31 C
আবহাওয়া
২:২৯ পূর্বাহ্ণ - এপ্রিল ২৫, ২০২৪
Bnanews24.com
Home » নিষেধাজ্ঞা শেষ: হতাশা নিয়ে মাছ শিকারে জেলেরা

নিষেধাজ্ঞা শেষ: হতাশা নিয়ে মাছ শিকারে জেলেরা

জেলে

বিএনএ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে টানা ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে রোববার মধ্যরাত থেকে সাগরে যেতে শুরু করেছেন উপকূলীয় এলাকার জেলেরা। তবে জেলেদের দুর্দশা বেড়েছে দেশের জলসীমায় ঢুকে ভিনদেশি জেলেদের অবাধে মাছ শিকার আর ট্রলিং জাহাজের (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিশিং জাহাজ) অত্যাচারে।

বরগুনা উপকূলের জেলে ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাগরে মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চলতি বছরের ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন সাগরে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। টানা ৬৫ দিন পর আবারও নিজ পেশায় ফিরতে পেরে খুশি জেলেরা। এই ৬৫ দিন বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন তারা। তবে জালে আশানুরূপ ইলিশসহ অন্যান্য মাছ পড়লে অচিরেই ধারদেনা শোধ করতে পারবেন বলে আশা তাদের।

তবে জেলেরা বরাবরই বলে আসছেন, ভারত ও মিয়ানমারের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে কোনো প্রকার বাঁধা ছাড়াই মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। এ অবস্থায় তাদের জালে মাছ পড়ে কম। এ ছাড়া উপকূল থেকে ১৫০-২০০ কিলোমিটার দূরে ৪০ মিটার গভীর এলাকা থেকে মাছ শিকার করার কথা থাকলেও ট্রলিং জাহাজগুলো উপকূলের কাছাকাছি এসে মাছ শিকার করে। ফলে তারা সাগরে গিয়ে ঠিকমতো মাছ পান না।

বরগুনার তালতলী এলাকার জেলে জলিল হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের জলসীমায় ভারতীয় শত শত জেলে ঢুকে অবাধে মাছ শিকার করে নিয়ে যায়। প্রশাসনের লোকজন তাদের দেখেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয় না।’

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি হালিম ফরাজী বলেন, ‘মাছ শিকার করা বড় ট্রলিং জাহাজ গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করার কথা। কিন্তু তারা তা মানছে না। তারা উপকূলের কাছে এসে মাছ শিকার করে। আমরা নিষেধ করলে তারা শোনে না। উল্টো তারা তাদের জাহাজ থেকে আমাদের গায়ে গরম পানি নিক্ষেপ করে। তারা আমাদের জালের ওপর দিয়ে জাহাজ চালিয়ে আমাদের জাল কেটে ফেলে, আর এতে আমরা জাল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাই।’

বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ভারতীয় জেলেদের প্রবেশ ঠেকাতে পশ্চিমের বয়া অর্থাৎ বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমার পশ্চিম এলাকায় নৌবাহিনীর টহল বৃদ্ধি করা জরুরি।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলায় নিবন্ধিত ২৭ হাজার ২৫০ জন জেলের মাঝে ২ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণ করা হয়েছে। জেলেরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে মাছ শিকার করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিএনএনিউজ২৪/ এমএইচ/ হাসনাহেনা

Loading


শিরোনাম বিএনএ