বিএনএ ডেস্ক: গত ৮ই অক্টোবর সাংবাদিক নবনীতা চৌধুরীর ‘খবর টকস’ পডকাস্টে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের মুখ ফসকে যখন বলেই ফেললেন—”শেখ হাসিনার সাথে আমার মাঝেমধ্যে কথা হয়, তিনি সবার সাথেই কথা বলছেন”— এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি নেট দুনিয়ায় আগুনে যেন পেট্রোল ঢেলে দিল! শুধু তাই নয়, জি এম কাদের হুট করে শেখ হাসিনার আগেই আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি আর জাসদকে নিয়ে নতুন এক মহাজোটের ইঙ্গিত দিলেন?
ইন্টারভিউ জুড়ে তিনি বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক কড়া মন্তব্য করতে থাকেন।
সাক্ষাৎকারটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হওয়া মাত্রই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে—৫ই আগস্টের পর গা ঢাকা দেওয়া মহাজোটের শরিকরা কি তবে আবারও পুনর্গঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে?
এই সাক্ষাৎকার ভাইরাল হওয়ার ঠিক ৩ দিনের মাথায় সোমবার হঠাৎ করেই ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ এবং ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে শতাধিক মানুষ স্লোগান দিতে দিতে লাঠিসোঁটা নিয়ে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৩৩ নম্বর সড়কে অবস্থিত জি এম কাদেরের বাসভবনটি ঘেরাও করে ।
বিক্ষোভকারীরা জি এম কাদেরকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে তাঁর গ্রেপ্তার দাবি করে স্লোগান দিতে থাকে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি হিংসাত্মক রূপ নেয়। চারপাশ থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে।
বাসার নিচতলার ড্রয়িংরুমের জানালার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। মূল ফটক বন্ধ থাকায় হামলাকারীরা ভেতরে ঢুকতে পারেনি, নতুবা বড় ধরনের কোনো ট্র্যাজেডি ঘটে যেতে পারতো!
বিক্ষোভকারীদের সাফ কথা—জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শত শত ছাত্র-জনতাকে যারা হত্যা করেছে, সেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাথে যারা নতুন জোটের স্বপ্ন দেখছে, তারা শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করছে।
এদিকে নিজ দলের চেয়ারম্যানের বাসায় এই বর্বরোচিত হামলার পর আর চুপ করে বসে নেই জাতীয় পার্টি। দলের শীর্ষ নেতারা এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জাতীয় পার্টি নেতাদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নয়, বরং জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার জন্য এটি একটি সুপরিকল্পিত ও কাপুরুষোচিত হামলা। তারা প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে দেশব্যাপী কঠোর ও রাজপথ কাঁপানো কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় পার্টি। এছাড়া জাসদসহ আরও কয়েকটি দলও মব সৃষ্টি ও হামলার কড়া সমালোচনা করেছে।
তবে এই হামলার নেপথ্যে কি কেবলই জি এম কাদেরের মুখ ফসকে বলা মন্তব্য? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গভীর ভূ-রাজনৈতিক চাল? দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ কিন্তু এই ঘটনায় অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর একটি তত্ত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে যে চরম স্পর্শকাতর ও জাতীয় ইস্যুটি তৈরি হয়েছে, তা থেকে দেশের সাধারণ মানুষের চোখ সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই এই হামলার টাইমিং নির্ধারণ করা হয়েছে!
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে দেশের ভেতরে যে বড় ধরনের অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, তা যেন রাজপথের গণবিক্ষোভে রূপ নিতে না পারে—ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করে জি এম কাদেরের বাসভবনে শতাধিক মানুষের এই নাটকীয় হামলা ঘটিয়ে দেশের পুরো ফোকাসটাই অন্যদিকে ডাইভার্ট করে দেওয়া হলো। অর্থাৎ, একটি বড় জাতীয় ইস্যুকে ধামাচাপা দিতেই কি তবে জাপা চেয়ারম্যানের এই ভাইরাল বক্তব্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তার বাড়িতে হামলা করা হয়েছে? এই প্রশ্ন কিন্তু এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ জোরেসোরেই উঠছে!
দর্শক, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের নতুন মহাজোটের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তা কি তবে কেবলই কথার কথা? নাকি ৫ই আগস্টের পর দেশের ভেতরের ও বাহিরের শক্তিগুলো মিলে নতুন কোনো রাজনৈতিক ছক আঁকছে? আর তার প্রতিক্রিয়ায় এই যে একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের বাসায় শতাধিক মানুষের হামলা—একে আপনি কীভাবে দেখছেন? রাজনীতি কি তবে আরও অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে?
আপনার কী মতামত? কমেন্ট বক্সে আমাদের লিখে জানান। প্রতিবেদনটি ভালো লাগলে লাইক ও শেয়ার করুন। দেশের রাজনীতির ভেতরের খবর সবার আগে জানতে এখনই আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।
বিএনএ/ শাম্মী
![]()

