মিরসরাইয়ে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

বিএনএ, মিরসরাই: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় মিরসরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসের কার্যসূচি আরম্ভ হয়।  আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে আলোচনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

আরো পড়ুন

ঢাকায় আসলেন বেলজিয়ামের রানি

চট্টগ্রামে বইমেলা শুরু বুধবার

তুরস্কে ভূমিকম্পে নিহত ১০,বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মুক্তদিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন মিরসরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার কবির আহমেদ।  বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন রাশেদ, উপজেলা ডিপুটি কমন্ডার আবুল হাশিম, চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সহকারী কমান্ডার আহাম্মদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ৭ নম্বর কাটাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ূন, ৭ নম্বর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রফিকুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নৌ কমান্ডো এমদাদ হোসেন চৌধুরী, উপজেলা কমান্ডের সহকারী কমান্ডার এমএম কামাল পাশা, সাংবাদিক শারফুদ্দীন কাশ্মীর, ১১ নম্বর মঘাদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তোফায়েল উল্ল্যা চৌধুরী নাজমুল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর ছিলো আমাদের দেশের চুড়ান্ত বিজয়।  তার আগে ৮ ডিসেম্বর মিরসরাই হানাদার মুক্ত হয়।  ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর সকাল বেলা মিরসরাই সদরস্থ সুফিয়া রোড ওয়ার্লেস স্টেশন থেকে একটি পাক বাহিনীর জিপ তীব্র গতিতে বেরিয়ে যায় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই প্রচন্ড শব্দে কাঁপিয়ে ওয়ার্লেস স্টেশনটি ধ্বংস হয়ে যায়। পাক সেনাদের অবস্থান ছিল মিরসরাই হাই স্কুল, মিরসরাই থানা, মিরসরাই সি.ও. অফিস। মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে প্রায় দুই’শ মুক্তিযোদ্ধা মিরসরাই সদরের পূর্ব দিক ছাড়া বাকি তিন দিক ঘিরে পাক সেনাদের ওপর আক্রমন শুরু করেন। শুরু হয় পাক সেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি বিনিময়। বৃষ্টির মতো গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে পাক সেনারা পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা সতর্কভাবে শত্রুর অবস্থানের দিকে গিয়ে দেখলেন পাক সেনারা পালিয়ে গেছে। এরপর আর মিরসরাইয়ে কোন যুদ্ধ হয়নি। সে থেকে ৮ ডিসেম্বর মিরসরাইয়ে উদযাপিত হয়ে আসছে স্বাধীনতার হানাদার মুক্ত দিবস।

৮ ডিসেম্বর সকাল ১০টায় আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি নয়ন ধূম ও সদস্যরা, বিভিন্ন স্তরের মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, ছাত্র, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

বিএনএ/আশরাফ, এমএফ