33 C
আবহাওয়া
৭:৩২ অপরাহ্ণ - এপ্রিল ২৩, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » সৈয়দ মোস্তফা জামাল ও একজন খবরের ফেরিওয়ালার গল্প

সৈয়দ মোস্তফা জামাল ও একজন খবরের ফেরিওয়ালার গল্প


বিএনএ ডেস্ক: ভাষাসৈনিক, প্রথিতযশা সাংবাদিক এবং সমাজ সংগঠক সৈয়দ মোস্তফা জামাল ১৯৩৪ সালের ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সোনাকানিয়ার এক ঐতিহাসিক সৈয়দ বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর পিতা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কারাবরণকারী নেতা মৌলভী সৈয়দ সোলতান আহমদ এবং মাতা মোসলেমা খাতুন। বাবা মায়ের আদর্শে বেড়ে ওঠা মোস্তফা জামাল জীবনের শুরুতেই বেছে নিয়েছিলেন সত্যের পথ। ১৯৪৮ সালে যখন রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ঢাকা রাজপথ উত্তাল, তখন থেকেই তিনি ‘সাপ্তাহিক সৈনিক’ পত্রিকার মাধ্যমে কলমযুদ্ধে অবতীর্ণ হন।

১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোতে বৃহত্তর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া অঞ্চলের ছাত্র-জনতাকে সংগঠিত করতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। কারামুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ধানমন্ডির বাড়িতে সেই তরুণ বয়সে ভাষা আন্দোলন নিয়ে তাঁর মতবিনিময়ই প্রমাণ করে তিনি কতটা দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক ছিলেন।

সৈয়দ মোস্তফা জামাল ছিলেন সবার কাছে এক প্রদীপ্ত বাতিঘর। তাঁর কাজ করার ধরন, খবরের পেছনের খবর বের করে আনার সেই অদম্য স্পৃহা প্রতিনিয়ত মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করত সকলকে। কেবল পেশাদারিত্ব নয়, মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়।

দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। দৈনিক আজাদী, ইত্তেফাক, ইত্তেহাদ, পয়গাম থেকে শুরু করে বার্তা সংস্থা সি.পি.আই পর্যন্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই তিনি তাঁর দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

সাংবাদিকতার বাহিরেও তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ছিল ঈর্ষণীয়। ঢাকায় চট্টগ্রাম সমিতির নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে মিরপুর বাংলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া—সবখানেই ছিল তাঁর কর্মনিষ্ঠার ছোঁয়া। ‘মঘীস্থানে ইসলাম’ বা মওলানা ইসলামাবাদীর ওপর তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থগুলো আজও জ্ঞানের খোরাক জোগায়।

২০০৪ সালের ২২ এপ্রিল তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। সোনাকানিয়ার সেই মাটির মানুষটি আজও বেঁচে আছেন সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার প্রতিটি অনুপ্রেরণায়।

বিএনএ/শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ