ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ভাঙ্গা বাড়ি ভাঙ্গতে আসা বিক্ষুদ্ধ এক ব্যক্তি বলছেন, আওয়ামী লীগের কেবলার অস্থিত্ব রাখবেন না। উত্তরে সেনা সদস্য বলছেন, সারাদেশে ওদের অস্থিত্ব রয়েছে কয় জায়গার অস্থিত্ব নষ্ট করবেন?
ধানমন্ডিতে দিনভর দায়িত্বরত ওই সেনা অফিসারের বক্তব্যের মিল রয়েছে রাজনীতিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির বক্তব্য। তিনি বলেন, বুলডোজার দিয়ে কোন স্থাপনা গুড়িয়ে দিলে ফ্যাসিবাদ নির্মূল হবে না। প্রতিষ্ঠা করতে হবে সামাজিক ন্যায় বিচার।

প্রসঙ্গত, গেল ৫ ফেব্রুয়ারি ‘বুলডোজার মিছিল’ কর্মসূচি থেকে ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাড়ি ভেঙে অর্ধেকের বেশি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। দেয়া হয় আগুন। ফ্রান্সের প্যারিসে বসবাসকারি অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য ওইসময় ‘বুলডোজার মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন। পুলিশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, যেটি ‘বঙ্গবন্ধু যাদুঘর’ সেটি সিটি করপোরেশনের দুটি ‘বুলডোজার’ দিয়ে দুইদিন ধরে ভাঙ্গা হয়।
মানবতা বিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার দিন ফের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ভাঙ্গা বাড়ি ভাঙ্গার ডাক দেয় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য। তার পরিকল্পনায় আশুলিয়া থেকে দুটি বুলডোজার ধানমন্ডিতে আনা হয়। এদিন পিনাকী ৩২ ধানমন্ডির ভাঙ্গা বাড়ি ভাঙ্গতে দেড় ডজনের বেশি পোস্ট দেন।
এক ফেসবুক পোস্টে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য লিখেন, ‘ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে আসেন। ডাইনি পতনের উৎসব হবে। যে যেইখানে আছেন ঢাকা শহরে থাকলে- চলে আসেন। বন্যার বেগে আসেন। প্লাবনের মতো আসেন। আর্মি- পুলিশ ভাইয়েরা বাধা দিয়েন না। আওয়ামী লীগের অন্তর্ঘাত ঠেকানোতে নিজের শক্তি ব্যয় করুন’।
পিনাকীর এই পোস্টের পর একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকার বিভিন্ন ইউনিট থেকে ধানমন্ডিতে এসে জড়ো হয়।
বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ভেঙে ফেলতে দুটি বুলডোজার নিয়ে সামনে পৌঁছায়।
তবে ৫ই ফেব্রুয়ারির মতো বিনা বাধায় ৩২ নম্বরের ভাঙ্গা বাড়িতে বুলডোজার নিয়ে পৌঁছাতে পারেনি। পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদের বাধা দেয়। দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় । যা অব্যাহত থাকে রাত ১০ টার পর পর্যন্ত, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, ধানমন্ডি, কলাবাগান, পান্থপথ, স্কয়ার হাসপাতালের আশপাশসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ এবং দফায় দফায় টিয়ারশেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে পুলিশ–সেনা সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা বুলডোজার দুটির ব্যাটারির সংযোগ খুলে দিয়ে প্রয়োজনীয় পাটস খুলে ফেলেন এবং চাবি বাজেয়াপ্ত করেন। ফলে দুটি বুলডোজার সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে।
অপর এক পোস্টে পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন, ‘যারা ভাবতেছেন, কেন আজকে ৩২ নাম্বারে বুলডোজার পাঠানো হলো। তাদের অবগতির জন্য বলি, গোয়েন্দা তথ্য মতে আজকে আওয়ামী লীগের সারা দেশে ব্যাপক অরাজকতার পরিকল্পনা ছিলো। ৩২ নাম্বারে বুলডোজার পাঠায়ে সেই পরিকল্পনা চুদলিং পং করে দেয়া হইছে। আওয়ামী লীগ বুঝছে একটা জায়গায় হামলা অরাজকতা করলে জনতা বদলা নিতে ৩২ নাম্বারে ছুটে আসবে। এইটারে বলে ডেটারেন্ট। আওয়ামী লীগ যতোবার অরাজকতার পরিকল্পনা করবে ৩২ নাম্বারে ততোবার বুলডোজার পাঠানো হবে।
শেষে পিনাকী লেখেন ‘আর হ্যা টুঙ্গিপাড়ার জন্যও আলাদা পরিকল্পনা আছে। আসো, খেলা হবে’।
এর আগে, গত ১৩ই নভেম্বর পিনাকী, ‘বত্রিশ নং, চুদলিং পং’ লিখে একটি পোষ্ট করেন। যদিও সাধারণ মানুষ এই স্ল্যাং এর অর্থ জানেন না।
রোরবার ধানমন্ডিতে পিনাকী অনুসারিদের ছত্রভঙ্গ করতে যখন সাউন্ড গ্রে/নে/ড মেরে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলমকে উদ্দেশ্য করে একটি পোস্ট দেন পিনাকী ভট্টচার্য। তিনি লিখেন ‘ডিসি মাসুদ ছাত্র-জনতার উপর সাউন্ড গ্রে/নে/ড মারলে কিন্তু খাতা থেকে নাম কেটে যাবে!
প্রশ্ন ওঠেছে, পিনাকী ভট্টাচার্য আসলে কার? কেন বারবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙ্গার নির্দেশনা দিচ্ছেন? ছাত্র-জনতাকে উস্কানি দিয়ে কেন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিতিশীল করছেন? অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারকে বারবার বিব্রত অবস্থায় ফেলে তিনি আসলে কার স্বার্থ রক্ষা করছেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেক মনে করেন আওয়ামী লীগ আমলে ভারত হয়ে ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়া অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য প্রতিবেশী একটি দেশের এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন। সাধারণ মানুষকে ফাঁকি দিতে যদিও তিনি কথায় কথায় ওই দেশের বিরোধীতা করে থাকেন। একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে দিয়ে তিনি বিরোধীতাকারি দেশেই এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন!
সৈয়দ সাকিব
![]()
