Bnanews24.com
টপ নিউজ বাংলাদেশ সংগঠন সংগঠন সংবাদ সব খবর

পরিচয় মিলেছে মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারীর

পরিচয় মিলেছে মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা নারীর

বিএনএ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে থাকা সেই নারীর সঠিক পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা (৩০)। তিনি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামার গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওলিয়ার রহমান ওরফে ওলি মিয়ার মেজ মেয়ে। ওলিয়ার রহমান কামার গ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

তবে, জান্নাতের আগে বিয়ে হয়েছে এবং দুটি সন্তান আছে, এ কথা সবাই জানলেও তার দ্বিতীয় বিয়ের কোনও খবর জানে না এলাকাবাসী।

মামুনুল হক ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে নাম আমিনা তৈয়বা বললেও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম জান্নাত আরা ঝর্না।

গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম খান জানান, জান্নাতের পিতা ওলিয়ার রহমান একজন সহজ সরল মানুষ। কামারগ্রাম চার নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার মেয়ের আগে বিয়ে হয়েছে। সেই ঘরে দুই ছেলেও আছে, পরে বিয়ে হয়েছে কিনা তা জানা নেই।

জান্নাতের বাবা ওলিয়ার রহমান ও মা শিরীনা বেগম জানান, নয় বছর বয়সে হাফেজ শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের মেয়ের বিয়ে হয়েছিল।বাগেরহাটের কচুড়িয়া এলাকায় তার বাড়ি। তাদের আব্দুর রহমান(১৭) ও তামীম (১২) নামে দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।পারিবারিক কলহের জেরে আড়াই বছর আগে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।এরপর পরিবার থেকে পাত্র দেখে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।কিন্তু মেয়ে জানায় তার বিয়ে হয়ে গেছে।তবে কার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে পরিবারকে জানায়নি।শুধু একবার ভিডিও কলে তার দ্বিতীয় স্বামীকে দেখিয়েছিলেন বলে জানান জান্নাতের বাবা-মা।

শনিবার(৩ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টের পঞ্চম তালার ৫০১ নম্বর কক্ষে নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে স্থানীয়রা।মামুনুল অবরুদ্ধ এমন খবর শুনে  সন্ধ্যার পর সেখানে জড়ো হতে থাকেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে রয়েল রিসোর্টে হামলা চালায় তারা।

এতে রিসোর্টের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম, এসিল্যান্ড গোলাম মোস্তফা মুন্না, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশাররফ হোসেন, সোনারগাঁ থানার ওসি (তদন্ত) তবিদুর রহমানসহ সাংবাদিকরা। একপর্যায়ে মামুনুল হককে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান বিক্ষুব্ধ হেফাজতের কর্মীরা। পরে সড়কে  মিছিল করেন এবং যানবাহন ভাংচুর তারা।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুনুল হক বলেছেন, অবসরকালীন সময় কাটাতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছেন। ওই নারীকে দুই বছর আগে বিয়ে করেছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, মামুনুল হকের ওপর হামলার অভিযোগে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতার নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে হেফাজতে ইসলাম।রোববার (০৪ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় এ অভিযোগ দাখিল করা হয়। থানায় এ লিখিত অভিযোগ দেন হেফাজত ইসলাম ঢাকা মহানগরের ১০ নম্বর অঞ্চলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি ফয়সাল মাহমুদ।

বিএনএনিউজ/আরকেসি