪ একর খাসজমি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হলেও তা নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। মামলা চলমান অবস্থায় সেই জমির বন্দোবস্ত দেয়ার সুযোগ নেই। পরে আবারও ২০২০ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নতুন একটি চিঠিতে ২০০ একর জমি নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়। ওই নির্দেশ অনুসারে গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়।

মামলা জটিলতা আইন অনুযায়ী নদীতে কারও জমি ভেঙে তলিয়ে গেলে এবং সেই জমি ৩০ বছরের মধ্যে জেগে উঠলে পুরোনো মালিক সেই চরের মালিক হবেন। ত্রিশ বছরের মধ্যে জেগে না উঠলে মালিক হবে সরকার। ব্রহ্মপুত্র নদের জেগে উঠা চরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরীর জন্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু, সেই জমি স্থানীয়রা নিজেদের দাবি করে ২০১৪ সালে ১৩টি মামলা করেন আদালতে। এসব মামলার কারণে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ আটকে আছে।

রাজিবপুর ইউনিয়নের মো. সাদেক আব্বাস বলেন, চররামমোহন মৌজায় ইপিজেড হবে, সেজন্য অনেকবার মাপ দেয়া হয়েছে। একবার এদিকে মাপ দেয় তো, আরেক বার ওই দিক দিয়ে মাপ দেয়। বারবার বলে ইপিজেড হবে, আদৌ হবে কিনা বা এর কাজ কতটুকু এগিয়েছে তার কিছুই আমাদের জানা নেই।

জমির মালিকানার দাবি করে মামলা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা মামলা করেছি ২০১৪ সালে, ইপিজেডের জমি অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে ২০১৬ সাল থেকে, অতএব ইপিজেড হবে শুনে আমরা মামলা করিনি। ইপিজেড হবে এমন আলোচনা হওয়ার আরও দুই বছর আগে আমরা মামলা করেছি। ইপিজেড হলে আমরা জমি ছেড়ে দিব। কারণ ইপিজেড হলে আমাদের এলাকার উন্নয়ন হবে, দেশের উন্নয়ন হবে। আমার ছেলে এখানে কাজ করবে। জমি দিতে আমাদের বাধা নেই। আমরা চাই আমাদের এলাকায় ইপিজেড হোক।

স্থানীয় স্বপন মিয়া বলেন, ৬ বছর হলো শুনছি এখানে ইপিজেড হবে। ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করে আমাদের জমি ভরাট করছে। এরপর আর কোন খবর নাই। ইপিজেড হবে কিনা তাও জানি না। ইপিজেড হলে এলাকার মানুষ চাকরী করবে এলাকার উন্নয়ন হবে এটাই তো আমরা চাই।

একই এলাকার আবদুস সাত্তার বলেন, ইপিজেড হবে শুনতে শুনতেই চলে গেল ৬ বছর। ইপিজেড’র জায়গায় মাপ দিতেই দেখছি। অন্য কোন কাজ হতে দেখিনি। ইপিজেড যত তাড়াতাড়ি হবে আমাদের জন্য ভাল। কারণ আমরাও এখানে কাজ করার সুযোগ পাব।

এবিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজা জেসমিন বলেন, তৃতীয় বারের মত ২০২০ সালে নতুন একটি চিঠিতে ২০০ একর জমি নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছিল। ওই নির্দেশ অনুসারে গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমির এই জটিলতা কাটিয়ে উঠলেই দ্রুত এর বাস্তবায়ন করা হবে।

হামিমুর রহমান