২০২১ সালকে স্বাগত জানাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ

২০২১ সালকে স্বাগত জানাল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ

টপ নিউজ বিশেষ সংবাদ সব খবর

বিএনএ,ডেস্ক:অতীতের সকল দুঃখ-বেদনা ভুলে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন আশা নিয়ে ইতোমধ্যে ২০২১ সালকে বরণ করে নিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ।ইউরোপে করোনায় মলিন খ্রিষ্টীয় নতুন বছর বরণ উৎসব।বেশিরভাগ দেশেই মানুষকে রাস্তায় ভিড় করতে দেয়নি পুলিশ।ছিল না কোন বর্ণিল আয়োজন।করোনার নতুন ধরনের কারণে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশই ছিল আঁধারে ঢাকা।নানা বিধি-নিষেধের বেড়াজালে মলিন হয় এবারের উদযাপন।এরমধ্যে সবার আগে আতশবাজির কারিশমায় নতুন বছরকে বরণ করে নেয় নিউজিল্যান্ডবাসী।এর কিছুক্ষণ পরই অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছিল চোখ ধাঁধাঁনো আতশবাজি।বরাবরের মতো সিডনির হারবার ব্রিজে চোখ ধাঁধানো আতশবাজির দেখা মেলে।

শত বছরে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনে অনুমতি পাননি সাধারণ মানুষ।এখানে নতুর বছর উদযাপনে অনুমতি পান ফ্রন্টলাইনাররা।

সংক্রমণ এড়াতে কোথাও কোথাও বিধিনিষেধের খড়গ নেমে এলেও উৎসবে মেতে ওঠে জাপান, সাউথ কোরিয়া, হংকং এবং করোনার উৎপত্তিস্থল চীন।

নিউজিল্যান্ড:-আন্তর্জাতিক মান সময়ের তারতম্যের কারণে বিশ্বের প্রথম শহর হিসেবে ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার সুযোগ পায় নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড শহর।ঘড়িতে স্থানীয় সময় রাত ১২টা বাজতেই প্রায় এক হাজার ফুট উচ্চতার স্কাই টাওয়ারের বর্ণিল আতশবাজির মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয় নিউজিল্যান্ডবাসী।করোনার কড়াকড়ির মধ্যেই আলোর উৎসব দেখতে জড়ো হন বহু মানুষ।

অস্ট্রেলিয়া:-খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের প্রথম প্রহরে আতশবাতির রঙে রঙে ছেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার আকাশও। ঐতিহ্যবাহী সিডনি হারবারের মনোমুগ্ধকর এ আতশবাজির আয়োজন করা হয়।তবে, সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে নিষিদ্ধ ছিল জনসমাগম।

চীন:-করোনার উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে জমকালো আয়োজনের মধ্যদিয়ে ২০২১ সালকে বরণ করে নেয়া হয়েছে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসমাগমে বিধিনিষেধ থাকলেও সেখানে ছিল উল্টো চিত্র। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে শহরটিতে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ।উহান ছাড়াও চীনের অন্যান্য শহরেও নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া করা হয়।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, উহানের হ্যানকক কাস্টমস ভবনের সামনে জড়ো হয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় হাজারো মানুষ। বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও ছিলনা সামাজিক দুরত্ব।উহানবাসী আকাশে বেলুন উড়িয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।

মধ্যপ্রচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত:-আকাশজুড়ে যেন শুধু আলোরই খেলা ছিল। ঘড়ির কাঁটায় রাত বারোটা এক মিনিট বাজতেই আতশবাজি আর আলোকসজ্জায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে দুবাইয়ের অন্যতম উঁচু ভবন বুর্জ খলিফা।নানা বিধিনিষেধ দিয়েও মনমুগ্ধকর এ আয়োজন থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত রাখা যায়নি ।

নর্থ কোরিয়া:- নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইংরেজি নতুন বছরকে নর্থ কোরীয়রাও বরণ করে নিয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে জড়ো হয় কয়েক হাজার মানুষ। জমকালো আতশবাজি প্রদর্শনী উপভোগ করেন তারা।

থাইল্যান্ড:-থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও জমকালো আলোক প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হয়। আর তা দেখতে শহরের চাও ফ্রায়া রিভারে ভিড় করেন বহু মানুষ।

হংকং:-খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের উৎসবে মেতে উঠে হংকংয়ের বাসিন্দারাও।চোখ ধাধানো আতশবাজি ও বর্ণিল আলোকসজ্জার মধ্যদিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হয়।মনোমুগ্ধকর এ আয়োজন দেখতে জড়ো হন খালো মানুষ।আতশবাজির রঙিন ছটায় নেচে-গেয়ে উৎসবে মেতে উঠেন তারা।এছাড়া তাইওয়ানের ইপেই ওয়ানও ওয়ান টাওয়ারেও ইংরেজি নতুন বছরের ক্ষণে চোখ ধাঁধানো আলোক সজ্জা দেখা যায়।

এদিকে, বর্ণিল আতশবাজি আর ফানুস উড়িয়ে নতুন প্রত্যাশা আর খুশির বার্তা নিয়ে ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে বাংলাদেশের মানুষ।যদিও এ বছর করোনার মহামারির আর নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সব ধরণের আয়োজনেই ছিল নিষেধাজ্ঞা।নিষেধাজ্ঞার কারণে এবার বড় বড় হোটেলগুলোতেও ছিলোনা তেমন কোন আয়োজন। এরপরও বর্ষবরণের উল্লাসে মাতে দেশবাসী।ঘড়ির কাটায় তখন রাত ১২টায় আতশবাজির ঝলকানিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে রাজধানী ঢাকার আকাশ। বিভিন্ন বাসাবাড়ির ছাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে ফানুস উড়িয়ে ২০২১কে স্বাগত জানায় রাজধানীবাসী।আবার উন্মুক্ত স্থানে কোন আয়োজন না থাকলেও অনেকেই নতুন বছরকে বরণ করতে বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে বাইরে বের হন।করোনার সংকট কাটিয়ে নতুন বছর সুন্দর ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে, এমন প্রত্যাশার কথা জানান তারা।

বিএনএনিউজ/আরকেসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *