বিএনএ, ঢাকা : জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সর্বোচ্চ সাজা পেয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। দণ্ডিত হয়েছেন রাজসাক্ষী হওয়া চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও। তবে, মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় কিছুটা অখুশি হাসিনা-কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। কিন্তু সোমবার রায় ঘোষণার পর আদালত চত্ত্বরে এই আইনজীবী হাস্যোজ্জ্বল ভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।এছাড়া তিনি রায়ে মেনে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন যা সাধারণত দেখা যায় না। যা নিয়ে দেশ-বিদেশে তোলপাড় চলছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্র প্রদত্ত শেখ হাসিনার আইনজীবীর এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর নেট দুনিয়ায় ঝড় ওঠেছে। অনেকে তার ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী বলেছেন, তিনি আদালতের রায় মেনে নিয়েছে। আপিল করার সুযোগ নেই। তার এই বক্তব্য নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন আইনবিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় এখনও এটি শেষ ধাপ নয়— পরবর্তী পর্যায়ে রয়েছে আরও কয়েকটি পদক্ষেপ। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ হচ্ছে আপিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, ১৯৭৩ অনুসারে, ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে যে কোনও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারেন। একই ভাবে রাষ্ট্র বা অভিযোগকারী পক্ষও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। তবে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে হবে। তার পরেই তাঁর পক্ষে আইনজীবী আপিল করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, মামলার যুক্তি তর্ক চলাকালে এর আগেও আদালতে বক্তব্য দিয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, সবমিলিয়ে রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামী পক্ষের আইনজীবী মো. আমির হোসেনের এমন ভূমিকা ও বক্তব্য বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যা বিচার ও আইনের ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে।
বিএনএনিউজ/ সৈয়দ সাকিব/এইচ.এম।
![]()


