30.9 C
আবহাওয়া
৮:০৪ অপরাহ্ণ - জুন ২৪, ২০২৬
Bnanews24.com
Home »  ‘মন্ত্রিত্ব’ না পেয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ করেন অলি!

 ‘মন্ত্রিত্ব’ না পেয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ করেন অলি!


বিএনএ, ডেস্ক : ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) সংসদীয় আসনে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় চরম খেসারত দিতে হয়েছে তৎকালীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অলি আহমেদকে । ৫ বছর তিনি বিএনপিতে ছিলেন অবহেলিত। স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে চা নাস্তা খাওয়া ছাড়া আর তেমন কাজ ছিল না তার। ভিতরে ভিতরে লঙ্কার রাজা রাবণের ছোট ভাই বিভীষণ হয়ে ওঠেন।

বিএনপির চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মতবিরোধের জের ধরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম অলি আহমেদ আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মেলান। সংসদীয় ‘ক্যু’র মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাকে প্রস্তাব দেন। এতে তিনি রাজিও হয়েছিলেন। ২০২১ সালের ১৪ই মে নিউজ টুয়েন্টি ফোর’কে দেওয়া এক স্বাক্ষাৎকারে অলি আহমেদ নিজে তা স্বীকার করেন।

YouTube player

কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাটে বলে হয়নি। ড.অলি আহমেদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেও ক্ষমতা চর্চা করার মোহ তাঁকে পেয়ে বসে। অপেক্ষায় থাকেন সুযোগের। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখনি  অন্তত ২৪ জন এমপি নিয়ে ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর  বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন অলি আহমেদ। গঠন করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

বিএনপি ত্যাগের প্রেক্ষাপট  ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এলডিপি চেয়ারম্যান ড. অলি আহমেদ বিএনপি চেয়ারপাসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারপুত্র তারেক রহমান সম্পর্কে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। তারেক রহমান সম্পর্কে অলি আহমেদ অভিযোগ করেছিলেন যে, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন “হাওয়া ভবন” ছিল দেশের সকল দুর্নীতি ও অরাজকতার কেন্দ্রবিন্দু’। তিনি তারেক রহমানকে “অপরিণত, অহংকারী এবং দুর্নীতির মদদদাতা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

ওই সময় খালেদা জিয়া সম্পর্কে  অলি আহমেদ  বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন  বেগম জিয়া দলকে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন এবং ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করে দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দিচ্ছেন। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, খালেদা জিয়া কাউকে সম্মান দিতে জানেন না এবং তার শাসনামলে দেশ জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর  বিএনপি সরকারের  মেয়াদ শেষ হওয়ার পর  নবম সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান করতে বিএনপি প্রধান বিচারপতির বয়স ৬৫ থেকে ৬৭ করেন। এতে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান তত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হওয়া কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগ লগি-বৈঠা’ আন্দোলন শুরু করলে বিচারপতি হাসান প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণে অসম্মতি জানান। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বিধান অনুসারে বিচারপতি মাহমুদুল আমীন চৌধুরীকে অনুরোধ না জানিয়ে নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেন। এতে কড়া সমালোচনা করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চেয়ারম্যান ড. অলি  আহমেদ।

২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত নবম সংসদ নির্বাচনে এলডিপির ভরাডুবি হয়। ১৮ আসনে প্রার্থী দিলেও চন্দনাইশ আসন থেকে একমাত্র অলি আহমেদ ছাড়া অন্য কেউ জয়লাভ করতে পারেনি। দলটির প্রাপ্ত ভোট ছিল শুন্য দশমিক ২ শতাংশ। ২০১২ সালে  বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয় । ওই জোটে যোগ দেয় এলডিপি।

কিন্তু ২০১৯ সালের ২৭ জুন অবসরপ্রাপ্ত  কর্নেল  অলি আহমদ ২০-দলীয় জোটের অভ্যন্তরে থেকেও জোটের কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। যদিও তখন তারা জোট ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে এটি ছিল জোট থেকে মানসিকভাবে সরে আসার প্রথম বড় পদক্ষেপ।

২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর  বিএনপি ঢাকায়  বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০-দলীয় জোট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তখনই এলডিপি এই জোটের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসে এবং স্বতন্ত্র পথে হাঁটতে শুরু করে।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি এলডিপি। শেখ হাসিনা সরকার পতন আন্দোলনে এলডিপির বেশ ভূমিকা ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন  সরকারের  সঙ্গে অলি আহমেদের রহস্যজনকভাবে অদৃশ্য একটি দেয়াল তৈরি হয়।

২০২৪ সালের ২৮শে অক্টোবর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক—হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম ও মো. হাসিবুল ইসলাম—আওয়ামী লীগসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। এই তালিকায় এলডিপি-র নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল । রিটে এলডিপি-র নাম আসায় দলটির সভাপতি  অলি আহমেদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গত ১৬ বছর ধরে তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছেন এবং জুলাই বিপ্লবেও তাদের কর্মীরা শহীদ হয়েছেন। এলডিপি-র পক্ষ থেকে এই ভুলের জন্য রিটকারীদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ব্যাপক সমালোচনা ও এলডিপি-র জোরালো প্রতিবাদের মুখে এক দিন পরই অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর রিটকারীরা তাদের আবেদনটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। হাইকোর্ট আবেদনটি ‘নট প্রেসড’ (Not Pressed) হিসেবে খারিজ করে দেন। কী কারণে  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক—হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম ও মো. হাসিবুল ইসলামের রিটে ড. অলি আহমেদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপির নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছিল এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল সেই রহস্য এখনো অজানা রয়ে গেছে।

বিএনএ/শামীমা চৌধুরী শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ