Bnanews24.com
Home » দুর্নীতি মামলায় বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপের জামিন নামঞ্জুর
চট্টগ্রাম টপ নিউজ সব খবর

দুর্নীতি মামলায় বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপের জামিন নামঞ্জুর

দুদকের মামলায় প্রদীপ ও তার স্ত্রী বিচার শুরু

বিএনএ, চট্টগ্রাম : দুর্নীতি মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ( ১০ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমান এই আদেশ দেন। ৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা আদালতে প্রদীপের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। ওইদিন তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল আজ।

দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, ৬ জানুয়ারি তার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। আজ দুপুর ১টার দিকে শুনানি হয়েছে।শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তিনি সরকারের কোটি কোটি আত্মসাত করেছেন। মামলার এজহার হয়েছে সংক্ষিপ্ত আকারে। কারণ সংক্ষিপ্ত সময়ে মামলা হয়েছে। অভিযোগপত্রে তার বিরুদ্ধে অনেক তথ্য-প্রমাণ থাকবে। বিশাল অভিযোগপত্র হবে।যার ফলে তদন্ত করতে সময় লাগছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বভুপ্রসাদ বিশ্বাস বলেন, আমরা গত বৃহস্পতিবার তার জামিনের আবেদন করেছিলাম। আজ শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন। আদালত বলেছেন যেহেতু মামলার তদন্ত চলছে, এখনও মামলার প্রতিবেদন আসেনি, তাই জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

শুনানির সময় আদালতে হাজির ছিলেন বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। তার স্ত্রী চুমকী কারণ পলাতক রয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালত দুদকের মামলায় প্রদীপ কুমার দাশকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

২০১৮ সালে প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকী কারণের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল তাদের দুইজনকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল দুদক। ১২ মে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ তারা পৃথক সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছিল।

গত বছরের ২৩ আগস্ট অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দীন।

মামলার এজাহারে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে সম্পদ ক্রয় করে ওসি প্রদীপ তার স্ত্রীর নামে রেখেছেন বলে অনুসন্ধানে দুদক তথ্য পেয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে একে অপরের সহযোগিতায় অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার সম্পদ জ্ঞাতসারে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর সম্পৃক্ত অপরাধ ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জনপূর্বক ওই অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে ভোগদখলে রাখে।

এ অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ধারা, ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ,২০১২ এর ৪ ( ২) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চট্টগ্রামে মামলাটি দায়ের করা হয়।

বিএনএনিউজ/আমিন