বিএনএ, ঢাকা : ১৯৯৪ সালের ২০শে মার্চ মাগুরার উপ- নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের মৃত্যুর ফলে এই আসনটি শূন্য হয়েছিল। মাগুরার এই উপ নির্বাচনটি এতই তামাশাপূর্ণ ছিল যে খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফকে রাতের অন্ধকারে মাগুরা সার্কিট হাউস ত্যাগ করতে হয়েছিল। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপি প্রার্থী কাজী সালিমুল হক কামালকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
ব্যাপক ভোট কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধীতা করতে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মন্তব্য করেছিলেন, ‘পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়- দীর্ঘ তিনদশক পরে তার কথাটি সত্য প্রমাণিত হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের এক বক্তব্যে।
তিনি বলেছেন, এদেশের তরুণরা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেছে এবং খুব শিগগিরই ১২ ফেব্রুয়ারি তারা ব্যালটে থাকবে। আমি নিশ্চিত, তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্বাচিত হবেন। মঙ্গলবার রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনটির উদ্বোধনকালে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আগেই তিনি কিভাবে নিশ্চিত করে বলছেন, ছাত্রদের কেউ কেউ এমপি-মন্ত্রী হবেন? এর মাধ্যমে কি প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট আগামীতে সরকার গঠন করবে এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন?এটা কী ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের কোন অংশ কীনা তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে? সমালোচকরা বলছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস রেফারির ভূমিকায় থাকার কথা থাকলেও তিনি এখন নিজেই খেলোয়াড়ের ভূমিকায় নেমেছেন!
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জামায়াত ইসলামীর দাড়িপাল্লাসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতীক পোস্টাল ব্যালটে প্রথম সারিতে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ দেওয়া হয়েছে মাঝখানে অদৃশ্যমান স্থানে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে এ বিষয় নিয়ে দলের উদ্বেগ তুলে ধরেন বিএনপির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে ‘জরিপের রাজনীতি’ বেশ গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। এই জরিপগুলোর মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকারের ওপর মানুষের আস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এসব ফলাফলকে তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বা দাবির পক্ষে ব্যবহার করছে। সর্বশেষ জরিপ তার প্রমাণ।
গত ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক জরিপে জামায়াত ইসলামীকে এক লাফে চুড়ায় তুলে দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলেছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভোট পাবে ৩৪.৭ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামী পাবে ৩৩.৬ শতাংশ। অন্য দলগুলোর মধ্যে এনসিপি ৭.১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ ভোট পাবে। এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ১৭.০ শতাংশ ভোটার।
জামায়াতে ইসলামীর ৩৩.৬ শতাংশ, এনসিপির ৭.১ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলনের ৩,১ শতাংশ ভোট যোগ করলে ৪৩.৮ শতাংশ। অর্থাৎ বিএনপির থেকে ১০ শতাংশ ভোটে এগিয়ে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির এই জরিপে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বের একটি প্রভাবশালী দেশ বাংলাদেশে আধুনিক মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দেশটির ডিপ স্টেট মনে করে মিয়ানমারের খনিজ সম্পদ ও বঙ্গোপসাগরে নিয়ন্ত্রণ করতে বাংলাদেশে একটি মৌলবাদী শক্তির প্রয়োজন। এছাড়াও বিশ্ব মোড়ল দেশটি বঙ্গোপসাগর লাগোয়া পূর্ব তিমুরের মতো একটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সব দিক মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকারকে উপযুক্ত মনে করছে তারা।
এক কথায়, আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। সেই সূত্রে ১৪ অথবা ১৫ই ফেব্রুয়ারি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
যুদ্ধ এবং নির্বাচন—উভয় ক্ষেত্রেই ‘প্রপাগান্ডা’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা একটি শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গত ১৯ মাসে অন্তত: ৬টি রাজনৈতিক জরিপ পরিচালিত হয়। এর বেশিরভাগই ‘টেবিল মেইড’। এইসব জরিপে কৌশলে জনমতের নামে সরকারের মতামতের প্রতিফলন এবং এজেন্ডাই বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে এমনটা মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।
বিএনএনিউজ/ শামীমা চৌধুরী শাম্মী/ এইচ.এম।
![]()


