28 C
আবহাওয়া
৬:১৯ পূর্বাহ্ণ - এপ্রিল ১৩, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » দেশ থেকে এক টাকাও নেননি সাবেক ভূমিমন্ত্রী !

দেশ থেকে এক টাকাও নেননি সাবেক ভূমিমন্ত্রী !


বিএনএ,ডেস্ক : লন্ডনে ব্যবসা ও সম্পদ থাকার কথা স্বীকার করলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। তবে তিনি দাবি করেছেন, বিদেশে সম্পদ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা নেননি। শনিবার (২ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তার বাবা ১৯৬৭ সাল থেকে লন্ডনে ব্যবসা করেছেন। তিনি নিজে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করে ১৯৯১ সাল থেকে সেখানে ব্যবসা করেছেন। এরপর তিনি লন্ডনে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন।

৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সাবেক ভূমি প্রতিমন্ত্রীর ‘নির্বাচনী হলফনামায়’ বিদেশের মাটিতে থাকা সম্পদের বিবরণ না থাকার বিষয়টি প্রকাশিত হলে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

হলফনামায় কেন সম্পদের উল্লেখ করেন নি, এই প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন হলফনামায় ‘বিদেশে সম্পদ উল্লেখ করার কোনো কলাম নেই।’

তিনি বলেন, “বিগত নির্বাচনগুলিতে যেভাবে হলফনামা পূরণ করেছেন, এই নির্বাচনেও সেভাবেই করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, বিদেশে বিনিয়োগ করার নিয়ম নেই। একজন ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি বিদেশে নিয়ে যেতে পারেন না। এর বেশি নিতে হলে ব্যাংকিং পদ্ধতিতে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতিক্রমে নিতে হয়।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী দাবি করেন তিনি তার বাংলাদেশের ব্যবসা ও যুক্তরাজ্যের ব্যবসা আলাদাভাবে পরিচালনা করেন এবং দুই দেশেই নিয়ম অনুযায়ী ট্যাক্স দেন। বিদেশে তার আলাদা আয়কর নথি আছে। আর বিদেশে যে সম্পদ আছে, এর পেছনে ব্যাংক ঋণ আছে।

মন্ত্রী থাকার সময় লন্ডনে ব্যবসার বিপুল সম্প্রসারণের বিষয়ে সাইফুজ্জান বলেন, করোনা মহামারী তার জন্য সুযোগ হয়ে আসে। সে সময় লন্ডনে বাড়ির দাম পড়ে যায়। ব্যাংক ঋণের সুদ কমে যায়। আর সে সময়ই তিনি ঝুঁকি নিয়ে লাভবান হয়েছেন।

মন্ত্রী থাকা অবস্থায় এক টাকার দুর্নীতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল গঠনের কথাও বলেন । কোনো দুর্নীতি প্রমাণ করতে পারলে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন তিনি।
নিজেকে আগে ব্যবসায়ী পরে রাজনীতিবিদ বলে জানান সাইফুজ্জামান চৌধুরী। সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তিনি নিজের নামে সম্পদ করেছেন জেনেবুঝে। কারণ তার সন্তানদের মালিক হওয়ার মতো বয়স ছিল না। তার বিদেশের সম্পদের পরম্পরা আছে। সুতরাং, নিজের নামে সম্পদ করেছেন জেনেই নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার ও হলফনামায় সম্পদের বিবরণ না দেওয়ার অভিযোগে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পরে নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি ডাক পাননি। তবে তাকে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত করার জন্য ‘হাই পাওয়ার কমিটি’ গঠন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি এক টাকার দুর্নীতি করেছি তা দেখাতে পারলে এমপি পদ ছেড়ে দেবো।”

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬শে ডিসেম্বর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ. টিআইবি এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, বাংলাদেশের একজন মন্ত্রীর বিদেশে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকার ব্যবসা রয়েছে এবং তিনি নির্বাচনী হলফনামায় সেই তথ্য দেননি।

টিআইবি সংবাদ সম্মেলনে ঐ মন্ত্রীর নাম প্রকাশ না করলেও একদিন পর বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্টে প্রকাশিত হয় যে ঐ মন্ত্রী ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সেসময় বলেছিলেন, যে উৎসগুলো থেকে তারা মন্ত্রীর এসব সম্পদের বিষয়ে জানতে পেরেছেন তা উন্মুক্ত ওয়েবসাইট। সেখানে শুধু সম্পদের হিসাব রয়েছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের বাহিরে তার পরিবারের ট্রেডিং, রেস্টুরেন্ট, সুপার মার্কেট, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা ছিল। আর এসব ব্যবসার শুরু এবং প্রসার বাংলাদেশের বাহিরে হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে এসব ব্যবসার কোনো আর্থিক সংযোগ নেই।

অর্থাৎ, তার দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে কখনো কোনো টাকা বিদেশে নিতে হয়নি তার। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি নেওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইটে গিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে অন্তত ছয়টি কোম্পানি পাওয়া যায় যার সবগুলোই আবাসন ব্যবসার সাথে যুক্ত।

এগুলো হচ্ছে, জেডটিজেড প্রপার্টি ভেনচার্স লিমিটেড, আরামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড, রুখমিলা প্রপার্টিজ লিমিটেড, সাদাকাত প্রপার্টিজ লিমিটেড, জেবা প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং জারিয়া প্রপার্টিজ লিমিটেড। এই সবগুলো কোম্পানিরই পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

এর মধ্যে শুধু রুখমিলা প্রপার্টিজ লিমিটেড এর পরিচালক পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কোম্পানিটির ঠিকানা লন্ডনের ওয়ারউইক লেন। বাকি সবগুলো কোম্পানির ঠিকানা লন্ডনের ডেভনশায়ার স্কয়ার উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনএ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী, ওজি/হাসনা

Loading


শিরোনাম বিএনএ