যুক্তরাজ্যের তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস

বিএনএ ডেস্ক: মার্গারেট থ্যাচার ও থেরেসা মের পর যুক্তরাজ্যের তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন লিজ ট্রাস। প্রতিদ্বন্দ্বী ঋষি সুনাককে হারিয়ে দেশটির ইতিহাসের তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন তিনি। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে এরই মধ্যে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ঋষি।

আরো পড়ুন

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফলে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। মোট ভোটের ৫৭ শতাংশ পেয়ে জয়লাভ করেছেন লিস ট্রাস। ভারতীয় বংশদ্ভুত ঋষি সুনাক পেয়েছেন ৪৩ শতাংশ ভোট।

কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান স্যার গ্রাহাব ব্রাডি জানিয়েছেন, লিজ ট্রাস পেয়েছেন ৮১ হাজার ৩২৬টি ভোট। অন্যদিকে সুনাক পেয়েছেন ৬০ হাজার ৩৯৯টি। সব সদস্যের মধ্যে ৮২.৬ ভাগ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন ট্রাস। ভাষণে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। বলেন, কোভিড ভ্যাকসিন, ব্রেক্সিট এবং পুতিনের ইস্যুতে আপনার নেয়া পদক্ষেপ কিয়েভ থেকে কার্লাইল পর্যন্ত প্রশংসিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি কনজারভেটিভ হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলাম, কনজারভেটিভ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করে যাবো।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস এবং বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল হবে। এ দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাবেন ট্রাস।

১৬ জন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ
রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

১৯৫২ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সিংহাসনে থাকা ব্যক্তিদের একজন তিনি। রানি রাষ্ট্রপ্রধান হলেও যুক্তরাজ্যের সরকারব্যবস্থার প্রধান প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁর ৭০ বছরের শাসনামলে যুক্তরাজ্যে একে একে ১৬ জন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন।

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের শাসনামলে ১৬ জন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ১১ জন কনজারভেটিভ পার্টির, বাকি পাঁচজন লেবার পার্টির। ১৯৫২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যখন সিংহাসনে বসেন, তখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা উইনস্টন চার্চিল। তিনি ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সরকারপ্রধান ছিলেন। এরপর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন একই দলের অ্যান্থনি ইডেন। তিনি সরকারপ্রধান থাকেন ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত।

১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হ্যারল্ড ম্যাকমিলান। ১৯৬৩–৬৪ সালে এ পদে আসেন অ্যালেক ডগলাস-হোম। দুজনই কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ছিলেন। ১৯৬৪ সালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হন লেবার নেতা হ্যারল্ড উইলসন। ১৯৭০ সালে উইলসনের স্থলাভিষিক্ত হন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা এডওয়ার্ড হিথ। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

হিথের পর ১৯৭৪ সালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদে আবারও আসেন লেবার নেতা হ্যারল্ড উইলসন। দুই বছর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন একই দলের জেমস ক্যালাঘান। তিনি ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত সরকারপ্রধান ছিলেন। একই বছর যুক্তরাজ্যের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পান মার্গারেট থ্যাচার। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা থ্যাচারের ১১ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব শেষে ১৯৯০ সালে এ পদে বসেন জন মেজর। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা মেজর ১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সরকারপ্রধান ছিলেন।

১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন টনি ব্লেয়ার। লেবার পার্টির নেতা ব্লেয়ার ২০০৭ সাল পর্যন্ত ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ছিলেন। ব্লেয়ারের স্থলাভিষিক্ত হন গর্ডন ব্রাউন। লেবার পার্টির এই নেতা ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সরকারপ্রধান ছিলেন। এরপর কনজারভেটিভ পার্টির ডেভিড ক্যামেরন ক্ষমতায় ছিলেন ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত।

ক্যামেরনের উত্তরসূরি থেরেসা মে। ২০১৬ সালে কনজারভেটিভ পার্টির এ নেতা যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি দেশটির দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯ সালে মে বিদায় নিলে প্রধানমন্ত্রী হন একই দলের বরিস। দুই বছরের কিছু বেশি সময় পর এখন বরিসের বিদায়ঘণ্টা বেজেছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ট্রাস। আর এর মধ্য দিয়ে ৯৬ বছর বয়স্ক রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁর শাসনামলে একে একে যুক্তরাজ্যের ১৬ জন প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেলেন।

বিএনএ/এ আর