Bnanews24.com
Home » বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র-পর্ব-৭৮
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র সব খবর

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র-পর্ব-৭৮

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র

সংবাদ পর্যালোচনা
২১ জুলাই, ১৯৭১
একটি ছোট্ট খবর। পাকিস্তানী জঙ্গীশাহী শীঘ্রই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার করবে। কখন, কোথায়, কিভাবে এ বিচার প্রহসন জমে উঠবে, খবরে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই। তবে প্রকাশিত খবরে এটুকু স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে যে, ইয়াহিয়া খানের জঙ্গী সরকার স্বাধীন বাংলার জনক শেখ মুজিবের বিচারের আয়োজন করছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ -রাষ্ট্রদ্রোহিতা।

ভ্রান্তি বিলাসের কি বিচিত্র পুনরাবৃত্তি!! সত্যকে, ন্যায়কে, বিবেককে টুঁটি টিপে হত্যা করে ক্ষমতার গদি আঁকড়ে থাকবার কি দু:সাহসিক প্রয়াণ! কি সীমাহীন স্পর্ধা! এতো নতুন কিছু নয়। বিচারের নামে প্রহসনের জালিয়াতি মঞ্চ সাজিয়ে শেখ মুজিবের কন্ঠকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেবার এমনি এক স্পর্ধিত অপচেষ্টা ছিল আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। ১৯৬৬ সালে বীর প্রসবিনী বাংলার অগ্নিসন্তান শেখ মুজিব যেদিন ছয়দফা দাবি পেশ করেন, সেদিই ত্রাসে আতঙ্কে থরথর করে কেঁপে উঠেছিলো পশ্চিমা শাসককূলের তখতে তাউস। আর তাই সেদিনের গণবিরোধী শাসক সামরিক জান্তার মুখপাত্র প্রেসিডেন্ট আইয়ুবের কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছিলো গৃহযুদ্ধ ও অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগের হুমকী। উদ্ধত রাজরোষ জেল-জুলুম আর বক্ষভেদী বুলেট হয়ে নেমে এসেছিলো আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মীদের উপর- স্বাধীনচেতা বাঙালী জাতির উপর। কিন্তু তাতেও যখন ফল হয়নি, যখন বাংলার গণশক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে আইয়ুবের রণহুঙ্কার বিধবার অসহায় আর্তনাদের মত বাতাসে মিলিয়ে গেছে, আইয়ুবশাহী শেষরক্ষার জন্য সাজিয়েছিল মিথ্যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা।

উদ্দেশ্য ছিল, ভাড়াটিয়া জর্জ, উকিল আর সাক্ষীসাবুদের সযত্নসৃষ্ট ষড়যন্ত্রের জালে বেঁধে শেখ মুজিবকে চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়া। কুর্মিটোলার সেনানিবাসে দিনের পর দিন সেই সাজানো-গুছানো মামলার বিচার প্রহসন চলেছে। ভাড়াটিয়া সাক্ষীদের মিথ্যা জবানীর রেকর্ডপত্র স্তূপীকৃত হয়ে উঠেছে। গোটা সরকার তার সর্বশক্তি দিয়ে শেখ সাহেবকে আটকাবার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সকলি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। বাংলার মানুষ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে মনে করেছে তাদের নিজেদেরই বিরুদ্ধে, সমগ্র বাংলার বিরুদ্ধে এক সুগভীর ষড়যন্ত্র। আর তাই সর্বশক্তি নিয়ে তারা রুখে দাঁড়িয়েছে এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে, আইয়ুবশাহীর বিরুদ্ধে। শেখ মুজিবের পিছনে কাতারবন্দী বাংলার মানুষের সেই প্রতিরোধ আন্দোলনের স্রোতের মুখে খুলে গেছে জেলের তালা, খড়কূটোর মত ভেসে গেছে ক্ষমতাদর্পী শাসকের মসনদ আর আইয়ুব-মোনেম নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে।

(তথ্যসুত্র : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র -৫ম খন্ড। পৃষ্ঠা নং ১০৪) চলবে।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র-পর্ব-৭৭

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র-পর্ব-৭৬

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র-পর্ব-৭৫

সম্পাদনা: এইচ চৌধুরী, গ্রন্থনায়: ইয়াসীন হীরা