Bnanews24.com
কভার বিশেষ সংবাদ সব খবর

সিইউএফএল’র জমি দখলে নিল কেইপিজেড, যোগসাজসের অভিযোগ

সিইউএফএল’র জমি দখলে নিল কেইপিজেড, যোগসাজসের অভিযোগ

বিএনএ, ঢাকা, বিশেষ প্রতিনিধি: চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এর কোটি কোটি টাকার ভূমি দখল করে নিয়েছে বেসরকারি কোরিয়ান একপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) করপোরেশন (বিডি) লিমিটেড । আদালতের কোন নির্দেশনা ছাড়াই সিইউএফএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহীম ও উপব্যবস্থাপক কাজী আমিনুল হককে ম্যানেজ করে সিইউএফএল এর দখলে থাকা জমি দখল করে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারি, কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ-অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সুত্র জানায়, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এর সঙ্গে সিইউএফএল এর সাথে কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) করপোরেশন (বিডি) লিমিটেড এর সঙ্গে ৮ দশমিক ১৫ একর জমির রিরোধ রয়েছে। জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম সিইউএফএল-কে এলএ মামলা নং-১৯/৭৯-৮০ মূলে রাঙ্গাদিয়া বন্দর ও বৈরাগ মৌজায় উল্লেখিত জমি আরএস মূলে বরাদ্দ দেয়া হয়। একই জমি কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) করপোরেশন (বিডি) লিমিটেডকে বিএস মূলে বরাদ্দ দেয়া হয়, সরকারি প্রতিষ্টান সিইউএফএল এর আগের বরাদ্দ বাতিল না করে। বিষয়টি সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনকে জানায়।
সিইউএফএল’র জমি দখলে নিল কেইপিজেড, যোগসাজসের অভিযোগ

দীর্ঘদিন পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (এল.এ) চট্টগ্রাম এর সাথে কেপিজেড ও সিইউএফএল এর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে রিরোধপূর্ণ জায়গা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) সার্ভেয়ার নিয়োগের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ জমিটির সীমানা চিহ্নিত করার জন্য বলেন। এল.এ শাখার দুজন সার্ভেয়ারকে সীমানা চিহ্নিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। নির্দেশনা মোতাবেক বিরোধর্পূণ মৌজার বিএস ও আর. এস সিট, গেজেট এবং সার্ভে রিপোর্টের কপি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) চট্টগ্রাম বরাবরে প্রেরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।জেলা প্রশাসক কোন ধরনের সিদ্ধান্ত দেয়ার আগেই লকডাউন চলাকালীন কেপিজেড রাতারাতি সেখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দখলে নিয়েছে। কিন্তু চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহীম ও ভূমির দায়িত্বে থাকা উপব্যবস্থাপক কাজী আমিনুল হক নিধিরাম সর্দারের ভূমিকা পালন করছে।

৫ কোটি টাকার অধিক ক্ষতি

উল্লেখ, বিষয়টি ২০১৩-১৪ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্থান পায়। এতে বলা হয়েছে, সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ২ দশমিক ৮৯৪ একর জমি দখল ছেড়ে দিয়ে ৫ কোটি টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে। কেন ও কোন অবস্থার প্রেক্ষিতে সিইউএফএল এরকম রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্প কারখানার নিজস্ব সম্পত্তি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ছেড়ে দিয়ে বা ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা হয়েছে তার দায় নির্ধারণ ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে দায়ি ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। ফলে দিনদিন বেহাত হয়ে যাচ্ছে সিইউএফএল’ এর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি।

অভিযোগ রয়েছে, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহীম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রাষ্ট্রীয় সার কারখানাটির কোটি কোটি টাকার জমি দখল হয়ে গেছে। এখনো চলমান আছে। শুধু দাপ্তরিক চিঠি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে চলেছেন। সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ বেদখল হওয়া ভূমি উদ্ধারে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। উল্টো কখনো কখনো সহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে! শ্রমিক-কর্মচারিদের অভিযোগ, বিসিআইসি’ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, সিইউএফএল’ কর্তৃপক্ষের গাফেলতি, সিবিএ’র নিরবতার কারণে সিইউএলএল এর নিজস্ব জমি দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এভাবে দখল অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানটি এক সময় দেওলিয়া হয়ে যেতে পারে এমন শঙ্কায় শ্রমিক কর্মচারিরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিইউএফএল’ এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বিসিআইসি সিইউএফএল এর জমি বেদখলসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দূর্নীতি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। কমিটি সরেজমিনে পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। লকডাউনের কারণে তদন্ত কমিটি পরির্দশনে আসতে পারেনি। এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগণ সিইউএফএল এর জমি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
এ ব্যাপারে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহীম বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ)কে বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক একই জমি চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) কে আগে এবং কেইপিজেডকে পরে বরাদ্দ দিয়েছেন। এ বিষয়ে সিইউএফএল জেলা প্রশাসকের কাছে আপত্তি জানিয়েছে। আপত্তি নিস্পত্তি না হওয়া অবস্থায় বেসরকারি কোরিয়ান একপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড) করপোরেশন (বিডি) লিমিটেড রাস্তা নির্মাণ করতে চায়। বিষয়টি আনোয়ারা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে প্রতিকার চাওয়া হয়।উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এক বৈঠকে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রাস্তা নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে বলে জানান আব্দুর রহীম ।

বিএনএ/ ওয়াই এইচ/ এসজিএন