Bnanews24.com
টপ নিউজ ভাষা সৈনিক পরিচিতি সব খবর

ভাষা সৈনিক (১৬) মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

ভাষা সৈনিক মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম-হাজী শরাফত আলী খান।

১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। পরে টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে সেখানকার অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে ব্রহ্মপুত্র নদের উপকুলে বন্যা কবলিত ভাসানচরের কৃষকদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ করেন এবং এজন্যে তাঁকে জনসাধারণ ‘ভাসানী’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

আসাম সরকার আইন করে ভৌগোলিক সীমারেখা টেনে দিয়ে সেদেশে বাঙালিদের বসতি স্থাপনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে এবং এভাবে সেখানে ‘বাঙালি খেদাও’ আন্দোলন শুরু হয়। মাওলানা ভাসানী এসময় বাঙালিদের পাশে ছিলেন। তিনি ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং অচিরেই আসাম শাখার সভাপতি হন।

আসামে বাঙালিদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কারণে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী স্যার মোঃ সাদউল্লাহর সাথে মওলানা ভাসানীর সংঘর্ষ হয় এবং তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪৭ সালের শেষের দিকে তিনি চিরতরে আসাম ছাড়ার অঙ্গীকার করে জেল থেকে মুক্তিলাভ করেন।

১৯৪৮ সালের শেষের দিকে মাওলানা ভাসানী পূর্ববাংলা আসেনে। মাওলানা ভাসানী পূর্ব-পাকিস্তান আগমনের পূর্বেই ১৯৪৭-৪৮ সালে ভাষা-আন্দোলন সংগঠিত হয়। মাওলানা ভাসানী ১৯৪৯ সালে পুনরায় আসাম গেলে সেখানে তাঁকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি ঢাকা আসেন। সে বছরই ২৩-২৪ জুন মুসলিম লীগের ক্ষুব্ধ কর্মীরা এক সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করেন। মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি ও শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠনে এ.কে. ফজলুল হকের সাথে মাওলানা ভাসানী যুক্তবিবৃতি প্রদান করেন। ১৯৫৬ সালে কেন্দ্রে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী মুসলিম লীগ কোয়ালিশন সরকার গঠন করলে সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রিয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আতাউর রহমান খান পূর্ব-বাংলার প্রধানমন্ত্রী নিযু্ক্ত হন। এসময় পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নে সোহরাওয়ার্দীর সাথে মাওলানা ভাসানীর মতপার্থক্য ঘটে।

সূত্র: যারা অমর ভাষা সংগ্রামে, লেখক: এমআর মাহবুব

সম্পাদনায়: মনির ফয়সাল

পড়ুন আগের পর্ব: ভাষা সৈনিক (১৫) আব্দুল আলিম চৌধুরী, ডা., শহীদ বুদ্ধিজীবী