Bnanews24.com
চট্টগ্রাম সব খবর

গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সব অবৈধ ইটভাটা

গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সব অবৈধ ইটভাটা

বিএনএ,চট্টগ্রাম:  উচ্চ আদালতের নির্দেশ পেয়ে চট্টগ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত সকল ইটভাটা ভেঙে ফেলতে অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর। দ্বিতীয় দফার অভিযানের শুরুতেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সাতকানিয়ার তিনটি ইটভাটা। এনিয়ে মোট ১৮১ অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ৮০টি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ধারাবাহিক চলা অভিযানে আরও ১০১টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে পরিবেশ পরিবেশ অধিদফতর।

মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া ইটভাটাগুলো হল, থ্রি স্টার ইটভাটা প্রকাশ (সাবেক চেয়ারম্যান সরোয়ার জামালের ইটভাটা), ফাইভ বিএম ইটভাটা ও ফোর বিএম ইটভাটা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, আজ (মঙ্গলবার) সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সাতকানিয়ার ঢেমশা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানে তিনটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছ।

পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম জেলার উপ পরিচালক জমির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা আছে ১৮১ টি। গত ২১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম দফায় ৭৭টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ২৫টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাকি ৫২টির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। এখন দ্বিতীয় দফার প্রথম দিনে আজ মঙ্গলবার সাতকানিয়ায় তিনটি ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। বাকি ১০১টি অবৈধ ইটভাটায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে। আগামীকাল একই সাথে দুই উপজেলায় ইটভাটায় অভিযান চালানো হবে।

প্রসঙ্গত, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। সেই রিটের শুনানি নিয়ে সাতদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত সকল ইটভাটা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশসহ রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের সেসব নির্দেশনা অনুসারে চট্টগ্রাম প্রশাসন কার্যক্রম শুরু করলেও লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলাসহ কিছু জায়গায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধ না করে শুধুমাত্র জরিমানা আদায় করা হয়। কিন্তু আদালতের আদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করায় চট্টগ্রাম প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিল্লুর রহমান ও এসএম আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনেন রিটকারীরা।

গত ৩১ জানুয়ারি বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হাসান মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চলমান অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে আবারও নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। কিন্তু অবৈধ ইটভাটা বন্ধের এ পদক্ষেপ ঠেকাতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন চট্টগ্রামের ২৩ ইটভাটার ১৮ মালিক। তবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের সেই আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের এ আদেশ পেয়ে পরিবেশ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসন আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে চট্টগ্রামে সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা শুরু করেছেন।

বিএনএনিউজ/মনির