মওদুদ আহমদের শারীরিক অবস্থার অবনতি

বিএনএ,ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তার রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেছে। তার চিকিৎসার জন্য প্রফেসর শাহাবুদ্দিন আহমেদ তালুকদারের নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন

গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনএ কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।তিনি জানান, দুপুরে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা  শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে ডেকে নিয়ে জানান ব্যারিস্টার মওদুদের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।

গত ২৯ ডিসেম্বর থেকে মওদুদ আহমেদকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট)ভর্তি করানো হয়।সেখানে প্রফেসর শাহাবুদ্দিন আহমেদ তালুকদারের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। আর সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।ভর্তির পর দুবার তার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।প্রতিবারই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলীয় নেতারা তার খোঁজ-খবর রাখছেন।মওদুদ আহমদের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার ও দল।

মওদুদ আহমদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম।অষ্টম জাতীয় সংসদে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য তিনি।

১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন মওদুদ আহমেদ।তার বাবা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং মা বেগম আম্বিয়া খাতুন।ছয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ আহমেদ চতুর্থ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান পাশ করে লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। লন্ডনে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে নিজেকে আইন পেশায় নিয়োজিত করেন।এছাড়া ব্লান্ড ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন তিনি।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ব্যারিস্টার মওদুদ। ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

১৯৭৭ থেকে ৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ।১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়।১৯৮১ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার এক বছরের মধ্যে এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এইচ এম এরশাদ।১৯৮৫ সালের নির্বাচনে মওদুদ আহমেদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

এর এক বছর পর ১৯৮৬ সালে তাকে আবারও উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়।১৯৮৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।১৯৮৯ সালে তাকে শিল্প মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং তাকে উপ-রাষ্ট্রপতি করেন এইচ এম এরশাদ।১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় এরশাদ সরকার।এরপর জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ সালের আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মওদুদ আহমেদ।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বিএনপিতে যোগ দেন মওদুদ আহমেদ।২০০১ সালে নির্বাচনে  বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পাঁচবারই নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে নির্বাচিত হন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

বিএনএনিউজ/আরকেসি