Bnanews24.com
Home » চাহিদার চেয়ে বেশি আছে কোরবানির পশু
কভার জাতীয় বাংলাদেশ

চাহিদার চেয়ে বেশি আছে কোরবানির পশু

কোরবানি

বিএনএ ডেস্ক, ঢাকা: কোরবানিতে যত পশুর চাহিদা হওয়ার কথা, চলতি বছরে তার চেয়ে ২০ লাখ কোরবানির পশু বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তাই তারা দাবি করছে, এবারের ঈদে চাহিদার চেয়ে কোরবানি পশুর বেশি থাকায় কোনো সঙ্কট হবে না।

আর অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভারত, মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ থাকলে নিজেদের পশু দিয়েই কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তবে বিশ্ববাজারে গমের দাম বৃদ্ধিতে কোরবানি পশুর দাম বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেক বাজার বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (খামার) জিনাত সুলতানা বলেন, গত দুই বছর করোনার প্রকোপের কারণে পশু কোরবানি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। যদিও এবার নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, তবু আমরা আশা করছি এবার কোরবানি দেওয়ার হার বাড়তে পারে। তবে চাহিদা বাড়লেও দেশে কোরবানির পশুর কোনো সঙ্কট হবে না, বরং কোরবানি দেওয়ার পরও উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ২০ লাখ পশু।

তিনি আরও বলেন, খামারিরা যাতে তাদের পশুগুলো বিক্রি করতে পারে তার জন্য অনলাইনে পশু বিক্রিতে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেট প্লেস থেকে শুরু করে খামারিরাও নিজ উদ্যোগে অনলাইনে পশু বিক্রির উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকেও এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। গতবছরও অনলাইন প্ল্যাটফরমে কোরবানির পশু বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্যোগের কারণে গতবছর অনলাইনে অনেক পশু বিক্রি হয়।

এক হিসেবে দেখা গেছে, গত ৬ বছরের ব্যবধানে দেশে বেড়েছে প্রায় ৬ লাখ গরু-ছাগলসহ কোরবানিযোগ্য অন্যান্য পশুর সংখ্যা। তবে আগের তিন বছরের চেয়ে সর্বশেষ গত দুই বছর কোরবানি দেওয়ার সংখ্যা কমেছে ১৫ লাখেরও বেশি। মূলত মহামারি করোনার কারণেই গত দুই বছর কোরবানি দেওয়ার হার কমেছে। গতবছর কোরবানি দেওয়া হয় ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি পশু। তবে এ বছর পরিস্থিতি গত দুই বছরের চেয়ে ভালো হওয়ায় এবার কোরবানি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি পশু। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কোরবানির জন্য গরু, ছাগল, ভেড়া ও উট মিলিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পশুরহাটের সংখ্যা। বেসরকারি উদ্যোক্তার পাশাপাশি সরকারিভাবে অনলাইন প্ল্যাটফরমে কোরবানির পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি। এরমধ্যে প্রায় ২৮ লাখ গবাদি পশু বিক্রি হয়নি।

খামারি-ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়ার সংকট নেই। ঈদুল আজহা ২০২২ উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশের ৮টি বিভাগে খামার রয়েছে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৩২টি।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে ৬টি কোরবানির পশুরহাটে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবস্থা করেছে ডিএনসিসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক। হাটগুলো হলো-গাবতলী, বসিলা, আফতাবনগর, ভাটারা, কাওলা ও উত্তরা ১৭নং সেক্টরের পশুরহাট।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পবিত্র ঈদুল আজহায় পশুর হাটে নগদ অর্থের লেনদেন ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। হাটকে কেন্দ্র করে বেড়ে যায় জাল নোট, ছিনতাই ও বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড। আসন্ন ঈদুল আজহায় এসব সমস্যা এড়াতে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ স্মার্ট হাট’ পাইলট প্রকল্পটি চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

প্রকল্পটি পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যৌথভাবে কাজ করছে। সার্বিক সহায়তা করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন।

বিএনএনিউজ২৪/ এমএইচ