28 C
আবহাওয়া
৪:২৬ অপরাহ্ণ - সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
Bnanews24.com
Home » ১৮০ দেশের চাপ সামলাতে ট্রাম্পের ছায়ায় তারেক রহমান?

১৮০ দেশের চাপ সামলাতে ট্রাম্পের ছায়ায় তারেক রহমান?


বিএনএ, ঢাকা: ২০২৬ সালের ডিসেম্বর। বাংলাদেশের রাজনীতি কি কোনো মহানাটকীয় মোড় নিতে চলেছে? একদিকে ১৮০ দেশের আন্তর্জাতিক সংসদীয় ফোরাম আইপিইউ-এর নজিরবিহীন চাপ, আর অন্যদিকে সেই চাপ সামলাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাশক্তিশালী ছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার এক মহাপরিকল্পনা! আইপিইউ প্রধান আন্দা ফিলিপের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর অত্যন্ত গোপন ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক! ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের এক বিস্ফোরক টুইট বার্তা এবং তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধন্যবাদসূচক চিঠি! ওয়াশিংটন থেকে ঢাকা—পর্দার আড়ালে আসলে কী ডিল হলো? শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে তারেক রহমান সরকার কি আমেরিকার সব আবদার পূরণ করতে যাচ্ছে?

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ আগস্ট । হঠাৎ করেই তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসেন আইপিইউ বা ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সেক্রেটারি জেনারেল আন্দা ফিলিপ । বিশ্বের ১৮০টি রাষ্ট্রের জাতীয় সংসদের সমন্বয়ে গঠিত এই আইপিইউ হলো পৃথিবীর বৃহত্তম সংসদীয় ফোরাম । তাই স্বভাবতই এই শক্তিশালী ফোরামটির যেকোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলে।

এই ৩ দিনের সফরে আন্দা ফিলিপ বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একের পর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, সংসদের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম (মনি) , এনসিপি ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

সব বৈঠকে আন্দা ফিলিপ তার বক্তব্যে জানান, আইপিইউ সর্বদা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সব ধরনের মতপার্থক্য নিরসনের পক্ষে কাজ করে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়াকে আইপিইউ ইতিবাচকভাবে দেখছে।

কিন্তু সবচেয়ে বড় চমকপ্রদ খবর হচ্ছে—আন্দা ফিলিপ অত্যন্ত গোপনে এবং ব্যক্তিগত প্রটোকলে দেখা করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে! যদিও কোন পক্ষ এই বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। তবে গুঞ্জন আছে, দুই জনের সঙ্গে অন্তরঙ্গ আলাপে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ওপর নিষেধজ্ঞা প্রত্যাহার, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা, আইনি সুরক্ষা এবং কারাগারে আটক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জামিন ও অন্তর্ভূক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে আইপিইউ’-এর সহযোগীতা চান। রুদ্ধধার এই বৈঠকে আন্দা ফিলিপ বিষয়টি অক্টোবরের সম্মেলনে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, আদালতের আদেশে সাবের হোসেনের বিদেশ যাওয়ার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। যদিও তিনি আইপিইউ-এর সাবেক বৈশ্বিক সভাপতি এবং আজীবন অনারারি প্রেসিডেন্ট। এই অবস্থায় আগামী ৫ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর, তানজানিয়ার আরুশা শহরে অনুষ্ঠিত ১৫৩তম আইপিইউ সম্মেলনে যোগদান এখনো অনিশ্চিত ।

সাবের হোসেন চৌধুরী ছাড়াও আইপিইউ-এর মূল ফোকাসে রয়েছেন সংসদীয় মানবাধিকার কমিটির সাবেক সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। এছাড়া এই তালিকায় আরও নাম ছিল সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান, আসাদুজ্জামান নূর, এবং বিদেশে পলাতক ড. হাছান মাহমুদ ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

তবে এখানে আরেকটি বড় টুইস্ট রয়েছে! অনেকেই ভাবছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মতো হেভিওয়েট নেতারা হয়তো এই তালিকায় আছেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো—আইপিইউ-এর সেই অফিসিয়াল ৬ জনের তালিকায় আনিসুল হক, সালমান এফ রহমানের নাম ছিলই না! আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এদের বিচার চললেও, আইপিইউ মূলত তাদের নিজস্ব সংস্থার সাবেক পদধারী বিশ্বনেতাদের সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আইপিইউ এর কাছে ৭০ জন সাবেক এমপিকে নির্যাতন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া , ঐতিহ্যবাহী দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এ সবই নালিশ করা হয়েছে।

এই জায়গাতেই ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এক ভয়ঙ্কর বিপদের পূর্বাভাস দিচ্ছেন। আইপিইউ-এর এই প্রতিনিধি দল চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই তাদের ঢাকা সফরের ওপর একটি চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। আর এরপরই আগামী অক্টোবর মাসে তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিতব্য ১৫৩তম আইপিইউ বৈশ্বিক সম্মেলন থেকে পাস হতে পারে একটি বিস্ফোরক রেজুলেশন !

কিন্তু এই ১৮০ দেশের আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে তারেক রহমান সরকার এখন বেছে নিয়েছে এক মোক্ষম ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র! আর তা হলো পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন। আন্তর্জাতিক লবিংয়ের এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশাল বহরে কোটি কোটি ডলারের বোয়িং বিমান কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

গত ৩০শে আগস্ট, ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফুটিয়ে তোলেন। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে একে একটি “অসাধারণ চুক্তি” বা “Incredible Deal” হিসেবে অভিহিত করেন। যেখানে বাংলাদেশ আমেরিকার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান চাঙ্গা করতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে আরও বেশি বোয়িং এয়ারক্রাফট কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এর ঠিক একদিন পর, খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি অফিসিয়াল চিঠি পাঠান! রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিসেম্বরের সেই সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকট, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা রুখে দিতে এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল রাখতেই তারেক রহমান সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সব আবদার একের পর এক পূরণ করে যাচ্ছেন এবং আগামীতেও যাবেন!

তবে বর্তমান বিএনপি সরকারের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি এবং এনসিপি নেতা মো. নাহিদ ইসলামসহ বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দেশের বিমান বহরের আধুনিকায়ন এবং আমেরিকার সাথে ওয়ান-টু-ওয়ান রিলেশন বাড়াতেই এই চুক্তি করা হয়েছে, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ নেই।

এখন দেখার বিষয়, আমেরিকার এই প্রকাশ্য সমর্থনের পর অক্টোবরের আন্তর্জাতিক ফোরামে বিএনপির ওপর আওয়ামী লীগের নিরব কুটনৈতিক চাপ সফল হবে ? নাকি তারেক রহমান সরকারের প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন তথা ছায়ার কারণে আওয়ামী লীগের ‘ডিসেম্বর মিশন’ পুরোপুরি ভেস্তে যাবে?

 

শামীমা চৌধুরী শাম্মী

Loading


শিরোনাম বিএনএ