রামু আন্তঃউপজেলার শীর্ষ ডাকাত শাহীন ও তার সহযোগী তারেক গ্রেপ্তার

বিএনএ, কক্সবাজার : কক্সবাজারের রামু আন্তঃউপজেলার শীর্ষ ডাকাত শাহিনুর রহমান প্রকাশ ডাকাত শাহীন তার সহযোগী তারেক জিয়াকে আটক করেছে র‍্যাব-১৫ এর একটি টিম। বুধবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে বান্দরবান সদর থানার মেঘলা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আরো পড়ুন

ইয়াবা পাচার মামলায় ৮ রোহিঙ্গার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দুর্গম সীমান্ত সড়ক পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে র‍্যাব-১৫ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

ডাকাত শাহিন রামু গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা এলাকার মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে। শাহীনের বিরুদ্ধে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ৫ টি ডাকাতি, ৩ টি অস্ত্র, ১ টি মাদক, ৪ টি হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে এবং সে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী।

সংবাদ সম্মেলন র‍্যাব-১৫ এর পক্ষ থেকে বলা হয় ডাকাত শাহীন রামু পূর্বাঞ্চলে এক আতংকের নাম। সর্বশেষ তার নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনিরুল আলম।

র‌্যাব জানিয়েছে, এর আগেও শাহীন ডাকাত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিল। তার কাছে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির ৬ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ জিম্মি । সর্বশেষ ১২ জানুয়ারি ডাকাত শাহিনের নির্মম নির্যাতনের শিকার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য মনিরুল আলম। এরপর তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় সাধারণ মানুষ একটি মানববন্ধনও করে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে র‌্যাব আরো জানিয়েছে,ভয়ংকর আতংকের নাম শাহিন। তার দলের সদস্যরা রাতের বেলায় রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দলবলসহ সশস্ত্র মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ইউপি সদস্য মনিরুল আলমকে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেয়।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে রামু গর্জনিয়া শিবাতলী পাহাড়ি এলাকার গোপন আস্তনা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আন্তঃউপজেলার শীর্ষ ডাকাত শাহিন উর রহমান প্রকাশ ডাকাত শাহিন। সে সময় প্রায় তিন বছর কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো জড়িয়ে পড়েন অপরাধে। প্রতিরাতে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করেন।

স্থানীয়দের দাবি, শাহীন ডাকাত নিজেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স হিসেবেও জাহির করে থাকে। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে অনেককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন বলেও অভিযোগ তাদের।

বিএনএনিউজ/এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন/এইচ.এম।