26.9 C
আবহাওয়া
৭:২৮ অপরাহ্ণ - ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » কেমন হবে বিএনপির এনাম, জামায়াতের ডা. ফরিদের লড়াই

কেমন হবে বিএনপির এনাম, জামায়াতের ডা. ফরিদের লড়াই


বিএনএ, ঢাকা: পটিয়া। চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২৪ কিমি দূরে অবস্থিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি সমৃদ্ধ থানা ও উপজেলা। এর উত্তরে বোয়ালখালী, দক্ষিণে চন্দনাইশ ও আনোয়ারা এবং উত্তর-পশ্চিমে কর্ণফুলী নদী অবস্থিত। ১৮৪৫ সালে পটিয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের তৎকালীন একমাত্র মহকুমা শহর,যা জেলায় উন্নীত হয়নি।

কৃষির পাশাপাশি শিল্পেও পটিয়া বেশ অগ্রসর। এখানে ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, শিকলবাহা বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে এছাড়া এখানকার বিসিক শিল্প নগরী ও লবণ শিল্প অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়াতেই অবস্থিত।

পটিয়াকে “বীর প্রসবিনী” বলা হয় কারণ এখানে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব জন্মগ্রহণ করেছেন, এর মধ্য অন্যতম কবি শশাঙ্কমোহন সেন, ডক্টর আহমেদ শরীফ , সংগীতশিল্পী আব্দুল গফুর হালী এবং পুঁথি গবেষক মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ।

YouTube player

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে পটিয়ার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। মাস্টারদা সূর্যসেন এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ অনেক বিপ্লবী এখানে সক্রিয় ছিলেন।

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ সংসদীয় আসনটি পটিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ২৮৯ তম আসন। ১৯৭২ সালের প্রথম থেকে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ২৮৯ তম পটিয়া আসনটি চট্টগ্রাম-১১ নামে পরিচিত ছিল। ২০১৪ সালের সীমানা পূন:নির্ধারনে পর আসনটি চট্টগ্রাম-১২ নামে পরিচিতি পায়।

এই আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এনামুল হক এনাম। জামায়াতে ইসলামী মনোনয় দিয়েছেন চট্টগ্রাম শেভরন মেডিকেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডাক্তার ফরিদুল আলমকে।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এস এম বেলাল নুর, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহাম্মেদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব পার্টির মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, গণঅধিকার পরিষদের ডা. এমদাদুল হাসানের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে, গণঅধিকার পরিষদের ডা.এমদাদুল হাসান বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে যাবে। অন্য প্রার্থীরা ব্যালটে থাকলেও তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনায় নেই। তাদের প্রচারাভিযান পোস্টার নির্ভর! মূলত: ভোটের লড়াইটা সীমাবব্ধ থাকবে বিএনপির এনামুল হক এনাম এবং জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফরিদুল আলমের মধ্যে।
কেমন হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ভোটের লড়াই? সেই বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে আসুন জেনে নিই- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ৪টি নির্বাচনের ফলাফল।

১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই আসনে ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ১ শত ৩০ জন। ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ১০ হাজার ৩ শত ৪৩ জন। নির্বাচনে বিএনপির শাহনেওয়াজ চৌধুরী বিজয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৪৮ হাজার ৭ শত ১৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের এম এ ইউসুফ। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৩৯ হাজার ২ শত ১৫ ভোট ।

১৯৯৬ সালের ১২ই জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭ শত ৬০ জন। ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৫ শত ৭৫ জন। নির্বাচনে বিএনপির গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান বিজয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৪৯ হাজার ২ শত ৪৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মোছলেম উদ্দীন আহমেদ। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৪২ হাজার ৭ শত ৭৪ ভোট।

২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৯ হাজার ৩ শত ৪২ জন। ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬ জন। নির্বাচনে বিএনপির গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান বিজয়ী হন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৭৯ হাজার ৯ শত ১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মোছলেম উদ্দীন আহমেদ । নৌকা প্রতীকে তিনি পান ৬৩ হাজার ২ শত ৫০ ভোট।

২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ৫ শত ৬৪ জন। ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩ শত ৩৮ জন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সামছুল হক চৌধুরী বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৩ হাজার ৮ শত ৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির গাজী মো: শাহজাহান। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ৭৫ হাজার ১ শত ৫৬ ভোট।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, পঞ্চম, সপ্তম ও অষ্টম সংসদে বিএনপি এবং নবম সংসদে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়।
এবার আসা যাক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ৪টি নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে রাজনৈতিক দলগুলো কত শতাংশ ভোট পেয়েছিল সেই বিশ্লেষণে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৫৮.৯৭% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৫.৫৪%, বিএনপি ৪৪.১৫%, জাতীয় পার্টি ১০.৭৪% স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ৯.৫৭% ভোট পায়।

১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৭৩.৮৯% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩৬.৬৯%, বিএনপি ৪২.২৫%, জাতীয় পার্টি ১৪.৭১%, জামায়াত ইসলামী ৩.১৮% স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ৩.১৭% ভোট পায়।
২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৭৩.৫৮% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৪১.০৬%, ৪ দলীয় জোট ৫১.৮৮%, জাতীয় পার্টি ১.০০% স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ৬.০৬% ভোট পায়।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন ৮৬.৯৭% ভোটার। প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ১৪ দলীয় জোট ৫৫.১৫%, ৪ দলীয় জোট ৩৯.৯০%, স্বতন্ত্র ও অন্যান্য ৪.৯৫% ভোট পায়।

চলুন দেখে আসি, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দশম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কেমন ছিল? কে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন?

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে র্নিবাচনের দাবিতে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেনি। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ কিছু নামসর্বস্ব রাজনৈতিক দল, অখ্যাত ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ভোটারবিহীন এক তরফা এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সামছুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯ শত ৬১ জন। নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সামছুল হক চৌধুরী, ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এনামুল হক, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির নুরুচ্ছফা সরকার, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দেলওয়ার হোসেন সাকী, মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের এম এ মতিন, চেয়ার প্রতীকে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মঈন উদ্দীন চৌধুরী. টেলিভিশন প্রতীকে ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বি এন এফ এর দীপক কুমার পালিত এবং মই প্রতীকে সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সাইফুদ্দীন মো; ইউনুচ প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন।

কিন্তু ভোটের আগের রাতে প্রশাসনের যোগসাজসে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে ৩০/৪০ শতাংশ ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখে। কারচুপির অভিযোগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বর্জন ও ফলাফল প্রত্যাখান করে। রাতের ভোট খ্যাত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সামছুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি- জামায়াত ইসলামীসহ তাদের সমমনা দল গুলো নির্বাচন বর্জন করে। আমি-ডামি খ্যাত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সামছুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়নি। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে দলীয় প্রার্থীর নেতা-কর্মীদের রোষানলে পড়ে। তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলও করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকরা।

এক তরফা ভোটারবিহীন এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের ৮ মাসের মাথায় ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট ছাত্র- জনতার গণঅভ্যূত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এর পরদিন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এই সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারছে না, নিবন্ধন স্থগিত থাকার কারণে। এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক নেতা ডা. ফরিদুল আলম এখন ভোটের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন।
তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনটি বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচিত। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমলে অনুষ্ঠিত ১৯৭৯ সালে বিএনপির নজরুল ইসলাম, জেনারেল এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চৌধুরী হারুনুর রশীদ এবং ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শাহ নেওয়াজ চৌধুরী মন্টু, এবং ১৯৯৬ সালের ষষ্ট ও সপ্তম ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে গাজী শাহজাহান জুয়েল সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগকে আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় ৩৩ বছর। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আসনটি শামশুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ঘরে আসে। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।

চট্টগ্রাম-১২ পটিয়া সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে সক্রিয় ছিলেন একাধিক প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু মনোনয়ন পান ২০১৮ সালের প্রার্থী এনামুল হক এনাম। এতে ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রার্থী বদল চেয়ে, চেয়ারপাসন তারেক রহমানের কাছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য গাজী মুহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও সাইফুদ্দিন সালাম মিঠু লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তারা বর্তমান দলীয় মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে এস, আমল গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তুলেন।

কিন্তু বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কড়া নির্দেশনায়, ৪ নেতা অভিযোগ প্রত্যাহার করে এক কাতারে শামিল হন। শুধু তাই নয়- সকল দ্বিধাদ্বন্ধ ও ভেদাভেদ ভুলে দেশনেত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার সম্মানে ও তারেক জিয়ার নির্দেশনায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক এনামকে জয়ী করতে শপথ গ্রহণ করেছেন। ফলে এনামুল হক এনাম এখন অনেকটা টেনশন মুক্ত রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কোন নির্বাচনে বিজয়ী না হলেও বর্তমানে সাংগঠনিক দিক থেকে বেশ শক্তশালী। রয়েছে দলের নিজস্ব ভোট ব্যাংক। এছাড়া দলীয় প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমের রয়েছে ক্লিন ইমেজ এবং অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। সব মিলিয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও তাদের বিপুল ভোটব্যাংক রয়েছে। যা এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর।

দৈবচয়ন পদ্ধতিতে বিএনএ নিউজ টুয়েন্টিফোর এর পরিচালিত জরিপে দেখা যায়. আওয়ামী লীগের ভোটারদের বেশিরভাগই ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। তবে যারা যাবেন তারা বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিবেন।এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, হেফাজতে ইসলামের বাবু নগরীর অনুসারিরা। তাদের ভোট এবার বিএনপির বাক্সকে পূর্ণ করবে। সেই ক্ষেত্রে শেষ হাসি হাসবে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনাম এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

 

Loading


শিরোনাম বিএনএ