Bnanews24.com
Home » বিলাস বহুল জীপ আমদানি, ২৪কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিল শরিফ জহির
কভার ‌ব্রেকিং নিউজ(breaking news) সব খবর

বিলাস বহুল জীপ আমদানি, ২৪কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিল শরিফ জহির

অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির

বিএনএ, ঢাকা:

২৪ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা বিলাসবহুল রোলস রয়েস গাড়ি জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। জেড এন্ড জেড নামে চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এর একটি  প্রতিষ্ঠান এটি আমদানি করে। তৈরী পোশাক রপ্তানিকারক জয়েন্ট ভ্যাঞ্জার এ প্রতিষ্ঠানটি এখন অনন্ত  গ্রুপের সহযোগী  প্রতিষ্ঠান।

বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের যুগ্ম পরিচালক মো. শামসুল আরেফিন খান।

অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহির। তিনি ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক। তার বাবা প্রয়াত হুমায়ুন জহির।

অবৈধভাবে চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে বিলাসবহুল রোলস রয়েস গাড়িটি গোপনে রাজধানী ঢাকার বারিধারা আবাসিকে নিয়ে আসা হয়। ব্রিটেন থেকে আমদানী করা এই গাড়ির আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য ২৭ কোটি টাকা ।

উল্লেখ, জেড এন্ড জেড ইনটিমেট লি প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামের শিল্পপতি শওকত আলী প্রকাশ ডিসকো শওকত  প্রতিষ্ঠা করেন তার মেয়ে জারা, ছেলে জারান  এর নামে।  ২০১৮ সালে এটি কিনে নেন অনন্ত গ্রুপ।

আমদানি নথিতে ৬৭৫০ সিসির গাড়িটির দাম দেখানো হয়েছে ২ লাখ পাউন্ড। কিন্ত রোলস-রয়েস এর ওয়েব সাইটে গাড়িটির দাম দেয়া রয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০ পাউন্ড।

শুল্ক গোয়েন্দা জানায়, আটককৃত গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা। সিপিসি ১৭০ অনুযায়ী ২০০০ সিসি পর্যন্ত কার আমদানি পর্যন্ত শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাবে। তবে গাড়ির আমদানি কাগজপত্র ও জব্দ করা জীপটির বনেটে থাকা স্টিকার অনুযায়ী, রোলস রয়েস গাড়িটি ৬ হাজার ৭৫০ সিসির। সিপিসি অনুযায়ী গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবেন না।  সেক্ষেত্রে আমদানি শুল্ককর ৮৫০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে।

গত ২৭ এপ্রিল বিলাসবহুল গাড়িটি যুক্তরাজ্যের ভারটেক্স অটো লিমিটেড থেকে আমদানি করে বাংলাদেশের অনন্ত গ্রুপ ও হংকং এর যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জেড এন্ড জেড ইন্টিমেটস লিমিটেড। আমদানির পর থেকে গত ৪ জুলাই পর্যন্ত গাড়িটির কোন শুল্ক পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। এই সময়ের মধ্যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২৪ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেছে।

শামসুল আরেফিন খান জানান, গাড়িটি গত ১৭ মে রাতে ইপিজেড থেকে অবৈধভাবে অপসারণ করে ঢাকার বারিধারাস্থ অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহিরের বাড়িতে  নিয়ে আসা হয়। গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দার একাধিক দল বেআইনিভাবে অপসারিত গাড়িটির অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে।

এক পর্যায়ে গত সোমবার জানা যায়, গাড়িটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এমডির গুলশানের বারিধারার নিজ বাসভবনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আজ অভিযান চালিয়ে গ্যারেজে থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা গাড়িটি শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাবে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মশিউদ্দিন বিন মেসবাহ বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) কে জানান, যথাযথ বিধি বিধান অনুসরণ করে বিলাস বহুল গাড়িটি আমদানি করা হয়েছে। তবে শুল্কায়ন হয়নি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফখরুল আলম  বলেছেন, রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে। সাধারণত ইপিজেডের পণ্য বন্দর থেকে ইপিজেডে যাওয়ার পর সেখানে শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। কিন্তু সেখান থেকে কীভাবে ঢাকায় গেল এবং শুল্কায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হবার আগেই তা মালিকপক্ষের হাতে পৌঁছাল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, শরীফ জহিরের এক সন্তান ফেসবুকে গাড়িটির ছবি আপলোড করে। যা পরবর্তীতে শুল্ক গোয়েন্দার নজরে আসে। ফেসবুকে দেয়া ছবির সূত্র ধরে কার ঘোষণায় আমদানী করা ৬৭৫০ সিসির জীপটির অবস্থান শানাক্ত করে। বাংলাদেশে এধরেনর বিলাসবহুল জীপ দ্বিতীয়টি নেই!

কাস্টমস সূত্র জানায়, জীপটি শুল্ক মুক্ত সুবিধা পেতে অনন্ত গ্রুপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর কাছে আবেদন করেছে। কিন্তু মালিকানা পরিবর্তন ,অতিরিক্ত সিসি এবং শুল্কায়ন না করে সিপিজেড থেকে লুকিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ায় এ সুবিধা পাচ্ছে না। ফলে শুল্ক বিধি অনুযায়ী অন্তত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ জহিরকে ৪৮ কোটি বা ৭২ কোটি টাকা জরিমানা প্রদান করতে হবে। অন্যথায় জীপটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।

বিএনএ/এমএফ