Bnanews24.com
অপরাধ টপ নিউজ বাংলাদেশ সব খবর

অশ্লীল ভিডিওতে ঠাসা কথিত ‘শিশুবক্তা’রফিকুলের মোবাইল

অশ্লীল ভিডিওতে ঠাসা কথিত ‘শিশুবক্তা’রফিকুলের মোবাইল

বিএনএ ডেস্ক: কথিত শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানীকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন তল্লাশি করে পাওয়া গেছে বেশকিছু অশ্লীল ভিডিও।এমনকি ২৬ বছর বয়সী এই বক্তার বিয়ে নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের মতো বিয়ে নিয়ে অস্পষ্ট তথ্য দিয়েছেন তিনি। ২০১৯ সালের শেষের দিকে এক আত্মীয়কে বিয়ে করেছেন বলে জানান রফিকুল। কিন্তু গোপন ওই বিয়ে সম্পর্কে পরিবার ও এলাকাবাসী কিছুই জানে না। র‌্যাব সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে বুধবার (০৭ এপ্রিল) রফিকুল ইসলামকে নেত্রকোনা থেকে আটক করে র‌্যাব। এদিন বিকেলেই গাজীপুরের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর রফিকুলকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে র‌্যাব। সেসময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হলে  আপত্তিকর (পর্নো) ভিডিও পাওয়া যায়।

র‌্যাব জানায়, হেফাজতের সঙ্গে  সখ্যতা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে কটূক্তির বিষয়ে রফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ খায়রুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মামুনুল হকের মতো রফিকুলের বৈবাহিক জীবন অস্পষ্ট। ২০১৯ সালের শেষের দিকে  ভাবির এক চাচাতো বোন (নাম আসমা বেগম)কে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করেছেন। সে বিয়ের কাবিন বা সাক্ষী সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি রফিকুল।জিজ্ঞাসাবাদকালে তার মোবাইলফোনে বেশকিছু আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে কুৎসা, কটূক্তিমূলক বক্তব্য, ভিডিও ও ফেসবুক কনটেন্ট পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে র‌্যাব আইনগত পদক্ষেপ নেবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে কথিত ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলামকে বুধবার সকালে নেত্রকোণা থেকে আটক করে র‌্যাব।

৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় রয়েল  রিসোর্টে হেফাজত নেতা মওলানা মামুনুল হকসহ এক নারীকে অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। এতে মামুনুলের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল হকের সমর্থনে কথা বলেন রফিকুল ইসলাম।এর আগে ২৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের মোদিবিরোধী মিছিল থেকে তাকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছিল। পরে আবার ছেড়ে দেয়া হয়।

রফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণায়, থাকেন গাজীপুরে। তিনি নেত্রকোণার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদ্রাসার পরিচালক। রাজধানীর বারিধারায় মাদানী এভিনিউয়ের পাশে অবস্থিত জামিয়া মাদানীয়া বারিধারা মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিস পড়েছেন রফিকুল ইসলাম। এছাড়া, বিএনপি-জামায়াত জোটের শরিকদল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অঙ্গ সংগঠন যুব জমিয়তের নেত্রকোনা জেলার সহ-সভাপতি তিনি।

বিএনএনিউজ/আরকেসি