26 C
আবহাওয়া
৭:০২ অপরাহ্ণ - ডিসেম্বর ৬, ২০২৫
Bnanews24.com
Home »  তারেক জিয়ার দেশে ফেরা ‘ত্রিমুখী’ বাধা’!

 তারেক জিয়ার দেশে ফেরা ‘ত্রিমুখী’ বাধা’!


বিএনএ ডেস্ক : ‘সংকটকালে মায়ের স্নেহ–স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি এ–ও বলেছেন, এখনই দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাঁর জন্য অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। ২৯ শে নভেম্বর শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান এ কথা বলেন।

মায়ের এই চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় তারেক রহমান দেশে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করলেও তিনি কার্যত অসহায়। তিনি স্বীকার করেছেন যে, দেশে ফেরার বিষয়টি এখন আর তার ‘একক সিদ্ধান্তে’ নেই। আন্তর্জাতিক চাপ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সরকারের কৌশলী অবস্থানের কারণে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়—তারেক রহমানের এই পোস্টের পর শনিবার বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে প্রেস সচিব লিখেছেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের তরফ থেকে কোন বিধিনিষেধ অথবা কোনো ধরনের আপত্তি নেই।’

ফেসবুক পোস্টে শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

কেন দেশে ফিরতে পারছেন না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপাসন তারেক রহমান। সেই বিশ্লেষণে যেতে হলে যেতে হবে ১৮ বছর আগে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের একতরফা সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে গঠিত হয় সেনা নিয়ন্ত্রিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, দুইপুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান ২০০৮ সালে কারাগার থেকে বেরিয়ে সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। তারপর আর তিনি দেশে ফেরেননি। বিদেশে থেকেই দল পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
এরমধ্যেই রাজনীতির অন্দর মহল থেকে মাঠে আলোচনা হচ্ছে কথিত ওয়ান ইলেভেন সময়ে ‘মাইনাস টু’ নয়; ‘মাইনাস ফোর’-এর পরিকল্পনা ছিল তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। বিষয়টি জানিয়েছেন লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ, যিনি এক-এগারোর সরকার নিয়ে গবেষণামূলক বই লিখেছেন।

তৎকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তা, সেনাপ্রধানসহ অনেকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মহিউদ্দিন আহমদ। এ সময় রাজনীতিতে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার বিষয়টি বিশেষভাবে জানার চেষ্টা করেছেন। তার ‘এক এগারো’ গ্রন্থে আলাদা একটি অধ্যায় রয়েছে ‘মাইনাস টু’ শিরোনামে।

মহিউদ্দিন বলেন, যখন এক-এগারো নিয়ে বই লিখি তখনতো আমি ব্রিগেডিয়ার বারী ও জেনারেল মইন- এদের ইন্টারভিউ করেছিলাম। আমি একবার চৌধুরী ফজলুল বারী প্রশ্ন করলাম, আপনারা ‘মাইনাস টু’ কেন চাচ্ছিলেন? তিনি বলেন যে আমরা কখনো ‘মাইনাস টু’র কথা বলি নাই, এটা মিডিয়ার সৃষ্টি। আমরা চেয়েছিলাম ‘মাইনাস ফোর’।

‘মাইনাস টু’ বলতে প্রধান দুই দলের শীর্ষ নেত্রীদের বোঝানো হয়। তবে ‘মাইনাস ফোর’র বাকি দু’জন কারা সেটি পরিষ্কার না হলেও মহিউদ্দিন আহমদ ধারণা পান যে বাকি দুজন হলেন দুই নেত্রীর ছেলে তারেক রহমান এবং সজীব ওয়াজেদ জয়।এইটা আমাকে ওই সময় বলেছিল।

এখন এই ‘মাইনাস টু কিংবা মাইনাস ফোর’ ফর্মুলাটি আলোচনা এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, তখন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না ফেরার কারণ জানিয়ে দেয়া গত ২৯ শে নভেম্বের দেয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে।

এর একদিন আগে ২৮ শে নভেম্বর বাংলাদেশ বড় দুটি দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে একটি অগণতান্ত্রিক তৎপরতা রয়েছে– এমন অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দলেরই নেতৃত্ব পরিবর্তনে ‘বিদেশ থেকে একটা খেলা চলছে’।

বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বড় দল বলতে তিনি বিএনপিকে বুঝিয়েছেন, তবে খেলা বলতে আসলে কী বোঝাচ্ছেন এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি।

রাজনৈতিক বিশ্বেষকদের ভাষ্য, দেশে ফেরা নিয়ে চলছে ‘ডিপ স্টেট’ এর গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে ‘মাইনাস’ করার পুরনো ছক নতুন করে বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

নিরাপত্তার অযুহাত দেখিয়ে মূলত তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার বা ‘মাইনাস’ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকার মনে করছে, এই মুহূর্তে তিনি দেশে ফিরলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
তারেক রহমানের ফেরার পথে কেবল সরকার নয়, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীও। জামায়াতে ইসলামীর নীতিনির্ধারকরা এই মুহূর্তে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ইছেন না এবং এ বিষয়ে তারা সরকারের কাছে তাদের আপত্তি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেও বিষয়টি নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, সেনাবাহিনীর একটি বিশাল অংশ চায় না তারেক জিয়া এখনই দেশে ফিরে আসুক। ফলে প্রশাসনিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই এক ধরণের ‘অদৃশ্য দেয়াল’ তৈরি করা হয়েছে তারেক রহমানের সামনে।

সরকার তাদের সংস্কার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই মুহূর্তে তারেক রহমানের উপস্থিতি ও রাজনৈতিক প্রভাব এড়িয়ে চলতে চাইছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মানবিক আবেগের চেয়ে এখানে রাজনৈতিক স্বার্থই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথকে জটিল করে তুলতে পারে। আর রাজনীতির এই জঠিল সমিকরণে অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

সৈয়দ সাকিব

Loading


শিরোনাম বিএনএ