শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্ধ হবে র‌্যাগিং-বুলিং

বিএনএ, ঢাকা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও নির্ভয়ে লেখাপড়া করার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা করছে সরকার। এতে বুলিং ও র‌্যাগিং বন্ধের পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন আচরণের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং গভর্নিং বডির সদস্যরা আসবে শাস্তির আওতায়। বুলিং এবং র‌্যাগিংয়ের মাত্রা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে করা যাবে ফৌজদারি মামলা। এ নীতিমালা তৈরির কাজ প্রায় শেষপর্যায়ে নিয়ে এসেছে সরকার।

আরো পড়ুন

পাঠ্যপুস্তকের ভুল খুঁজতে দুই কমিটি

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মো. মিজানুর রহমান সাক্ষরিত এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়৷ এতে বলা হয়, বুলিং বা র‌্যাগিং প্রতিরোধে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং-র‌্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং-র‌্যাগিং হয় কি না তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। পর্যবেক্ষণের জন্য Bullying/Ragging Logs তৈরি, প্রয়োজনে প্রশ্নমালা ব্যবহার করা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং-র‌্যাগিং প্রতিরোধে অভিযোগে বক্স রাখার ব্যবস্থা করা এবং অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্দেশনায় শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে- র‍্যাগিং-বুলিংয়ে কোনো শিক্ষক অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী হবে এবং তা শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এরূপ অভিযোগের জন্য তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর আওতায় অসদাচরণের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

আর যাদের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ কিংবা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ প্রযোজ্য নয়, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে কিংবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

র‍্যাগিং-বুলিংয়ের উপযুক্ত কারণ দর্শানো সাপেক্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এমপিও স্থায়ী/অস্থায়ীভাবে বাতিল করা যাবে। ক্ষেত্র বিশেষ তাদেরকে স্থায়ী/অস্থায়ীভাবে অপসারণ/বরখাস্ত করা যাবে। আর উপযুক্ত কারণ দর্শানো সাপেক্ষে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তাদের স্থায়ী/অস্থায়ীভাবে অপসারণ বরখাস্ত করা যাবে। এবং ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দায়ী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে।

র‍্যাগিং-বুলিংয়ে শিক্ষার্থীর প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ তাদের বিধিমালা অনুযায়ী সাময়িক ও স্থায়ী বহিষ্কার করবেন।

গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং/অ্যাডহক/বিশেষ কমিটির কোনো সদস্যের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকলে বোর্ড কর্তৃক তদন্ত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ওই কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে অপসারণ করা যাবে অথবা সংশ্লিষ্ট কমিটি বাতিল করা যাবে।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণসহ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় দায়ী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে।

বুলিংয়ের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ তাদের বিধিমালা অনুযায়ী বুলিংকারীকে সাময়িক/স্থায়ী বহিষ্কার করবেন এবং এ ঘটনার গুরুত্ব সাপেক্ষে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বরাবর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠাবেন।

উল্লেখ্য, প্রতি ছয়মাস অন্তত একবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বুলিং-র‌্যাগিং বিষয় থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হবে।

বিএনএ/এমএফ